১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ডিসেম্বরের মধ্যে ফোরজি সেবা চালু করা হবে ॥ তারানা হালিম


স্টাফ রিপোর্টার ॥ টেলিযোগাযোগ খাত আরও একধাপ এগিয়ে যাচ্ছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বহুল প্রতীক্ষিত চতুর্থ প্রজন্মের (ফোর-জি) সেবা চালু করা হচ্ছে। এই সেবা চালু হলে টেলিযোগাযোগ ক্ষেত্রে যুগান্তকারী উন্নয়ন ঘটবে। ফোর-জি সেবায় পুরাতন অপারেটরের সঙ্গে নতুন অপারেটরদের অংশ নেয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে। বুধবার টেলিযোগাযোগ বিভাগে আয়োজিত ফোর-জি লাইসেন্স বিষয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ডাক ও টেলিযোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী তারানা হালিম এ কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নবেম্বরের শেষ দিকে ফোর-জি তরঙ্গের নিলাম শেষ করব। আর ডিসেম্বরের মধ্যে ফোর-জি সুবিধা জনগণের কাছে পৌঁছে দেব। এ জন্য তরঙ্গ বরাদ্দের খসড়া নীতিমালা থেকে চূড়ান্ত নীতিমালায় কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। ফোর-জি তরঙ্গ নিলাম এবং ফোর-জি সেবা দিতে অপারেটরদের বিদ্যমান প্রযুক্তি নিরপেক্ষতায় রূপান্তর বাবদ সরকার ১১ হাজার কোটি টাকা আয় করতে পারবে। সরকার ফোর-জি অনেক আগেই চালু করার জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল। কিন্তু নানা জটিলতায় এত দিন এই সেবা চালু করা সম্ভব হয়নি। সরকার এবার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে ফোর-জি সেবা চালু করার। তরঙ্গ নিলাম এবং ফোর-জি লাইসেন্সিং গাইডলাইন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা অনুমোদন দিয়েছেন। গাইডলাইন অনুযায়ী ২১০০ মেগাহার্টজ, ১৮০০ মেগাহার্টজ ও ৯০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নিলাম হবে। এই নিলামে যে অপারেটররা আছেন তারা অংশ নিতে পারবেন। আবেদন করার যোগ্যতার ক্ষেত্রে কোন অপারেটরের বিদেশী অংশীদারকে বাংলাদেশ থেকে কোন ঋণ না নিয়ে বিনিয়োগের যে বিধানটি ছিল, সেটি বাদ দেয়া হয়েছে। তারা বাংলাদেশের যে কোন ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে পারবেন। প্রাক মূল্যায়নে উত্তীর্ণ নতুন প্রতিষ্ঠান ২১০০ মেগাহার্টজ তরঙ্গ নিলামে অংশ নিতে পারবে। এই ব্যান্ডে বিজয়ী হলে পরবর্তী সময়ে তারা ১৮০০ ও ৯০০ মেগাহার্টজের তরঙ্গ নিলামে অংশ নিতে পারবেন। তরঙ্গ নিলামে বরাদ্দ করা তরঙ্গ ‘প্রযুক্তি নিরপেক্ষ’ হতে হবে। টু-জি, থ্রি-জি এবং ফোর-জি এলটি সেবা দেয়ার জন্য ব্যবহার করা যাবে।

মোবাইল অপারেটররা তাদের আগে বরাদ্দ দেয়া তরঙ্গ ‘প্রযুক্তি নিরপেক্ষতায়’ রূপান্তর করতে পারবেন। এজন্য প্রতি মেগাহার্টজে সাড়ে সাত মিলিয়ন ডলার ফি নির্ধারণ করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, ফোর-জি লাইসেন্সের জন্য অপারেটরদের আবেদন ফি হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে। ১০ কোটি টাকায় লাইসেন্স এবং বার্ষিক লাইসেন্স নবায়ন ফি ৫ কোটি টাকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। ফোর-জি সেবা সর্বস্তরে পৌঁছাতে কাজ শুরুর বাধ্যবাধকতা থ্রিজি লাইসেন্সের মতোই করা হয়েছে। কল রেকর্ডের ক্ষেত্রেও তথ্য সংরক্ষণের ব্যবস্থা করেছি। অন্যান্য ক্ষেত্রে সে রকম কোন পরিবর্তন আনা হয়নি। আগে যা ছিল তাই রাখা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে ফোর-জি সেবার মাধ্যমে সেবার মান উন্নত হবে আশা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ২০১৩ সালে স্পেকট্রাম (তরঙ্গ) অকশনের সময় অপারেটররা স্পেকট্রাম নেননি। তাই আমি মনে করি এই স্পেকট্রাম অকশনের মধ্য দিয়ে শুধু ফোর-জি সেবা জনগণের কাছে পৌঁছাবে সেটিই নয়, সেবার মানও উন্নত হবে। তরঙ্গ বরাদ্দের চূড়ান্ত নীতিমালায়, ১৮০০ মেগাহার্টজের তরঙ্গ নিলামে প্রতি মেগাহার্টজের ভিত্তিমূল্য ৩০ মিলিয়ন ডলার, থ্রি জির ২১০০ মেগাহার্টজের প্রতি মেগাহার্টজ ২৭ মিলিয়ন ডলার এবং ৯০০ মেগাহার্টজের প্রতি মেগাহার্টজ ৩০ মিলিয়ন ডলার ভিত্তিমূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে। তার আগে ফোর-জি তরঙ্গ নিলাম নিয়ে অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করা হবে। তবে যে মূল্য ধরা হয়েছে তা পরিবর্তন করার আর ইচ্ছা নেই। যেমন আছে তেমনই থাকবে।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: