১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সপ্তাহ পেরোলেও সেই হতভাগ্য তরুণীর পরিচয় মেলেনি


গাফফার খান চৌধুরী ॥ সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও পরিচয় মেলেনি ঢাকার বংশালের একটি বাড়ির গ্যারেজে থাকা প্রাইভেটকার থেকে উদ্ধারকৃত অর্ধগলিত হতভাগ্য যুবতীর। নির্বাচন কমিশন অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও ওই যুবতীর আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়েছেন। কিন্তু জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেজে ওই নারী সম্পর্কে কোন তথ্য নেই। এমনকি যে প্রাইভেটকার থেকে ওই নারীর লাশ উদ্ধার হয়েছে, সেই গাড়ির মালিকেরও সন্ধান মিলছে না। রীতিমত গোলকধাঁধায় রয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা।

গত ১৫ সেপ্টেম্বর সকালে বংশালের আব্দুল হাদী লেনের একটি বাড়ির গ্যারেজে থাকা একটি প্রাইভেটকারের পেছনের সিট থেকে অজ্ঞাত (২৫) এক হতভাগ্য যুবতীর অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার হয়। প্রাইভেটকারটি কাপড়ের কভার দিয়ে ঢাকা ছিল।

বাড়ির বাসিন্দারা জানায়, কয়েক দিন ধরেই এক ধরনের পচা গন্ধ পাওয়া যাচ্ছিল। কিন্তু কোথা থেকে গন্ধ আসছে তা শনাক্ত করা যাচ্ছিল না। গন্ধে বাড়িতে টেকা যাচ্ছিল না। শুক্রবার সকাল থেকেই বাসায় মারাত্মক দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে। সকালে বাড়ির এক বাসিন্দা গ্যারেজে গেলে সেখান থেকেই গন্ধ আসার বিষয়টি এক প্রকার নিশ্চিত হন তিনি। খুঁজতে খুঁজতে ওই গাড়িটির ভেতর থেকেই গন্ধ আসছে বলে তারা নিশ্চিত হন। তারা গাড়ির কভার সরানোর পর পেছনের সিটে একজন নারীর লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। বিষয়টি পুলিশকে জানানো হয়। পরে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিক্যাল কলেজ মর্গে পাঠায়। বংশাল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোহাম্মদ কায়কোবাদ কাজী জনকণ্ঠকে জানান, গাড়িটি বাড়িটির নিচতলায় থাকা গ্যারেজে ছিল। গাড়িটি কাপড় দিয়ে ঢাকা ছিল। সার্বিক দিক পর্যালোচনা করে মনে হয়েছে নিহত নারীর বয়স আনুমানিক পঁচিশ বছর। ওই যুবতীকে হত্যা করার বিষয়টি একপ্রকার নিশ্চিত। হতভাগ্য যুবতীকে অন্তত ১০ থেকে ১৫ দিন আগে হত্যা করা হয়েছে। লাশ পচে গেছে। এজন্য ওই যুবতীর চেহারা স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছিল না। তার পরিচয় নিশ্চিত হতে নির্বাচন কমিশন অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। নির্বাচন কমিশন অফিসের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা ওই নারীর আঙ্গুলের ছাপ নিয়ে যান।

ধারণা করা হচ্ছে, গাড়িটির মালিক ওই বাড়িরই কোন বাসিন্দা। কারণ গাড়িটি ওই বাড়ির নিচ তলার গ্যারেজে সযতেœ ঢেকে রাখা ছিল। তাও যদি না হয়, তাহলে ওই গাড়ির মালিক ওই বাড়িরই কারও না কারও আত্মীয়। সে দূরে কোথাও হত্যা করে লাশটি গাড়িতে করে ওই বাড়িতে নিয়ে আসে। এরপর কোন অজুহাতে গাড়িটি সেই বাড়ির গ্যারেজে ঢেকে রেখে সঁটকে পড়ে। গাড়ির মালিক বাড়িটির কোন না কোন বাসিন্দাদের যে পরিচিত, তাতে কোন সন্দেহ নেই। কারণ কোন অপরিচিত ব্যক্তির গাড়ি সাধারণত অন্য কোন বাড়ির গ্যারেজে রেখে দেয়া অসম্ভব। বাড়ির সবাইকে গাড়িটির মালিক সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে। কেউ গাড়িটির মালিক সম্পর্কে কোন তথ্য দেয়নি। এমনকি বাড়ির কোন বাসিন্দাও গাড়িটি তাদের বলে স্বীকার করেননি। এ জন্য গাড়ির নম্বর বিআরটিএর কাছে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বংশাল থানার ওসি সাইদুর রহমান জনকণ্ঠকে জানান, নির্বাচন কমিশন কর্মকর্তারা ওই নারীর পরিচয় শনাক্ত করতে পারেননি। কারণ ওই নারীর সম্পর্কে জাতীয় পরিচয়পত্রের ডাটাবেজে কোন তথ্য নেই। ওই নারী ভোটার ছিলেন না বলে দায়িত্বশীল ইসি কর্মকর্তাদের দাবি। কৌশলে হত্যাকারী জাতীয়পরিচয়পত্রের ডাটাবেজ থেকে ওই নারীর পরিচয় মুছে ফেলেছে কিনা তা গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এছাড়া যে গাড়ি থেকে ওই যুবতীর লাশ উদ্ধার হয়েছে, সেই গাড়িটির মালিক কে তা জানার চেষ্টা চলছে। বিআরটিএ কর্তৃপক্ষকে ওই গাড়িটির মালিক কে- সে সম্পর্কে বুধবার বিকেল পর্যন্ত কোন রিপোর্ট দেয়নি। গাড়ির মালিকের সন্ধান পেলে যুবতীর পরিচয় শনাক্ত করা এবং হত্যাকারীকে খুঁজে পাওয়া সহজ হবে। হত্যাকারী কৌশলে বিআরটিএ ডাটাবেজ থেকে গাড়ির মালিকের নাম ঠিকানা যাতে মুছে ফেলতে না পারে এজন্য তারা সতর্ক রয়েছেন। পাশাপাশি কোন ব্যক্তি এ ধরনের চেষ্টা করলে তাকে যাতে আইনের হাতে সোপর্দ করা হয়, এজন্য বিআরটিএ কর্র্তৃপক্ষকে অনুরোধ করা হয়েছে। স্থানীয়ভাবে গাড়ির মালিকের সন্ধান পাওয়া গেলেও ওই মালিককে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। তিনি গাড়িটি তার নয় বলে দাবি করেছেন।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: