২৩ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সেই ভিখারিনী মায়ের পাশে সরকারী কর্মকর্তারা


সেই ভিখারিনী মায়ের পাশে সরকারী কর্মকর্তারা

স্টাফ রিপোর্টার, বরিশাল ॥ জেলার বাবুগঞ্জ উপজেলার ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামের বাসিন্দা চার সরকারী চাকুরীজীবির বৃদ্ধা মা ভিক্ষুক মনোয়ারা বেগমের (৭০) চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে জেলার উচ্চপর্যায়ের সরকারী কর্মকর্তারা শেবাচিম হাসপাতালে ছুটে গেছেন।

মঙ্গলবার রাত সাড়ে নয়টার দিকে শেবাচিমে চিকিৎসাধীন অশীতিপর বৃদ্ধা মনোয়ারা বেগমকে দেখতে ছুটে আসেন জেলা প্রশাসক মো. হাবিবুর রহমান। এ সময় তার সাথে বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। জেলা প্রশাসক বৃদ্ধা মনোয়ারা বেগমের চিকিৎসাসহ সার্বিক বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে তার (মনোয়ারা) হাতে নগদ ১২ হাজার টাকা তুলে দিয়েছেন। এছাড়াও মনোয়ারা বেগমের ভরণপোষণ ও সেবা যত্নের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন। এছাড়াও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মনোয়ারা বেগমের প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র সমাজসেবা কার্যালয়ের পক্ষ থেকে সরবরাহ করা হচ্ছে।

অপরদিকে মঙ্গলবার বিকেলে শেবাচিম হাসপাতালে মনোয়ারা বেগমের চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে ছুটে আসেন জেলা পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম। তিনিও চিকিৎসাধীন মনোয়ারা বেগমের সব দায়িত্ব নেয়ার কথা জানিয়ে নগদ অর্থ দিয়েছেন। একইসাথে বৃদ্ধ মাকে অবহেলার কারণে পুলিশ বাহিনীতে কর্মরত তার তিন ছেলের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দরা মনোয়ারার চিকিৎসার খোঁজখবর নিতে শেবাচিমে এসেছিলেন।

বাবুগঞ্জ উপজেলা শিক্ষা অফিসার কেএম তোফাজ্জল হোসেন জানান, বৃদ্ধা মাকে অবহেলার কারণে ইতোমধ্যে তার একমাত্র কন্যা বাবুগঞ্জের পূর্ব ভুতেরদিয়া নবারুন সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মরিয়ম সুলতানাকে শোকজ করা হয়েছে। শোকজের সঠিক জবাব না পেলে সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে আলোচনা করে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য, বাবুগঞ্জ উপজেলার ক্ষুদ্রকাঠি গ্রামের মৃত আইউব আলী সরদারের সত্তরোর্ধ্ব স্ত্রী মনোয়ারা বেগমের ছয় সন্তানের মধ্যে পুত্র ফারুক হোসেন ও নেছার উদ্দিন পুলিশের সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই), একপুত্র জসিম উদ্দিন পুলিশ সদস্য। অন্য দুই পুত্র শাহাবউদ্দিন ব্যবসা এবং গিয়াস উদ্দিন ইজিবাইক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। মনোয়ারা বেগমের একমাত্র মেয়ে মরিয়ম সুলতানা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। জীবনের শেষপ্রান্তে এসে ছেলে-মেয়েদের অবহেলার কারণে দুইমুঠো অন্ন যোগাতে ভিক্ষা করতে হয় বৃদ্ধা মনোয়ারা বেগমকে। গত ১৬ ফেব্রুয়ারী ভিক্ষা করতে গিয়ে পা ফসকে পরে গিয়ে মারাত্মক আহত হন মনোয়ারা। সেই থেকে মনোয়ারা বাবুগঞ্জ সদরের স্টিল ব্রিজের পশ্চিম প্রান্তের একটি ঝুপড়ি ঘরে বিনাচিকিৎসায় অর্ধাহারে দিনাতিপাত করছিলেন। এনিয়ে, সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার পর সকলেন দৃষ্টিগোচর হয়।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: