মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৪ আশ্বিন ১৪২৪, মঙ্গলবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে আলোচনায় বসছে সংসদ

প্রকাশিত : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৩:৩৯ পি. এম.
ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে আলোচনায় বসছে সংসদ

অনলাইন রিপোর্টার ॥ চট্টগ্রাম-৮ আসনে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের এমপি মইন উদ্দীন খান বাদল সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ ধারায় এ বিষয়ে আলোচনার প্রস্তাব দিয়েছেন। সংসদের বুধবারের কার্যসূচিতে বিষয়টি আলোচনার জন্য রাখা হয়েছে।

বাদলের প্রস্তাবে বলা হয়েছে, “সংসদের অভিমত এই যে, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী ‘অসাংবিধানিক’ ঘোষণা করে আপিল বিভাগের দেওয়া রায় বাতিল এবং রায়ে জাতীয় সংসদ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মাননীয় প্রধান বিচারপতির দেওয়া অসাংবিধানিক, আপত্তিকর ও অপ্রাসঙ্গিক পর্যবেক্ষণ বাতিল করার জন্য যথাযথ আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক।”

বিকাল ৫টায় অধিবেশন বসার পর শুরুতে হবে প্রশ্নোত্তর পর্ব। তারপর জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিসের নিষ্পত্তি ও আইন প্রণয়নের কাজ শেষে বাদলের প্রস্তাবটির ওপর হবে সাধারণ আলোচনা।

সংসদের ষোড়শ অধিবেশন শেষ হওয়ার পর গত ১ অগাস্ট ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়, যা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল আলোচনা চলছে।

আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ২০১৪ সালে ষোড়শ সংশোধনীর মাধ্যমে উচ্চ আদালতের বিচারক অপসারণের ক্ষমতা সংসদের হাতে ফিরিয়ে এনেছিল। কিন্তু সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে ষোড়শ সংশোধনীকে সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক ঘোষণা করা হয় এবং সামরিক শাসনামলে চালু করা সুপ্রিম জুডিশিয়াল কাউন্সিলের ব্যবস্থা পুনঃস্থাপিত করার কথা বলা হয়।

সাত বিচারপতির ঐকমত্যের ভিত্তিতে দেওয়া ৭৯৯ পৃষ্ঠার এই রায়ে প্রধান বিচারপতি এস কে সিনহা নিজের পর্যবেক্ষণের অংশে দেশের রাজনীতি, সামরিক শাসন, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি, সুশাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতাসহ বিভিন্ন বিষয়ে সমালোচনা করেন।

ওই রায় এবং পর্যবেক্ষণ নিয়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের নেতা, এমনকি খোদ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও প্রধান বিচারপতির সমালোচনা করেছেন। রায়ের পর্যবেক্ষণে বঙ্গবন্ধুকে ‘খাটো করা হয়েছে’ অভিযোগ তুলে প্রধান বিচারপতির পদত্যাগের দাবিও তুলেছেন ক্ষমতাসীন দলের অনেক নেতা। অন্যদিকে সংসদের বাইরে থাকা বিএনপির নেতারা স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, এ রায় ‘ঐতিহাসিক’।

আইন কমিশনের চেয়ারম্যান ও সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকও আপিল বিভাগের এই রায়কে ‘ভ্রমাত্মক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এই রায়ের মধ্যে দিয়ে বাংলাদেশ যে জটিলতার মধ্যে পড়েছে, সেখান থেকে বেরিয়ে আসতে ওই রায় নতুন করে লিখতে আপিল বিভাগকে পরামর্শ দিয়েছেন আইন কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান বিচারপতি আবদুর রশীদ।

রোববার দশম সংসদের সপ্তদশ অধিবেশন শুরুর পর সাংসদ তাহজীব উল আলম সিদ্দিকী বহুল আলোচিত এই রায় নিয়ে অনির্ধারিত আলোচনা শুরু করতে চাইলে তাকে থামিয়ে দিয়ে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া নোটিস দিতে বলেন। এরপর বাণিজ্য মন্ত্রী তোফায়েল আহমদ সংসদের কার্যপ্রণালী বিধির ১৪৭ ধারায় এ বিষয়ে আলোচনার কথা বলেন।

তোফায়েল সেদিন বলেলেন, “সুপ্রিম কোর্ট যে একটা রায় দিয়েছে এবং তার অবজারভেশন দিয়েছে তা দেশ ও জাতিকে বিস্মিত করেছে, অবাক করেছে।… যথাযথভাবে আমরা আমাদের বক্তব্য তুলে ধরতে চাই।”

সোমবার সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে জাতীয় পার্টির ফখরুল ইমামের এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক রিভিউয়ের মাধ্যমে সঙ্কট নিরসনের আশার কথা শোনান। তিনি বলেন, “আইনি পদক্ষেপে ষোড়শ সংশোধনী মামলায় আমরা কামিয়াব হব; আমার বিশ্বাস।”

রিভিউ বা রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন হল আইনি প্রক্রিয়ার শেষ ধাপ। তবে রিভিউয়ে রায় পরিবর্তনের নজির বিরল।

সংসদের সংক্ষিপ্ত এই অধিবেশন পাঁচ দিন চালানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার সপ্তদশ অধিবেশন শেষ হবে।

প্রকাশিত : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ০৩:৩৯ পি. এম.

১৩/০৯/২০১৭ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন

জাতীয়



শীর্ষ সংবাদ: