১৭ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ট্রেনের টিকেট বিক্রির শেষ দিনে কমলাপুরে জনসমুদ্র, নানা অভিযোগ


স্টাফ রিপোর্টার ॥ পাওয়া না পাওয়া আর ক্ষোভের মধ্য দিয়ে শেষ হলো পাঁচদিনব্যাপী ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রি। মঙ্গলবার শেষ দিনে কমলাপুর রেলস্টেশনজুড়ে ছিল জনসমুদ্র। ৩১ আগস্টের অগ্রিম টিকেট পেতে অন্তত ২০ ঘণ্টা আগে লাইনে দাঁড়িয়েছিলেন অনেকেই। দ্রুত সময়ের মধ্যে কয়েকটি কাউন্টারের টিকেট শেষ হয়ে যায়। এ নিয়ে তুমুল হইচই চলে। টিকেট প্রত্যাশীদের অভিযোগ শেষ দিনে নানা অনিয়ম হয়েছে। এক থেকে দেড় ঘণ্টার মধ্যে টিকেট শেষ হয়ে যাওয়ার কথা বলায় ক্ষিপ্ত হন সবাই। যদিও রেল বিভাগের লোকজন বারবারই বোঝানোর চেষ্টা করেন কোন অনিয়ম হয়নি। যতক্ষণ টিকেট আছে সবাই পাবেন।

সকালে রেলস্টেশনে গিয়ে দেখা গেছে, কাউন্টারের সামনে থেকে টিকেট ক্রেতাদের সারি স্টেশন চত্বর ছাড়িয়ে মূল সড়ক পর্যন্ত এসেছে। ফলে টিকেট বিক্রি করতে হিমশিম খাচ্ছেন কাউন্টারের কর্মকর্তারা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। প্রতিটি কাউন্টারের সামনে একাধিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। যেন লাইন ভেঙ্গে কেউ টিকেট সংগ্রহ করতে না পারে। ২৩টি কাউন্টার থেকে অগ্রিম টিকেট বিক্রি হয়। যার মধ্যে ২টি কাউন্টার নারীদের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়। কাউন্টার দুটি থাকলেও নারীদের উপস্থিতিও ছিল অনেক বেশি। তাই দীর্ঘ সময় পরে নারীরা টিকেট পান।

দিনাজপুরগামী একতা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেটের জন্য লাইনে অপেক্ষা করেন বেসরকারী চাকরিজীবী অহিদ মিয়া। তিনি বলেন, ঈদের সময় ট্রেনে অতিরিক্ত ভিড় হয়। পরিবার-পরিজন নিয়ে তখন ট্রেনে ওঠাই মুশকিল। এসব জেনেও ট্রেনের টিকেট কাটতে এসেছি কারণ সড়কপথে অতিরিক্ত যানজট হওয়ার শঙ্কা আছে এবার। কিন্ত আজ টিকেট কাউন্টারে এত ভিড় যে টিকেট পাওয়ার সম্ভাবনা দেখছি না।

উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন রুটের ট্রেনের টিকেটের জন্য এদিন ভিড় ছিল বেশি। রাজশাহীর ধূমকেতু এক্সপ্রেসের টিকেটের জন্য সোমবার সকাল থেকে স্টেশনে অপেক্ষায় থাকার কথা জানালেন জুবায়ের ও সালাম। তারা জানান, প্রায় ২৭ ঘণ্টা পর মঙ্গলবার সকালে টিকেট পেয়েছেন তিনি। কষ্ট হলেও খুশির ঝিলিক ছিল দুইজনের চোখেমুখে। জানান, অনেকদিন পর বাড়ি যাব। টিকেট পেয়ে খুব আনন্দ লাগছে। ট্রেনে ঝুঁকি কম বলে টিকেটের জন্য এত কষ্ট করি।

চট্টগ্রামের মহানগর প্রভাতীর টিকেটের জন্য সোমবার থেকে স্টেশনে অপেক্ষায় থাকার কথা জানালেন বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা রতন প-িত। সড়কপথের ‘ঝামেলা এড়াতে’ ঈদের ছুটিতে ট্রেনে বাড়ি যাওয়ার কথা বললেন তিনি। পাঁচ ঘণ্টার রাস্তা যেতে লাগে ৮-৯ ঘণ্টা। আর জ্যামে পড়লে তো কোন নিশ্চয়তা নেই। এ কারণে কষ্ট করে হলেও ট্রেনের টিকেট নিতে এসেছি।

মিলছে না অনলাইন টিকেট ॥ মোট টিকেটের মধ্যে ২৫ ভাগ অনলাইন এবং মোবাইলের মাধ্যমে কেনার সুযোগ থাকলেও ঈদের অগ্রিম টিকেট বিক্রি শুরুর পর ১৯ আগস্ট থেকে এই টিকেট কিনতে পারছেন না কেউ। অনলাইন ও মোবাইলে টিকেট কিনতে গিয়ে নানা ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছেন টিকেট কিনতে আগ্রহীরা। এই ২৫ ভাগ টিকেট কালোবাজারে চলে যাচ্ছে বলে সন্দেহ করছেন তারা।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: