২১ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

‘যেখানে যাহারে জড়ায়ে ধরেছি সেই চলে গেছে ছাড়ি’


‘যেখানে যাহারে জড়ায়ে ধরেছি সেই চলে গেছে ছাড়ি’

স্টাফ রিপোর্টার ॥ কবি জসীম উদ্দিনের কবর কবিতার দুটি লাইন টেনে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপির আন্দোলন এখন টেমস নদীর পাড়ে ভ্যানিটি ব্যাগে।

সড়ক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, কবি জসীম উদ্দিনের কবর কবিতার দুটি লাইন খুব মনে হয় ‘তারপর এই শূন্য জীবনে যত কাটিয়াছি পাড়ি, যেখানে যাহারে জড়ায়ে ধরেছি সেই চলে গেছে ছাড়ি।’

বিএনপির অবস্থাও এখন এমন হয়ে গেছে। বিএনপি একটার পর একটা ইস্যু ধরে আর চলে যায়। এখন ধরেছেন ষোড়শ সংশোধনীর ইস্যু। এসময় তিনি মির্জা ফখরুলকে মওদুদের ফাঁদে পা না দিতে আহ্বান জানান।

সড়ক ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনী নিয়ে মওদুদ, মির্জা ফখরুল যেভাবে বক্তব্য রাখছেন তাতে মনে হয় তারা প্রধান বিচারপতির মুখপাত্র। ইস্যুর পর ইস্যু মাঠে মারা যায়। একটা ব্যার্থ হয় আরেকটা ধরে। জনগনের সাথে সম্পর্ক নেই সেই ইস্যুও তারা ধরে। যদি কোন ফায়দা তোলা যায়। আন্দোলন কোথায় তাদের। টেমস নদীর পাড়ে ভ্যানিটি ব্যাগে। আন্দোলনে জনগন তাদের সাথে নেই।’

মঙ্গলবার বাংলা একাডেমিতে ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় সংসদ আয়োজিত ‘২১ আগস্ট বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলায় শহীদদের স্বরণে’ আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ২০০৪ সালের সেই ভয়াল ২১ আগস্ট স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেন, সন্ত্রাসবিরোধী একটি সমাবেশ। যেখানে প্রতিবাদ করতে গিয়ে আমরাই সন্ত্রাসের শিকার হলাম। গ্রেনেড হামলার শিকার হলাম। নেত্রীকে প্রটোকল আমি দিতাম। নেত্রীকে রিসিভ করা, বিদায় দেওয়া। সেদিনও দায়িত্ব ছিল আমার উপর। নেত্রীর বক্তব্য শেষ হওয়া মাত্রই শুরু হয়ে গেলো হামলা। এতো বড় সমাবেশ শুরুর আগে পুলিশ ছিলো তবে নেত্রী আসার পর আর পুলিশ দেখি না।

বিএনপির উদ্দেশ্যে ওবায়দুল কাদের আরো বলেন, ‘১৯৭৫ সেই ১৫ আগস্ট হত্যাকারীদের বিদেশে পাঠিয়ে দূতাবাসে চাকরি দিয়েছিলেন জিয়াউর রহমান। হত্যা যে করে আর হত্যাকারীদের আশ্রয় প্রশ্রয়দাতা সমান অপরাধী।’

এসময় তিনি আরো বলেন, ‘এই বিএনপি দল কানাডার আদালতে এক বার নয় দুই দু বার সন্ত্রাসী দল হিসেবে স্বীকৃত।’

মন্ত্রী বলেন, ‘বেগম জিয়ার ৫টি জন্মদিন। একজন মানুষের ৫টি জন্মদিবসও হয়! ১৫ই আগস্ট জন্মদিন; এটা আমাদের আবেগকে উপহাস করা। কোকোর মৃত্যুর পর শোকাহত মাকে সমবেদনা জানাতে গেলে প্রধান ফটক বন্ধ করে দিলো। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঢুকতে দেওয়া হলো না। সমবেদনা জানাতে দেওয়া হলো না। এই নিষ্ঠুর রাজনীতির শেষ কোথায় আমি জানিনা। এই নিষ্ঠুর রাজনীতির জন্মই দিয়েছেন বিএনপি।’

ষোড়শ সংশোধনী রায় নিয়ে বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা প্রধান বিচারপতিকে চাপ নয় তাঁকে দলের অবস্থান তুলে ধরতে গিয়েছিলাম। এই রায়ের পর অশুভ খেলা শুরু করেছেন। আর আমরা আইনগতভাবে মোকাবিলা করার চেষ্টা করছি। রিভিউ প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এময় তিনি আরো বলেন, আমরা বিদ্যু দিয়েছি। রাস্তা-ঘাট করে দিয়েছি। ইউনিয়ন ডিজিটাল করেছি। পদ্মা সেতু মেট্রোরেল করছি। কিন্তু আগামী নির্বাচনে জনগনকে বলার মতো বিএনপির কিছু নেই। তাই তারা শুধু ষড়যন্ত্র করে। তাদের যে অতিত জনগন তাদেও ভোট দেবেনা তাই ষড়যন্ত্রেও চোরা গলি খুঁজছে। তবে সেই ষড়যন্ত্রের বিষয়ে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ৭৫ সালের পর ৯৬ পর্যন্ত শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার পরিবেশ ছিলো না। শেখ হাসিনা দায়িত্ব নেয়ার পর পরিবেশ ফিরিয়ে আনেন। তিনি আরো বলেন, যারা পাকিস্তানের চরবৃত্তি করছেন দেশের মানুষ তাদের চেহারা চিনে ফেলেছেন। যারা ষড়যন্ত্র করছেন এই ষড়যন্ত্র বাংলাদেশের বিরুদ্ধে, শহীদদের রক্তের বিরুদ্ধে, মা-বোনের ইজ্জতের বিরুদ্ধে এই ষড়যন্ত্র। তাই আমাদের এই ষড়যন্ত্র রুখতে হবে।

ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, ২০০৪ সালে বিএনপির সময়ে সারাদেশেই যখন সন্ত্রাস হচ্ছিল ঐ সমস আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসবিরোধী সমাবেশ আয়োজন করে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে। যেখানে দেশরত্নের বক্তব্য শেষ হতে না হতেই শুরু হয় বর্বরোচিত গ্রেনেড হামলা।

ছাত্রলীগের সভাপতি আরো বলেন, এই ২০০৪ সালেই গ্রেনেড হামলা প্রথম নয়। এর আগেও দেশরত্ন শেখ হাসিনাকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ২১ বার তাঁকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। আল্লাহর রহমতে তিনি রক্ষা পেয়েছেন।

সোহাগ আরো বলেন, জঙ্গিমাতা খালেদা জিয়া ও তার পুত্র তারেক জিয়ার নির্দেশে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। সকল ধরণের ষড়যন্ত্র রুখতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের সর্তক থাকার আহ্বান জানান।

ছাত্রলীগের সাধারন সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন বলেন, ধানমন্ডির ৩২ নাম্বারে মনে হয় এখনো রক্তের দাগ শুকায়নি। এখনো মনে হয় মুজিবের চশমাটি সিড়িতে পড়ে আছে। পাইপটিও আছে সেখানে। এত বছর পরেও ঝিমিয়ে আছে গাছের পাতাগুলো।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আহ্বান জানিয়ে সাধারন সম্পাদক জাকির হোসাইন আরো বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস যারা মুছে দিতে চায় তাদের বিষয়ে ছাত্রলীগকে সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে। এদেশে থেকে যারা পাকিস্তানের ভাষায় কথা বলে তাদের সে ভাষার জবাব দিতে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে শেখ হাসিনাকে নিয়ে যারা কথা বলে তাদের সে ভাষার জবাব দিতে ছাত্রলীগ যথেষ্ট বলেও জানান তিনি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সভাপতি আবিদ আল হাসান বলেন, জাতির পিতাকে হত্যা করে বাংলার স্বপ্নও হত্যা করা হয়েছিল। আগস্ট মাসে ব্যানারে ফেস্টুনে ‘কাঁদো বাঙালি কাঁদো’ লেখা হয় আমি মনে করি এটা হওয়া উচিত জাগো বাঙালি জাগো। সকল অপশক্তির বিরুদ্ধে আমাদের জেগে উঠতে হবে, রুখে দিতে হবে। ছাত্রলীগকে সোচ্চার হতে হবে। এই আগস্ট মাসেই অপশক্তি বেশি মাথা চাড়া দেয়।

আলোচনা সভায় আরো বক্তব্য রাখেন ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম বাবু এমপি, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি এইচ এম বদিউজ্জামান সোহাগ।

আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইন।

আলোচনা সভায় ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন ইউনিটের, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন হলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: