২০ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বন্যাদুর্গত এলাকায় ছড়াতে পারে পানিবাহিত রোগ


স্টাফ রিপোর্টার ॥ উত্তরাঞ্চল, মধ্যাঞ্চলসহ সবখান থেকেই নেমে যাচ্ছে বন্যার পানি। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বর্তমানে দেশের প্রধান সব নদীর পানি হ্রাস পাচ্ছে। ভারি বৃষ্টি না হলে নতুন করে আর বন্যার আশঙ্কা নেই। তবে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে ২৬ তারিখের পর থেকে আবারও দেশে বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন পানি নেমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে দুর্গত এলাকায় পানিবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়তে পারে। এ বিষয়ে এখনই সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। এদিকে বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। তারা জানান, এবারের সবচেয়ে বেশি বাঁধের ক্ষতি হয়েছে কুড়িগ্রামে। উত্তরের অন্য জেলায় বন্যা ভয়াবহ রূপ ধারণ করার পেছনে রয়েছে বাঁধ ভেঙ্গে যওয়া। বন্যায় বাঁধের এত বেশি ক্ষতি হয়েছে যে গত ১০ বছরের যেখানে পানি উঠেনি, সেখানেও এবার বাঁধ ভেঙ্গে তলিয়ে গেছে। তারা জানায়, বাঁধ ভেঙ্গে পানি ভেতরের ঢোকায় বের হতে সময় লাগছে। সরকারী হিসেবে উত্তরের জেলাগুলো ৩৫ কিলোমিটার বাঁধ সম্পূর্ণ ধসে গেছে। এছাড়াও আংশিক ক্ষতি হয়েছে ২৮০ কিলোমিটার বাঁধ। কুড়িগ্রাম জেলার ২১০ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের মধ্যে ২৩ কিলোমিটার এখন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাব অনুযায়ী দেশের ৯০ পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে সোমবার ৫৩ স্টেশনের পানি হ্রাস পেয়েছে। বৃদ্ধি পেয়েছে মাত্র ৩৫ স্টেশনের পানি। তবে পানি নামতে শুরু করলেও এখন পর্যন্ত ১৬ নদীর পানি ২৭ এলাকায় বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। করতোয়া, যমুনা, শুন, আত্রাই, ধলেশ্বরী, লক্ষ্যা, কালিগঞ্জ, মহানন্দা, ছোট যমুনা, পদ্মা, গড়াই, সুরমা, কুশিয়ারা, পুরাতন সুরমা, কংস এবং তিতাস এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে বাহাদুরাবাদ, সারিয়াকান্দি, কাজিপুর, সিরাজগঞ্জ, আরিচা ঘাট এলাকায় যমুনা নদীর পানি এখনও বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপর দিকে দেশে অন্যতম প্রধান নদী পদ্মা প্রবাহিত হচ্ছে গোয়ালন্দ, ভাগ্যকূল এবং সুরেশ্বর পয়েন্টে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, গঙ্গা নদীর পানি বৃদ্ধি ছাড়া সব নদীর পানি এখন কমতে শুরু করেছে। এর মধ্যে ব্রহ্মপুত্র যমুনার পানি আগামী ৭২ ঘণ্টা হ্রাস পেতে পারে। পদ্মার পানিও ৪৮ সমতলে হ্রাস পাবে। সুরমা কুশিয়ারা নদীর পানিও ২৪ ঘণ্টা পর্যন্ত হ্রাস পাওয়ার আভাস দেয়া হয়েছে।

তবে নদী থেকে পানি কমলেও এখন উত্তরাঞ্চলের অনেক এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বাঁধ ভেঙ্গে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে ভেতরে ঢোকা পানি বের হতে সময় লাগবে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরের হিসাব অনুযায়ী ৩০ জেলার ১৭৯ উপজেলা বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তাদের হিসেবে বন্যায় দেশের ৩৫ কিলোমিটার বাঁধ সম্পূর্ণভাবে আর ২৮০ কিলোমিটার বাঁধ আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর বড় অংশই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে উত্তরের জেলায়। ফলে উত্তরের বন্যা পরিস্থিতি এবার ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। উত্তরের জেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাঁধের ক্ষতি হয়েছে কুড়িগ্রাম জেলায়। এ জেলায় অনেকগুলো নদী থাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধও অন্য জেলার চেয়ে বেশি। স্থানীয়রা জানিয়েছে বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ার কারণে নতুন নতুন অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে যেখানে গত ১০ বছরে বন্যায় পানি উঠেনি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা অবশ্য বলছেন, নদীতে যখন পানি আসে তখন দুই দিকের পানির লেভেলের তারতম্যের কারণে চুইয়ে পানি ঢুকতে থাকে। পরে বাঁধ নরম হয়ে ভেঙ্গে যায়। একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত মাটির বাঁধগুলো বন্যা ঠেকাতে পারে। কিন্তু এর বেশি হলে সেটা ভেঙ্গে যায়।

তবে জানা গেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের পক্ষ থেকে ঠিকমতো বাঁধগুলোর সংস্কার না হওয়ায় সহজেই বাঁধগুলো বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জানা গেছে, ২০০৫-২০০৬ সালে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের বড় ধরনের সংস্কার কাজ করা হয়। এরপর আর বরাদ্দে অভাবে বাঁধগুলোর কোন সংস্কার করা হয়নি। আগের বন্যায় যেসব এলাকায় বাঁধ ভেঙ্গেছে সেসব এলাকায়ও মেরামতে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। এ বারের বন্যায় বাঁধের সেসব ভাঙ্গা অংশ দিয়েই সহজেই পানি প্রবেশ করেছে।

বর্তমানে পানি নামতে শুরু করলে এখানও ত্রাণ নিয়ে হাকাকার চলছে উত্তরের বিভিন্ন জেলায়। এখনও ঠিকমতো বানভাসিরা বাড়িতে ফিরতে পারছে না। অনেকে বাঁধের ওপরে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন। জানা গেছে, বন্যার তোড়ে বসতবাড়ি ভেঙ্গে যাওয়ায় এবং কাদামাটিতে একাকার থাকায় সেখানে ফেরা সম্ভব হচ্ছে না।

নওগাঁ ॥ বানভাসি মানুষদের মধ্যে সবচেয়ে খারাপ অবস্থায় আছে নারী, শিশু ও পরিবারের প্রবীণ সদস্যরা। বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব সেখানে প্রকট। প্রশাসন বা বিভিন্ন সংগঠন থেকে এখন পর্যন্ত যে ত্রাণ দেয়া হয়েছে, তা অত্যন্ত অপ্রতুল। জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও আশ্রয় নিয়েছে বানভাসি মানুষ।

উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানিতে নওগাঁর আত্রাই ও ছোট যমুনা নদীর বাঁধ ভেঙ্গে নওগাঁ সদর, মান্দা, রানীনগর, আত্রাই, বদলগাছী, পত্মীতলা, মহাদেবপুর, ধামইরহাট ও সাপাহার উপজেলার ৬৫টি ইউনিয়নের প্রায় তিন লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়ে। এর মধ্যে সবচেয়ে দুর্গত এলাকা মান্দায় রয়েছেন, প্রায় ১ লাখ মানুষ। বানভাসিরা জানান, পানি কমতে শুরু করলেও দুর্ভোগ কমেনি। বন্যার্ত এলাকায় গেলে মানুষজন ছুটে আসে ত্রাণের আশায়। নিজেদের নাম লিখতে বলেন। সাংবাদিক পরিচয় জেনে, সবার মুখ মলিন হয়ে যায়। তারা জানান, সব কিছু ছেড়ে এক সপ্তাহ ধরে তারা সেখানে আশ্রয় নিলেও এখন পর্যন্ত কেউ ত্রাণ নিয়ে আসেননি।

নাটোর ॥ সিংড়া ও নলডাঙ্গায় বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আত্রাই নদীর সিংড়া পয়েন্টে পানি আরও বেড়ে বিপদ সীমার ৯৩ সেমি. ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন এতুন এলাকা। পানি বৃদ্ধির কারণে হুমকির মুখে রয়েছে সিংড়ার পল্লী বিদ্যুত সমিতির ৩৩/১১ কেভির উপকেন্দ্রটি। যে কোন মুহূর্তে বন্ধ হয়ে যেতে পুরো উপজেলার বিদ্যুত সরবরাহ। এছাড়া উপজেলার কালীনগর এবং বলিয়াবাড়ি-চাঁদপুর পয়েন্টে আত্রাই নদীর বাঁধ ভেঙ্গে কালিনগর, নুরপুর, ডাহিয়াসহ বেশ কিছু গ্রামের শতশত বাড়ি নতুন করে প্লাবিত হয়েছে। ইতোমধ্যেই বন্ধ হয়ে গেছে ৬০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভেসে গেছে ৮ শতাধিক পুকুরের প্রায় ১২ কোটি টাকা মূল্যের মাছ। তলিয়ে গেছে প্রায় ১০ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন ধান। এদিকে নলডাঙ্গা উপজেলার বারনই নদীর পানি অস্বাভাবিক বেড়ে তলিয়ে গেছে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঘর-বাড়ি ও জমির ফসল। চরম দর্ভোগে রয়েছে বাসভাসি মানুষ।

গাইবান্ধা ॥ ঘাঘট নদীর বন্যার পানির তোড়ে বামনডাঙ্গা সøুইস গেট সংলগ্ন ব্রিজটি ধসে যাওয়ায় গাইবান্ধার নলডাঙ্গা-বামনডাঙ্গা এবং পার্শ্ববর্তী রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার দুটি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ফলে পার্শ্ববর্তী রেল ব্রিজটিও হুমকির মুখে পড়েছে। এতে জনগণকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন ও রেলওয়ের পক্ষ থেকে ব্রিজের ধস ঠেকাতে এবং সড়ক যোগাযোগ পুনরায় চালু করার তৎপরতা চালানো হলেও এখন পর্যন্ত তা সম্ভব হয়নি।

তীব্র পানির স্রোতে হঠাৎ করে সড়ক সংলগ্ন ব্রিজটির নিচে মাটি সরে গেলে ব্রিজটি হুমকির মুখে পড়ে। এতে ওই ব্রিজের ওপর দিয়ে পথচারী ও যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়। জরুরী ভিত্তিতে বাঁশের পাইলিং দিয়ে সড়ক এবং ব্রিজের পার্শ্ববর্তী ধস বন্ধের প্রচেষ্টা চালানো হচ্ছে। বন্যার পানির স্রোতের তীব্রতা না কমলে বামনডাঙ্গা রেলসেতুটিও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে লালমনিরহাট-বোনারপাড়া সান্তাহার সেকশনের রেল চলাচল চরম হুমকির মুখে পড়বে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কুড়িগ্রাম ॥ বন্যা দুর্গতরা ঘরে ফিরতে শুরু করলেও দুর্ভোগ কমেনি তাদের। তবে ঘরে ফিরতে পারছে না বন্যার পানিতে ভেসে যাওয়া ঘর-বাড়ির কয়েক’শ পরিবার। বন্যাদুর্গত মানুষের মাঝে ত্রাণ কার্যক্রম অব্যাহত রাখলেও তা দিয়ে প্রয়োজন মিটছে না বন্যাদুর্গতদের। বন্যায় নষ্ট হয়ে গেছে ৫০ হাজার হেক্টর জমির রোপা আমন। বন্যাদুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার পানির অভাবে ছড়িয়ে পড়ছে নানা রোগ।

দিনাজপুর ॥ স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বন্যায় জেলায় ১ লাখ ৫৫ হাজার ৪শ’ ৭১টি পরিবারের ৬ লাখ ২১ হাজার ৮শ’ ৮৪ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যার কারণে মারা গেছে ৩০ জন। গত ১২ আগস্ট থেকে দিনাজপুরে ভয়াবহ বন্যায় জেলার ১৩ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। এতে গৃহহীন হয়ে পড়ে প্রায় ৬ লাখ মানুষ। বন্যার পানিতে তলিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১ লাখ ২১ হাজার হেক্টর জমির আমন ফসল। এছাড়াও প্রায় ১২ হাজার পুকুরের মাছ বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। বন্যায় জেলার ১শ’ ৬৪ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়কের মধ্যে ১শ’ ১৪ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শতাধিক কালভার্ট নষ্ট হয়েছে।

বদরগঞ্জ, রংপুর ॥ বদরগঞ্জ উপজেলায় প্রায় পাঁচ কোটি টাকার মাছ পানিতে ভেসে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। উপজেলায় তিন হাজার ২৮০টি পুকুর এবং ২৭টি সরকারী বিলে মাছ চাষ হয়। এর মধ্যে এক হাজার ৫২০টি পুকুর এবং ২৭টি সরকারী বিল থেকে মাছ বন্যার পানিতে ভেসে যায়।

শরীয়তপুর ॥ বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। এদিকে জেলার নড়িয়া, জাজিরা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার প্রায় ৪০টি গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। জাজিরা উপজেলার জাজিরা, বড়কান্দি, ডুবলদিয়া, বিকেনগর, বিলাশপুর ও কু-েরচর ইউনিয়নের এবং ভেদরগঞ্জ উপজেলার তারাবুনিয়া, কাঁচিকাটা ও নড়িয়া উপজেলার চরআত্রা ও নওপাড়া ইউনিয়নের ৪০টি গ্রামে বাসা-বাড়িতে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। পাশাপাশি রয়েছে পদ্মার ভাঙ্গন। একদিকে নদী ভাঙ্গন অন্যদিকে বন্যার পানি মিলিয়ে দুর্বিষহ জীবন যাপন করছে পদ্মা পাড়ের বাসিন্দারা। জেলার নড়িয়া ও জাজিরা উপজেলার ১২টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢোকায় পাঠদান বন্ধ রাখা হয়েছে। উপজেলা দুটির ২৪৫টি সরকারী ও বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় সাময়িক পরীক্ষা স্থগিত ঘোষণা করেছেন কর্তৃপক্ষ। এদিকে বন্যার পানিতে ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছে পশু খামারিরা। বন্যায় গবাদিপশুর তীব্র খাদ্য সঙ্কট দেখা দিয়েছে।

সুনামগঞ্জ ॥ বন্যায় সুনামগঞ্জে রোপা আমনের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। উজানে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও প্রবল বৃষ্টিতে ১০ আগস্ট থেকে সুরমা নদীর পানি বেড়ে জেলার ১১ উপজেলা প্লাবিত হয়। তবে এখনো কয়েকটি উপজেলায় বন্যার পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। সোমবার তাহিরপুর উপজেলার গ্রামগুলোতে গিয়ে দেখা গেছে, পানি নামতে শুরু করেছে। এবারের বন্যায় এই এলাকায় বসতবাড়িতে পানি ঢুকে আশ্রয়হীন হয়ে পড়ে অনেক পরিবার। দূরে দূরে সবুজ দ্বীপের মতো গাছগাছালি ঘেরা বসতবাড়িগুলো পানির ভেতর উঁচু হয়ে আছে। তলিয়ে গেছে আমনের জমি। কোথাও কোথাও হাঁটুপানির নিচে ডুবে আছে আমনের চারা। কোথাও আবার কোনোমতে মাথা জাগিয়ে রেখেছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সূত্র মতে, ৭ হাজার ৭৭১ হেক্টর রোপণকৃত রোপা আমন ও ১ হাজার ২৮ হেক্টর রোপা আমন বীজতলা পানিতে সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। এদিকে স্থানীয় কৃষকরা জানান, ক্ষতির পরিমাণ সরকারী হিসেবের তুলনায় অনেক বেশি।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: