১২ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ক্যাটওয়ার্ক থেকে জঙ্গী আস্তানায় মেহেদী


ক্যাটওয়ার্ক থেকে জঙ্গী আস্তানায় মেহেদী

স্টাফ রিপোর্টার ॥ তথ্যপ্রযুক্তিতে বেশ দক্ষতা ছিল ২৯ বছর বয়সী এই যুবক মেহেদী হাসানের। মডেলিংয়েরও দারুণ শখ ছিল তার। র‌্যাম্প মডেল হওয়ার লক্ষ্যে বেশ কয়েকটি প্রতিযোগিতার ক্যাটওয়ার্কে অংশও নেন তিনি। গৃহসজ্জার জিনিসপত্র বিক্রিসহ নানা ব্যবসা ছিল তাঁর। কিন্তু সব ছেড়ে জঙ্গী কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েন তিনি। ২০১৫ সালে সারোয়ার-তামিম গ্রুপের সংস্পর্শে পাল্টে যায় তার জীবন। এভাবে ক্যাটওয়ার্কের মডেল থেকে জঙ্গী আস্তানার সক্রিয় সদস্য হয়ে উঠেন মেহেদী হাসান।

জঙ্গী কর্মকাণ্ডে জড়ানোর অভিযোগে তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

আজ বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টায় কারওয়ানবাজারস্থ র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক (সিও) লে. কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ এসব তথ্য জানান।

গতকাল বুধবার রাত সাড়ে ১২টার দিকে রাজধানীর খিলগাঁওয়ের দক্ষিণ বনশ্রী এলাকার একটি বাড়ি থেকে মেহেদী হাসানকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব-৩-এর একটি দল। তাঁর কাছ থেকে দুটি ল্যাপটপ, একটি মোবাইল ফোন, একটি পাসপোর্ট, উগ্রবাদী বইসহ বিভিন্ন আলামত উদ্ধার করা হয়েছে।

তবে মেহেদীর পরিবারের দাবি, গত ৪ মে থেকে মেহেদী নিখোঁজ আছেন। তাঁর সন্ধান পাওয়ার জন্য খিলগাঁও থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। মেহেদীর বাবা খোরশেদ আলম পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) ছিলেন। ১৯৯৯ সালে তিনি অবসরে যান।

র‌্যাব-৩ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুহিন মোহাম্মদ মাসুদ বলেন, “সে জেএমবির সারোয়ার-তামিম গ্রুপের বিগ্রেড আদ-দার-ই কুতনীর কমান্ডার। তাকে আমরা দীর্ঘদিন ধরে খুঁজছিলাম।”

লেফটেন্যান্ট কর্নেল তুহিনের নেতৃত্বেই বুধবার গভীর রাতে খিলগাঁও থানার দক্ষিণ বনশ্রী এলাকার একটি বাড়িতে অভিযান চালিয়ে মেহেদীকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব।

জেএমবিতে যোগদানের পর তার কাজ ছিল কর্মী সংগ্রহ করা ও ‘হিজরতে’ সহযোগিতা করা। সুন্দর চেহারা ও মোটিভেশন ক্ষমতার কারণে দ্রুত ‘ব্রিগেড আদ-দার-ই-কুতনী’ কমান্ডারের পদ পান আবু জিব্রিল।

জিজ্ঞাসাবাদে আবু জিব্রিল র‌্যাবকে জানিয়েছে, রাজশাহী, টাঙ্গাইল ও ঢাকায় বেশ কয়েকজন নতুন কর্মীকে বাইয়্যাত (শপথ) পাঠ করিয়েছেন তিনি। জেএমবির ‘ব্রিগেড আদ-দার-ই কুতনি’তে আনসার (সাহায্যকারী). মুজাহির (যোদ্ধা), সালাফি আলেম বোর্ড এবং অর্থ প্রদানকারী বিভিন্ন ব্যক্তি রয়েছে বলে জানায়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, বদর ব্রিগেড দুর্বল হওয়ার পর মূলতঃ আবু জিব্রিলের নেতৃত্বেই ‘ব্রিগেড আদ-দার-ই কুতনি’ বিভিন্ন অপারেশনাল সক্ষমতা অর্জন ও যেকোনো স্থানে নাশকতা করার মতো পরিকল্পনা নেয় জেএমবি। আবু জিব্রিলকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরও তথ্য পাওয়ার আশা করছে পুলিশ।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: