২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

মানিয়ে নিচ্ছি?


তনু, সিমি, মহিমা, ইয়াসমিন... নামগুলো খুব পরিচিত মনে হচ্ছে। তাই না? একদম ঠিক। গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের কল্যাণে আমাদের সবাই নামগুলোর সঙ্গে পরিচিত। এদের পরিণতিও সবাই জানে। হ্যাঁ, এদের প্রত্যেকেই ধর্ষণের শিকার। যতদিন গণমাধ্যমে নামগুলো দেখা যায় ততদিন তাদের জন্য আমাদের দুঃখ হয়। অনুতাপে নাগরিক জনগোষ্ঠী ভাগ হয় দুই ভাগে। একদল পুরুষের পক্ষে যুক্তি দাড় করায় অন্যদল নারীর পক্ষে। যুক্তির বিচার করতে করতে নতুন কোন নাম চলে আসে কাগজে। পুরনো পত্রিকা ভাঁজ করে সাজঘরে রেখে দিয়ে নতুন পত্রিকায় নতুন নাম খুঁজে। আর অবহেলিত, নিপীড়িত পুরনো নাম ভেসে যায় নতুন কোন নামের স্রোতে।

সম্প্রতি এমনই একটি নাম সবার মুখে মুখে ছিল। রূপা। যে রাতের অন্ধকারে চলন্ত বাসে, বাসের চালক ও তার সহকারীদের হাতে গণধর্ষিত হয়েছে। এবং অপকর্ম শেষে দুর্বৃত্তরা ফেলে রেখে গেছে ছিন্নভিন্ন একটা শবদেহ তার। আমরা এর প্রতিবাদে কি করেছি? ফেসবুক প্রোফাইলে ছবি দিয়েছি, দুদিন টং দোকানে বসে তুমুল ঝগড়া করেছি ধর্ষিতার পক্ষে, অবশেষে এমন ঘটনা স্বাভাবিক মেনে নিয়ে যার যার ঘরে এসে নিজের মা, বোন, মেয়েকে সাবধানে চলার উপদেশ দিয়েছি।

একটা সময় ছিল যখন রূপকথার গল্প শুনে গা ছমছম করত। রাতের আঁধারে বের হতে গেলে শিউরে উঠতো পুরো শরীর। সেই ছোটবেলা কবেই পার করে এসেছে আমার বোনটি। কিন্তু এখনো সন্ধ্যা নামলে বাসার পাশের দোকানে কিছু আনতে যেতেও কেঁপে ওঠে তার মন। তাহলে কী বাস্তবে রূপকথার রাক্ষস ঘোরাঘুরি করছে আমাদেরই আশপাশে? গ্রামে থেকে শুরু করে শহরে, বন্দরে কোথাও কী নারীর নিরাপদ আশ্রয় নেই। এমনকি ঘরেও নিরাপদ নয় নারীরা। হরহামেশাই তো শোনা যায় পরিবারের পুরুষ সদস্য দ্বারা নারী শ্লীলতাহানির ঘটনা। এমনকি বাবা, ভাই, চাচাদের নামেও অভিযোগ ওঠে। মেয়ে শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধা কে রেহাই পাচ্ছে পুরুষ নামের এমন সব কুলাঙ্গারের হাত থেকে?

গত কয়েক বছরে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েই চলছে। নারীর এমন অবস্থার জন্য দায়ভার কার? এমন প্রশ্ন আসলে কেউ কেউ বলবে পুরুষের দোষ, কেউ কেউ বলবে নারীর। আমি বলব দোষটা পুরো জাতির। কিভাবে? দেখুন, আমরা দৃষ্টান্তে বিশ্বাস করি। যতই আপনাকে কেউ কিছু শেখাতে চেষ্টা করুক যদি দৃষ্টান্ত দিয়ে না শেখায় তাহলে বেশিদিন এই শিক্ষা থাকে না। এই যেমন ধর্ষকদের কথাই চিন্তা করে দেখেন। এরা ধর্ষণ করে আইনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে দিব্যি ঘুরে বেড়াচ্ছে। দুুই দিন পরে অন্য কোন মেয়েকে নিশানা বানাচ্ছে। সুযোগ বুঝে আবার আগের মতো জোর খাটিয়ে অন্য কারও সম্ভ্রমহানি করছে। সেখানেই থেমে নেই ওরা। মেয়ের মুখ বন্ধ করে নিজে ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার জন্য খুন পর্যন্ত করতে দ্বিধাবোধ করে না এসব কলঙ্কিত পুরুষ। অথচ পুরো জাতি সম্মিলিতভাবে চাইলেই এসব বন্ধ করা সম্ভব।

বিচারের দাবিতে, নিরাপত্তার দাবিতে আমরা যদি জোরালভাবে এগিয়ে আসতে পারতাম তাহলে হয়তো এদেশে ধর্ষকরা মুক্ত ঘুরতে পারত না।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে