২৪ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

চন্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে ঘটেছে দেবীদুর্গার আবাহন


বিশেষ প্রতিনিধি ॥ ভোরে চন্ডীপাঠের মধ্য দিয়ে আবাহন ঘটেছে দেবী দুর্গার। দেবীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে মর্ত্যলোকে। শুভ মহালয়া উদযাপনের মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা। পাঁচদিনের এই উৎসবের প্রাক্কালে মঙ্গলবার মহালয়ায় হিন্দু সম্প্রদায় চন্ডীপাঠের মাধ্যমে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে নেমে আসার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। এক সপ্তাহ পর আগামী মঙ্গলবার ষষ্ঠীপূজার মাধ্যমে শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হলেও মূলত মহালয়ার পর থেকেই পূজার্থীরা দুর্গাপূজার আগমনধ্বনী সর্বত্র শুনতে শুরু করেছেন।

শাস্ত্রীয় বিধান মতে, মহালয়ার অর্থ হচ্ছে, মহান আলোয় দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে আবাহন। দু’টি পক্ষ রয়েছে, একটি হলো পিতৃপক্ষ, অন্যটি দেবীপক্ষ। অমাবস্যা তিথিতে পিতৃপক্ষের শেষ হয়, আর প্রতিপদ তিথিতে শুরু হয় দেবীপক্ষের। মহালয়ার মাধ্যমে শুরু হয়েছে সেই দেবীপক্ষ।

মহালয়া উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশের মন্দির ও পূজাম-পগুলোতে ধর্মীয় নানা আচার-অনুষ্ঠান পালিত হয়েছে। চ-ীপাঠ ছাড়াও মঙ্গলঘট স্থাপন, চ-ীপূজা, ভক্তিমূলক সঙ্গীত ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ছিল দিনের আনুষ্ঠানিকতার অংশ। অনেক ভক্তই গঙ্গাতীরে তাদের মৃত আত্মীয়-পরিজন ও পূর্বপুরুষদের আত্মার সদগতি প্রার্থনা করে তর্পণ করেন। আগামী ২৬ সেপ্টেম্বর ষষ্ঠীতে দেবী দুর্গার বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে মূল পূজা। ৩০ সেপ্টেম্বর শনিবার প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব।

মঙ্গলবার ভোরে রাজধানীর ঢাকেশ^রী জাতীয় মন্দির মেলাঙ্গনে কেন্দ্রীয় পূজামন্ডপে চ-ীপাঠ করে দেবী দুর্গাকে আহ্বান জানানো হয়। ত্রিভঙ্গচরণ ব্রহ্মচারী চ-ীপাঠ করেন। এ সময় দেশের বিশিষ্ট শিল্পীরা আবাহন ও ভক্তিমূলক সঙ্গীত পরিবেশন করেন। সকালে মহালয়ার মূল আচার-অনুষ্ঠান হিসেবে ঘট স্থাপন করে ফুল, তুলসী ও বেলপাতা দিয়ে পূজা করা হয়। পরে মন্দিরের নিজস্ব জলাশয়ে গত বছরের দেবীর প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়।

রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠ মন্দিরেও ছিল অনুরূপ আনুষ্ঠানিকতা। সেখানে চন্ডাপাঠ ও চন্ডীপূজা ছাড়াও আবাহন সঙ্গীত পরিবেশিত হয়েছে। রমনা কালীমন্দির ও মা আনন্দময়ী আশ্রম, সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরসহ সব মন্দির ও পূজাম-পেও মহালয়া উদযাপিত হয়েছে।

গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ বনানী পূজামন্ডপে ভোর ৫টা থেকে চ-ীপাঠ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল মঙ্গলপ্রদীপ প্রজ্ব¡লিত করে মহালয়া অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন। তিনি মহালয়ার মাহাত্ম্য তুলে ধরার পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক অশুভ শক্তি ও স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তিকে বিনাশ করতে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের সব অসাম্প্রদায়িক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। এ সময় গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা উদযাপন পরিষদ সভাপতি সুভাষ চন্দ্র ঘোষ ও সাধারণ সম্পাদক শুধাংশু কুমার দাস শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন।

খামারবাড়ি কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে সনাতন সমাজকল্যাণ সংঘের পূজামন্ডপে মহালয়া অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন শিল্পমন্ত্রী আমির হোসেন আমু। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনার আদর্শের দেশ। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা উদযাপনের মধ্য দিয়ে আমরা জাতির পিতার আদর্শের সেই বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় সচেষ্ট থাকব। সংগঠনের সভাপতি কৃষিবিদ সমীর চন্দের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক স্বপন কুমার মজুমদার। অনুষ্ঠানে চ-ীপাঠ ছাড়াও গীতিনৃত্য আলেখ্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হয়।

এছাড়া মহালয়া উপলক্ষে স্বামীবাগের লোকনাথ মন্দিরে চ-ীপাঠসহ মনোজ্ঞ ধর্মীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান গীতিনৃত্য আলেখ্য পরিবেশিত হয়। অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করতে গিয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নুর বলেন, ধর্ম যার যার উৎসব সবার। এখানের অনুষ্ঠানে হিন্দু সম্প্রদায়ের পাশাপাশি অনেক মুসলমান শিল্পীও অংশ নিয়েছেন। এটাই হচ্ছে অসাম্প্রদায়িক চেতনার বাংলাদেশ। অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন পংকজ দেবনাথ এমপি।

দিনটি উপলক্ষে বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারী টেলিভিশন স্যাটেলাইটগুলো বিশেষ অনুষ্ঠান প্রচার এবং সংবাদপত্রগুলোতে বিশেষ নিবন্ধ প্রকাশ করা হয়। অনেক বেসরকারী টেলিভিশন মহালয়ার অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করে।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: