২৩ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ভূমিকম্প ও ঘূর্ণিঝড়


ভূমিকম্প ও ঘূর্ণিঝড়ের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ সম্প্রতি আঘাত হেনেছে দুটি দেশে। এই দুর্যোগের কাছে মানুষের অসহায়ত্বই ফুটে উঠছে। তবু মানুষ সৃষ্টির সেরা জীব বলেই প্রাণপণে এসব দুর্যোগের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়। কিন্তু মানুষের জীবনাবসানের ক্ষতি পুষিয়ে নেয়া কি সম্ভব?

সম্প্রতি মেক্সিকোর দক্ষিণ উপকূলে শক্তিশালী ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা বেড়েছে। সরকারী তথ্য অনুযায়ী, এই সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯০। ভূমিকম্পে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে মেক্সিকোর তাবাসকো, ওয়াক্সাকা ও চিয়াপাস অঙ্গরাজ্য। এই স্থানগুলোয় ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চলছে। তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ চাপা পড়ে আছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। মেক্সিকোর ওই ভূমিকম্পের মাত্রা ছিল রিখটার স্কেলে ৮ দশমিক ২। মেক্সিকোর দক্ষিণ উপকূলে শক্তিশালী এ ভূমিকম্পের পর মেক্সিকোসহ কয়েকটি দেশে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়। পরে অবশ্য তা উঠিয়ে নেয়া হয়।

অপরদিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় আঘাত হেনেছে প্রবল শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ইরমা। ঘূর্ণিঝড়ের ধ্বংসযজ্ঞ এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের এ অঙ্গরাজ্যটির প্রায় ৬৩ লাখ লোককে সরিয়ে নেয়া হয়। গত এক শতাব্দীর মধ্যে আটলান্টিক মহাসাগরে সৃষ্ট সবচেয়ে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় ইরমা এরই মধ্যে ক্যারিবীয় অঞ্চলে তাণ্ডবলীলা চালিয়ে অন্তত ২৪ জনের প্রাণ নিয়েছে। শুরুতে শক্তিশালী ঝড় হিসেবে ক্যারিবীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দ্বীপ পেরিয়ে এসে শুক্রবার কিউবায় আঘাত হানে ইরমা। সর্বশেষ সতর্কবার্তায় বলা হয়Ñ ‘প্রাণঘাতী একটি ঝড়’ ফ্লোরিডার দক্ষিণের ছোট ছোট দ্বীপ এবং পশ্চিম উপকূলে আছড়ে পড়েছে।

স্মরণকালের সবচেয়ে বড় ঘূর্ণিঝড় বিষয়ে প্রথমে ধারণা ছিল পূর্ব উপকূল দিয়ে আঘাত হানবে; হেনেছে পশ্চিম উপকূলে। ট্যাম্পা, ফোর্ট মায়ার্স, নেপলস, ম্যারাথনÑএসব শহরের ওপরে এসেছে বেশি ধাক্কা। কিন্তু এটা এতো বড় ঘূর্ণিঝড় যে, পশ্চিম উপকূলের মায়ামি, ওয়েস্ট পাম বীচÑএগুলোও রেহাই পাচ্ছে না। এবারের ঘূর্ণিঝড়ে একটি বিষয় বিশ্ববাসীকে বিস্মিত করেছে। বাহামার উপকূলে এই ঝড় যা ঘটিয়েছে, তা সাম্প্রতিককালের ইতিহাসে ঘটেনি বললেই চলে। রীতিমতো সৈকত যেন খালি করে সব পানি নিয়ে চলে গেছে ইরমা। বাহামার লং আইল্যান্ড দ্বীপের সৈকতের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ব্যাপকহারে ছড়িয়ে পড়েছে। এতে দেখা যায়, ঘূর্ণিঝড় ইরমা শনিবার কিউবার দিকে যাওয়ার পর লং আইল্যান্ডের সৈকত পানিশূন্য হয়ে পড়েছে। ওয়াশিংটন পোস্টের খবরে জানা গেছে, বিরল ঘটনাটির কারণ হতে পারে শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় আর তার কারণে সৃষ্ট নিম্নচাপ। ঝড়ের কেন্দ্র এ পানি শুষে নিয়ে থাকতে পারে। অনেকেই আশঙ্কা করছেন, সুনামি হয়ে হয়তো খোয়া যাওয়া এ পানি ফিরে আসতে পারে।

গাছকাটা, মাত্রাতিরিক্ত ওজোন গ্যাস, পরিবেশের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে গ্লোবাল ওয়ার্মিংকে অস্বীকার করার মতো অর্বাচীন অথচ রাষ্ট্রযন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ রয়েছেন অনেক- তাদের সুমতি কামনা করি। প্রাকৃতিক বিপর্যয় থেকে তারা শিক্ষা নিলে মানবজাতি উপকৃত হবে। সেইসঙ্গে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায়ও সক্ষমতা জরুরী।