১৬ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বিদায় নায়করাজ


বিদায় নায়করাজ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ সপ্তম শ্রেণীতে পড়ার সময় তার অভিনয় জীবনের সূচনা হয়েছিল মঞ্চনাটকের মাধ্যমে। অভিনয় করেছিলেন কলকাতার খানপুর হাইস্কুলের সরস্বতী পূজার নাটকে। সেই থেকেই অভিনয়ের বীজটি গেঁথে যায় তার মননে। পরবর্তীতে ১৯৬৪ সালে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে অভিনয় করেন ‘ঘরোয়া’ নামের টেলিভিশনে। তেরো নম্বর ফেকু ওস্তাগড় লেন নামের চলচ্চিত্রে ছোট্ট একটি চরিত্রের মাধ্যমে পদার্পণ করেন সেলুলয়েডে। রূপালী পর্দায় ওই ছোট্ট চরিত্রটিই নজর কেড়ে নেয় সবার। জহির রায়হানের বেহুলা নামের চলচ্চিত্রে প্রথম অভিনয় করেন নায়কের চরিত্রে। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। হয়ে ওঠেন বাংলা চলচ্চিত্রে দর্শকদের নয়নমণি। অনবদ্য অভিনয়শৈলীতে হাসি-কান্নায় রূপালী পর্দার দর্শককে বিভোর করে রেখেছেন দীর্ঘ ছয়টি দশক। পেয়েছেন নায়করাজ রাজ্জাক উপাধি। আপন মেধায় অর্জন করেছেন পাঁচটি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার। বাংলা চলচ্চিত্রের সেই কিংবদন্তি অভিনয়শিল্পী রাজ্জাক এবার পর্দার বাইরে বাস্তবিক জীবনে কাঁদালেন কোটি ভক্ত-অনুরাগীকে। সোমবার ঘটল তার মহাপ্রস্থান। এদিন না ফেরার ভুবনে পাড়ি জমান বাংলা চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তি অভিনয়শিল্পী। সন্ধ্যা ৬টা ১৩ মিনিটে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি ... রাজিউন)। তার বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। রেখে গেছেন তিন ছেলে চলচ্চিত্র অভিনেতা বাপ্পারাজ ও সম্রাট এবং বাপ্পীকে। এছাড়াও নায়করাজ রেখে গেছেন তার জীবনসঙ্গী খায়রুন্নেসা লক্ষ্মী এবং দুই মেয়ে শম্পা ও ময়নাকে।

আজ মঙ্গলবার বেলা ১২টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে সর্বসাধারণের শ্রদ্ধাঞ্জলি নিবেদন করা হবে বলে জনকণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ। এর আগে যথাযথা নিরাপত্তা পেলে সকাল ১১টায় এফডিসিতে রাজ্জাকের প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর। রাজ্জাকের বড় ছেলে বাপ্পারাজ জানিয়েছেন, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ আছর গুলশান আজাদ মসজিদে জানাজা হবে। এরপর বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হবে বাংলা চলচ্চিত্রের এই কিংবদন্তি শিল্পীকে। গুলশানে নিজেদের বাড়ি লক্ষ্মীকুঞ্জের সামনে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা নিবেদনের পর কফিন নেয়া হবে গুলশানের আজাদ মসজিদে। সেখানে জানাজা শেষে বনানী কবরস্থানে সমাহিত করা হবে বাবাকে।

রাজ্জাকের ছোট ছেলে সম্রাট হাসপাতালে সাংবাদিকদের জানান, মেজো ভাই বাপ্পী কানাডায় আছেন। টিকেট জটিলতার কারণে তিনি মঙ্গলবার দেশে ফিরতে পারবেন না।

ইউনাইটেড হাসপাতাল সূত্র জানায়, সোমবার বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে হার্ট এ্যাটাক হওয়া অবস্থায় নায়ক রাজ্জাককে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সব ধরনের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়। ৬টা ১৩ মিনিটে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। সোমবার রাতে রাজ্জাকের মরদেহ রাখা হয় ইউনাইটেড হাসপাতালের হিমাগারে।

নায়করাজ রাজ্জাকের মৃত্যুতে বেদনার ছায়া নেমে আসে রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে শুরু করে দেশের শিল্প-সংস্কৃতি ভুবনে। ঢাকাই চলচ্চিত্রের সবচেয়ে নন্দিত এই নায়কের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলা চলচ্চিত্রের দর্শকপ্রিয়তা অর্জনে নায়করাজ রাজ্জাকের অবদান চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে। বাঙালী সংস্কৃতি চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে তার অবদান প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম স্মরণ করবে।’

নায়করাজ রাজ্জাকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ ছাড়াও শোক জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ, স্পীকার শিরীন শারমিন চৌধুরী, ডেপুটি স্পীকার এ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বি মিয়া। অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, আইনমন্ত্রী আনিসুল হক, সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রী রাশেদ খান মেনন, ভূমিমন্ত্রী শামসুর রহমান শরীফ, ভূমি প্রতিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী প্রমুখ।

সোমবার সন্ধ্যায় নায়করাজের মৃত্যুসংবাদ ছড়িয়ে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে চলচ্চিত্রের সহকর্মীসহ সংস্কৃতি অঙ্গনের অনেকেই হাজির হন হাসপাতালে। নায়করাজের মৃত্যুর খবর মিডিয়াকর্মীদের কাছে শুনে হাউমাউ করে কেঁদে উঠেন রূপালি পর্দায় তার নায়িকাদের মধ্যে অন্যতম সারাহ বেগম কবরী। এই সন্ধ্যায় মুঠোফোনে তিনি জনকণ্ঠকে বলেন, ‘খুবই কষ্ট হচ্ছে, কান্না পাচ্ছে আমার।’ এই স্বল্প কথার পর কান্নায় রুদ্ধ হয়ে যায় তার কণ্ঠ। তিনি আর কোন কথাই বলতে পারেননি। মুঠোফোনের ওপাশ থেকে শুধুই শোনা গেল কান্নার ধ্বনি। বাংলাদেশের চলচ্চিত্র ইতিহাসের সোনালী সময়ের এই মহানায়কের মৃত্যুর খবর পেয়ে হাসপাতালে ছুটে আসেন তার সঙ্গে বিভিন্ন ছবির চিত্রনায়িকারা। তাদের মধ্যে ছিলেন নায়িকা সুচন্দা, চলচ্চিত্রে যিনি ছিলেন রাজ্জাকের প্রথম নায়িকা। এসেছিলে অসংখ্য চলচ্চিত্রে রাজ্জাকের বিপরীতে নায়িকা হওয়া নন্দিত অভিনেত্রী ববিতা। এসেছিলেন চিত্রনায়িকা অঞ্জনা, চিত্রনায়ক আলমগীর, ওমর সানী, মৌসুমী, ফেরদৌস, শাকিব খান প্রমুখ। এসেছিলেন ঢাকাই ছবির খল চরিত্রের খ্যাতিমান অভিনেতা ও চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগরসহ চলচ্চিত্র পরিচালক ও প্রয়োজকসহ সংশ্লিষ্ট অনেকেই। ভালোবাসার টানে হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিলেন অভিনয়শিল্পী হাসান ইমাম, খ্যাতিমান নাট্য ও চলচ্চিত্র নির্মাতা নাসির উদ্দীন ইউসুফ।

হাসপাতালের হিমাগারের সামনে রাজ্জাকের স্ত্র¬ী খায়রুন্নেসা লক্ষ্মী মাঝে মধ্যেই বিলাপ করে কেঁদে উঠছিলের। বাংলা চলচ্চিত্র হারিয়েছে নায়করাজকে আর লক্ষ্মী হারিয়েছেন তার জীবনের প্রিয়তম মানুষটিকে। পিতা হারানোর বেদনায় নায়করাজের দুই ছেলে বাপ্পা ও সম্রাট এবং দুই মেয়ে শম্পা ও ময়নাও বারবার অশ্রুসিক্ত হয়ে পড়েন।

চলচ্চিত্রের সঙ্গে আষ্টেপৃষ্ঠে নিজেকে জড়িয়ে নিয়েছিলেন রাজ্জাক। তাই বার্ধক্যকে উপেক্ষা করে চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট যে কোন কর্মকা-ে সরব ছিলেন রাজ্জাক। আমৃত্যু এই শিল্পের সঙ্গেই থাকতে চাওয়ার কথা জানিয়ে একসময় বলছিলেন, আমি রাজ্জাক হয়তো অন্য কোন চাকরি করতাম অথবা ঘুরে বেড়াতাম। কিন্তু ছোটবেলার অভিনয় প্রচেষ্টাকে আমি হারাতে দেইনি। আমি নাটক থেকে চলচ্চিত্রে এসেছি। সবাই আমাকে চিনেছে। পেয়েছি সাফল্যও। বাংলার মানুষজন আমাকে একজন অভিনয়শিল্পী হিসেবেই দেখেন ও আমাকে ভালবাসেন। আজকে আমার যা কিছু হয়েছে, সবই এই চলচ্চিত্রশিল্পের কল্যাণে।

বাংলা চলচ্চিত্রে রাজ্জাক-কবরী জুটি পেয়েছিল তারকা খ্যাতি। সুভাষ দত্ত পরিচালিত ‘আবির্ভাব’ চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বাংলা চলচ্চিত্রে আবির্ভাব ঘটে নতুন জুটি রাজ্জাক-কবরীর। একের পর এক ছবিতে অভিনয় করেছেন তারা। উপহার দিয়েছেন সুপারহিট নানা চলচ্চিত্র। ‘নীল আকাশের নীচে’, ‘ময়নামতি’, ‘ক খ গ ঘ ঙ’, ‘ঢেউ এর পরে ঢেউ’ ইত্যাদি চলচ্চিত্র স্বাধীনতার আগে ঢাকাইয়া ছবির জগতে পেয়েছিল বিপুল জনপ্রিয়তা। স্বাধীনতার পর এ জুটি কাজ করে অনেক চলচ্চিত্রে। তখন ‘রংবাজ’, ‘বেঈমান’সহ বেশ কিছু চলচ্চিত্র উপহার দেন এই জুটি।

বাংলা চলচ্চিত্রকে রাঙিয়ে দেয়া, স্বর্ণালী যুগের নায়ক রাজ্জাকের জন্মই হয়েছিল সিনেমাপাড়ায়, কলকাতার টালিগঞ্জে। ছোটবেলা থেকেই দেখেছেন সিনেমার শূটিং, তারকা নায়ক-নায়িকাদের। খুব কাছ থেকে দেখার সুযোগ হয়েছে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট নানা কিছু। ফলে অল্প বয়সেই অভিনয়ের বাসনা বাসা বাঁধে তার হৃদয়ে। স্বপ্ন দেখা শুরু তখন থেকেই। কিশোর বয়সেই জড়িয়ে পড়েন মঞ্চনাটকে, জড়িয়ে পড়েন অভিনয়ের ঘোরলাগা জগতে। তখন টালিগঞ্জের সিনেমাশিল্পে উত্তম কুমার, সৌমিত্র, ছবি বিশ্বাস প্রমুখ খ্যাতিমানদের উড়ন্ত যুগ। তাদের চলচ্চিত্র দেখেন, আর রাজ্জাক দিনরাত স্বপ্ন দেখেন। কলকাতায় হালকা-পাতলা সাধারণ এক ছেলে রাজ্জাকের অভিনয়ের সুযোগ মিলল না। কে জানত সেই লিকলিকে ছেলেটিই জয় করে নেবেন বাংলাদেশের হৃদয়?

রাজ্জাকের মনে যখন চলচ্চিত্রে অভিনয়ের দুর্নিবার স্বপ্ন, তখনই কলকাতায় শুরু হয় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা। কলকাতায় থাকাটাই তাঁর জন্য মুশকিল হয়ে পড়ল। তখন এক সুহৃদের পরামর্শে চলে আসেন বাংলাদেশে, ঢাকায়। সেটা ১৯৬৪ সালের কথা। ঢাকায় পা রেখেই রাজ্জাক পেতে শুরু করেন বিপুল গ্রহণযোগ্যতা। কলকাতা তাকে বিমুখ করেছিল, ঢাকা তাকে দুহাত ভরে দিল। এ দেশের মানুষ তাকে ভালবেসে আপন করে নিল। বাংলাদেশে অল্প সময়েই তিনি পান খ্যাতি, বিপুল মানুষের ভালবাসা। পরে সময়ের পরিক্রমায় হয়ে উঠেছিলেন নায়করাজ।

চিরসবুজ নায়ক রাজ্জাকের প্রকৃত নাম মোঃ আবদুর রাজ্জাক। আকবর হোসেন ও মিনারুন্নেসার ছোট ছেলে আবদুর রাজ্জাক টালিগঞ্জের মোল্লাবাড়িতে ১৯৪২ সালের ২৩ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৬২ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে বিয়ে করেন লক্ষ্মীকে। তাদের সংসারে তিন ছেলে ও দুই মেয়ে সন্তান। বাবার পদাঙ্ক অনুসরণ করে দুই ছেলে বাপ্পারাজ ও সম্রাটও চলচ্চিত্রের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছেন।

১৯৬৪ সালে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা শুরু হলে রাজ্জাক স্ত্রী ও ছেলে বাপ্পাকে নিয়ে চলে আসেন ঢাকায়। যোগাযোগ করেন ঢাকায় প্রথম ছবি ‘মুখ ও মুখোশ’-এর পরিচালক আবদুল জব্বার খানের সঙ্গে। তিনি রাজ্জাককে ওই সময়ের বিখ্যাত চলচ্চিত্র প্রযোজনা সংস্থা ইকবাল ফিল্মসে চাকরি নিয়ে দেন। পরিচালক কামাল আহমেদের সহকারীর কাজ। সহকারী পরিচালক হিসেবে রাজ্জাকের প্রথম ছবি ‘উজালা’। সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করার পাশাপাশি ‘১৩ নং ফেকু ওস্তাগার লেন’, ‘আখেরী স্টেশন’ ও ‘ডাক বাবু’ ছবিতে ছোট চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি। বরেণ্য চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের সহকারী হিসেবেও কাজ করেন। এ সময় সুযোগ পান নায়ক হওয়ার। জহির রায়হান রতœ চিনতে ভুল করেননি। রাজ্জাককে তিনি নায়ক বানান, সুযোগ দেন তার ‘বেহুলা’ চলচ্চিত্রে নায়কের ভূমিকায় অভিনয়ের। ‘বেহুলা’র নাম ভূমিকায় অভিনয় করেন সুচন্দা। ১৯৬৬ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘বেহুলা’ সুপারহিট হয়। আর রাজ্জাক সুযোগ পেয়ে যান তার আজন্ম লালিত স্বপ্ন পূরণের। ঢাকার চলচ্চিত্র পায় একজন রোমান্টিক নায়ক, যিনি পরবর্তীকালে বাংলাদেশের সিনেমাশিল্পের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন। চলচ্চিত্রমোদীদের উপহার দেন অসংখ্য কালজয়ী চলচ্চিত্র।

অভিনয়ের পাশাপাশি নায়করাজ রাজ্জাক ১৯৭৬ সালে ‘আশঙ্কা’ ছবির মাধ্যমে চলচ্চিত্র প্রযোজক হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন। এ পর্যন্ত ২০টি চলচ্চিত্র প্রযোজনা করেছেন তিনি। পরিচালনা করেছেন প্রায় ১৬টি চলচ্চিত্র। পরিচালক হিসেবেও তিনি সফল হয়েছেন। সর্বশেষ তিনি ‘আয়না কাহিনী’ ছবিটি নির্মাণ করেন।

‘ছুটির ঘণ্টা’, ‘রংবাজ’, ‘বাবা কেন চাকর’, ‘নীল আকাশের নিচে’, ‘জীবন থেকে নেওয়া’ ‘পিচঢালা পথ’, ‘অশিক্ষিত’, ‘বড় ভালো লোক ছিল’, ‘অনন্ত প্রেম’সহ অসংখ্য জনপ্রিয় ছবিতে অভিনয় করেছেন রাজ্জাক। সর্বশেষ অভিনয় করেছেন ছেলে বাপ্পারাজ পরিচালিত ‘কার্তুজ’ ছবিতে।

নায়করাজ রাজ্জাক প্রথম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন ‘কি যে করি’ ছবিতে অভিনয় করে। এরপর আরও চারবার তিনি জাতীয় সম্মাননা পান। জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারে তিনি আজীবন সম্মাননা অর্জন করেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সাংবাদিক সমিতি (বাচসাস) পুরস্কার পেয়েছেন অসংখ্যবার। এ ছাড়াও পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা।

ব্রিটিশ আমলে তৎকালীন ভারতবর্ষে জন্ম নেয়া এই শিল্পী বাংলা চলচ্চিত্রের পাশাপাশি অভিনয় করেছেন উর্দু চলচ্চিত্রে। সব মিলিয়ে তার অভিনীত চলচ্চিত্রের সংখ্যা পাঁচ শতাধিক। অভিনয়ের পাশাপাশি বিভিন্ন ছবি প্রযোজনা ও পরিচালনায় বিশেষ ভূমিকা রেখেছেন এই কিংবদন্তি শিল্পী।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: