১৭ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

পলাতক ১৮ আসামিকে ফেরত আনার চেষ্টা


গাফফার খান চৌধুরী ॥ রায়ের আগেই ভয়াল একুশে আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলার পলাতক ১৮ আসামিকে দেশে ফেরত আনার চেষ্টা চলছে। এর মধ্যে ভারতের তিহার জেলে বন্দী সহোদর মুরসালিন ও মুত্তাকিনকে রায়ের আগেই দেশে ফেরত আনার বিষয়টি অনেকটাই নিশ্চিত। এছাড়া পলাতক বাকি ১৬ জনকে দেশে ফেরত আনা অনেকটাই জটিল হয়ে পড়েছে। আসামিদের দেশে ফেরত আনতে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে পুলিশের ইন্টারপোল শাখা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দফতর সূত্রে এমন তথ্য মিলেছে।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে ভয়াবহ গ্রেনেড হামলায় ২৪ জন নিহত এবং পাঁচ শতাধিক আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী আহত হন। এ ঘটনায় দায়েরকৃত দুটি মামলার বিচারকাজ এ বছরের মধ্যেই শেষ হচ্ছে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন মামলার প্রধান কৌঁসুলি ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী সৈয়দ রেজাউর রহমান। মামলাটির তদন্তকারী সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, মামলা দুটিতে আসামি ৫২ জন। এর মধ্যে ২৫ জন বর্তমানে কারাগারে। তারা হচ্ছেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিডিএফআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক রেজ্জাকুল হায়দার চৌধুরী, জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআইয়ের সাবেক মহাপরিচালক আব্দুর রহিম, মাওলানা ফরিদ, মুফতি আবদুল হান্নান ওরফে সাব্বির, হুজির সাবেক আমির মাওলানা আবদুস সালাম, পাকিস্তানের কাশ্মীরের জঙ্গী আবদুল মজিদ বাট, জঙ্গী আবদুল মালেক ওরফে গোলাম মোস্তফা, মুফতি আবদুল হান্নান মুন্সী ওরফে আবুল কালাম ওরফে আবদুল মান্নান, মহিবুল¬াহ মফিজুর রহমান ওরফে অভি, শরিফ শাহেদুল আলম বিপুল, মাওলানা আবু সাঈদ ওরফে ডাঃ জাফর, আবুল কালাম আজাদ ওরফে বুলবুল, মোঃ জাহাঙ্গীর আলম, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, শাহাদাত উল্লাহ ওরফে জুয়েল, হোসাইন আহম্মেদ তামিম, বিএনপির সাবেক মন্ত্রী এ্যাডভোকেট আবদুস সালাম পিন্টু, মঈন উদ্দিন শেখ ওরফে মুফতি মঈন ওরফে খাজা ওরফে আবু জান্দাল ওরফে মাসুম বিল্লাহ, রফিকুল ইসলাম ওরফে সবুজ ওরফে খালিদ সাইফুল্লাহ ওরফে শামিম ওরফে রাশেদ, উজ্জ্বল ওরফে রতন, আরিফ হাসান ওরফে সুমন ওরফে আবদুর রাজ্জাক ও বরিশালের মাওলানা আবু বকর। এছাড়া মামলার অন্যতম আসামি জামায়াতে ইসলামের সেক্রেটারি জেনারেল আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদের ইতোমধ্যেই যুদ্ধাপরাধ মামলায় ফাঁসিতে মৃত্যু হয়েছে।

আসামিদের মধ্যে মূল পরিকল্পনাকারী বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান লন্ডনপ্রবাসী তারেক রহমানসহ ১৮ জন এখনও পলাতক। এরা হচ্ছেন বিএনপি-জামায়াত জোটের সাবেক উপমন্ত্রী আবদুস সালাম পিন্টুর ভাই হরকাতুল জিহাদের নেতা মাওলানা তাজ উদ্দিন (বর্তমানে পাকিস্তান থেকে পালিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় রয়েছে), বিএনপি নেতা হারিছ চৌধুরী, বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন কায়কোবাদ, হানিফ এন্টারপ্রাইজের মালিক মোঃ হানিফ, হাফেজ ইয়াহিয়া, মুফতি শফিকুর রহমান, মুফতি আবদুল হাই, রাতুল বাবু, ডিএমপির সাবেক ডিসি (পূর্ব) ওবায়দুর রহমান, ডিএমপির সাবেক ডিসি (দক্ষিণ) খান সাঈদ হাসান, লে. কর্নেল (অব) সাইফুল ইসলাম জোয়ার্দার, মেজর জেনারেল (অব) এ টি এম আমিন, ঝিনাইদহের ইকবাল, মাগুরার খলিলুর রহমান, ঢাকার দোহারের জাহাঙ্গীর আলম ওরফে বদর ও গোপালগঞ্জের মাওলানা লিটন ওরফে জোবায়ের ওরফে দেলোয়ার।

এর মধ্যে ভারতের তিহার জেলে বন্দী রয়েছে দুই ভাই হুজি আনিসুল মোরসালিন ও মহিবুল মোত্তাকিন। পলাতক আসামির মধ্যে এ দুজন সরাসরি গ্রেনেড হামলায় অংশ নিয়েছিল। তারা গ্রেনেড ছুড়ে মেরেছিল। পলাতকদের গ্রেফতার করতে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে তাদের মোস্টওয়ান্টেড আসামি হিসেবে চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে রেড নোটিস জারি করা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল জনকণ্ঠকে বলেন, দ্রুততার সঙ্গে পলাতক সব আসামিকেই দেশে ফেরত আনার চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে রায়ের আগেই আসামিদের দেশে ফেরত আনতে আমরা নানামুখী তৎপরতা অব্যাহত রেখেছি। পলাতক আসামির মধ্যে ভারতের তিহার জেলে বন্দী থাকা সহোদর মুরসালিন ও মুত্তাকিনকে রায়ের আগেই ফেরত পেতে ভারত সরকারের সঙ্গে জোরালো আলাপ আলোচনা চলছে। আশা করছি, তাদের রায়ের আগেই ফেরত পাওয়া যাবে। তাদের ফেরত পাওয়া সময়ের ব্যাপারমাত্র। ভারত সরকার তাদের ফেরত দিতে প্রস্তুত রয়েছে। তবে অন্য আসামিদের ফেরত আনার ক্ষেত্রে নানা ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে। তারপরও তারা চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন।

পুলিশ সদর দফতরের ইন্টারপোল (এনসিবি) শাখার সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক মোঃ মাহবুবুর রহমান ভূইয়া জনকণ্ঠকে বলেন, পলাতকদের অবস্থান শনাক্ত করার কাজ চলছে। পাশাপাশি তাদের দেশে ফেরার আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে।

পুলিশ সদর দফতরের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জনকণ্ঠকে জানান, পলাতকদের মধ্যে অন্তত ১০ জনের অবস্থান সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া গেছে। বিষয়টি সরকারের উচ্চপর্যায়ে অবহিত করা হয়েছে। পাশাপাশি শনাক্ত হওয়া আসামিরা কোন দেশের কোথায় কি অবস্থায় রয়েছে, তাও বিস্তারিত জানানো হয়েছে। তাদের ফেরত আনতে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে পুলিশের ইন্টারপোল শাখা কাজ করছে। যেসব দেশে আসামিরা পলাতক রয়েছে, সেসব দেশের ইন্টারপোলের শাখা বাংলাদেশের ইন্টারপোল শাখাকে পলাতক আসামিদের ফেরত পাঠাতে সহযোগিতা করছে। তবে কয়েকটি দেশে সমস্যা হচ্ছে।

পুলিশ সদর দফতরের ইন্টেলিজেন্স এ্যান্ড স্পেশাল এ্যাফেয়ার্স বিভাগের সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জনকণ্ঠকে বলেন, পলাতক আসামিদের ফেরত পেতে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি দেয়া হয়েছে। ভারতের তিহার জেলে বন্দী মুরসালিন ও মুত্তাকিনকে ফেরত পেতে বিশেষ চিঠি চালাচালি ও তৎপরতা অব্যাহত আছে। রায়ের আগেই তাদের ফেরত আনার সম্ভাবনা বেশি। জঙ্গী নেতা হাতকাঁটা মাহফুজ গ্রেফতার হওয়ার পর ভারত থেকে আসা প্রতিনিধিদের সঙ্গেও পুলিশ সদর দফতরের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের মুরসালিন ও মুত্তাকিনকে ফেরত আনার বিষয়ে আলাপ আলোচনা হয়েছে।

গ্রেনেড হামলা হামলায় পুলিশের সাবেক তিন আইজি আশরাফুল হুদা, শহিদুল হক, খোদা বকস চৌধুরী, জজ মিয়া নাটক সাজানোর তিন কুশীলব সিআইডির সাবেক তিন কর্মকর্তা রুহুল আমিন, মুন্সী আতিকুর রহমান, আবদুর রশিদ, খালেদা জিয়ার ভাগ্নে লে. কমান্ডার (অব) সাইফুল ইসলাম ডিউক ও ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের সাবেক ৫৩ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক বিএনপি নেতা কাউন্সিলর আরিফুর রহমান জামিনে রয়েছেন।