২০ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কর্ণফুলীর ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের অপমৃত্যু রোধে এবার ডিপিএম


মোয়াজ্জেমুল হক, চট্টগ্রাম অফিস ॥ কর্ণফুলী নদীর ‘ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পে’র অপমৃত্যু ও বিপুল অঙ্কের অর্থ গচ্ছা যাওয়ার পর শেষ পর্যন্ত ডিপিএম (ডাইরেট প্রকিউরমেন্ট মেথড) পদ্ধতিতে আড়াইশ কোটি টাকারও বেশি অর্থ ব্যয়ে এ নদীর ড্রেজিংয়ের বড় অংশের কাজ শুরু হতে যাচ্ছে। এ কাজের দায়িত্ব নৌবাহিনী নিয়ন্ত্রিত নৌকল্যাণ সংস্থার মাধ্যমে করানো হচ্ছে। এ নিয়ে প্রাথমিক সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এখন শুধু চূড়ান্ত চুক্তি সম্পাদনের অপেক্ষা। নৌকল্যাণ সংস্থা চীনের চায়না হারবার ইঞ্জিনিয়ারিং প্রতিষ্ঠান থেকে প্রযুক্তিগত সহায়তা নিচ্ছে। বন্দর সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। উল্লেখ্য, মালয়েশিয়ার এমএমডিসি নামের একটি প্রতিষ্ঠান ২২৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্পের কাজ পাওয়ার পর যতসামান্য সম্পন্ন করে ১৬৫ কোটি টাকা রানিং বিল নিয়ে উধাও হয়ে যায়। এ ঘটনার পর মামলা মোকদ্দমা হয়েছে। আরবিট্রেশন হয়েছে। কিন্তু এতে রায় গেছে বন্দর কর্তৃপক্ষের বিপরীতে। এ অবস্থায় ক্রমাগতভাবে কর্ণফুলী নদীর ভরাট পরিস্থিতি অবনতিশীল হওয়ায় শেষ পর্যন্ত নৌবাহিনীর মাধ্যমে ড্রেজিং কাজের পরিকল্পনা গৃহীত হয়। যার চূড়ান্ত পরিণতি হচ্ছে নৌকল্যাণ সংস্থা দিয়ে এ কাজ সম্পন্ন ও পরবর্তীতে মেইনটেনেন্স করানো। এ মাসে একেবারে শেষ দিকে অথবা আগামী মাসের শেষ দিকে এ ব্যাপারে চূড়ান্ত চুক্তি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে বন্দর সূত্রে জানানো হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান দফতর সূত্রে জানানো হয়েছে, কর্ণফুলী তলদেশ থেকে ন্যূনতম ৪ ফুট গভীরতায় এ ড্রেজিং কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে। ‘সদরঘাট থেকে বাকলিয়ার চর নাব্যতা রক্ষা প্রকল্প’ নামে এর অনুমোদন দিয়েছে মন্ত্রণালয়। ২৫৮ কোটি টাকার এ প্রকল্পের জন্য মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিয়েছে। ড্রেজিং কাজে বিশেষ করে নদীর তলদেশ থেকে বালি ও মাটি উত্তোলনের পর তা বন্দরের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা থাকলেও ইতোপূর্বে তা কখনও প্রতিপালিত হয়নি। বালি ও মাটি বিক্রি করেই বিপুল অংকের অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে ইতোপূর্বে ‘ক্যাপিটাল ড্রেজিং’ কাজে নিয়োজিত মালয়েশিয়ান সে কোম্পানিটি। এবার নৌকল্যাণ সংস্থা দিয়ে এ কাজ শুরু হলে অনুরূপভাবে উত্তোলিত বালি ও মাটি দুটি পৃথক স্থানে ভরাট করে তাতে বঙ্গবন্ধু মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি প্রতিষ্ঠা করার পরিকল্পনা হয়েছে। এ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেয়া হয়েছে বহু আগে। প্রথমে চট্টগ্রামে সরকারী মালিকানার মেরিন একাডেমিকে অনুরূপ বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেয়া হলেও পরবর্তীতে তা থেকে সরে আসে নীতিনির্ধারক মহল। অর্থাৎ পৃথক সত্তায় বঙ্গবন্ধুর মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। জানা গেছে, হালদার চর ও বাকলিয়ার চরের বিশাল এলাকা ড্রেজিংয়ের মাটি ও বালি দিয়ে ভরাট করে এর ওপরে বঙ্গবন্ধু মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রাথমিক পরিকল্পনা রয়েছে।

বর্তমানে কর্ণফুলী নদীর সার্বিক অবস্থা খুবই নাজুক। তৃতীয় কর্ণফুলী সেতুর উজান থেকে নেমে আসা পলি মাটির আগ্রাসন অব্যাহত রয়েছে। যা বন্দরে সদরঘাট জেটি পেরিয়ে এগিয়ে চলেছে। এ নদীতে ছোট ছোট চর জেগে উঠেছে বহু আগে। তার ওপর রয়েছে এ নদীর দু’পাড়জুড়ে অবৈধ দখল চিত্র। সঙ্গে রয়েছে দূষণের আগ্রাসন। অবৈধ দখল উচ্ছেদে আদালতের রায় অদ্যাবধি বাস্তবায়ন হয়নি। যেখানে রয়েছে ৬ হাজারেরও বেশি অবৈধ স্থাপনা। আর মহানগরীর সব ধরনের বর্জ্য এ নদীর পানিকে ক্রমাগত দূষিত করে চলেছে।

এ অবস্থায় দীর্ঘদিন পরে হলেও বন্দর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বাংলাদেশ নৌবাহিনীর নিয়ন্ত্রিত নৌকল্যাণ সংস্থার মধ্যে নানা আলাপ-আলোচনা শেষে ডিপিএম পদ্ধতিতে এ নদীর বড় অংশে ড্রেজিংয়ের প্রকল্প গৃহীত হয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ আশা করছে এবার এ নদীটি ক্রমাগতভাবে ভরাটের আগ্রাসন থেকে রক্ষা করা যাবে। কেননা, প্রকল্প কাজ সম্পন্ন হওয়ার পরও নির্ধারিত সময়ের জন্য মেইনটেনেন্স কর্মকা- চালানো হবে। তবে ক্যাপিটাল ড্রেজিং প্রকল্প থেকে যে ১৬৫ কোটি টাকা মালয়েশিয়ার ওই কোম্পানি হাতিয়ে নিয়েছে তাতে ক্ষতির দিকটি একেবারে বেশি না হলেও কম নয়। কেননা, ওই কোম্পানিটি ড্রেজিং কাজ শুরু করার পর একদিকে উত্তোলিত মাটি ও বালি যেমন চোরাপথে বিক্রি করে দিয়েছে, তেমনি নদীপাড়ে স্তূপ করে রাখা বালি ও মাটি বর্ষা মৌসুমে আবারও নদীতেই পড়েছে। ফলে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। তবে বন্দর কর্তৃপক্ষ বলেছে, উত্তোলিত মাটি ও বালি দিয়ে সদরঘাট থেকে কর্ণফুলী সেতুর আগ পর্যন্ত ভরাট করে দু’লেনের সড়ক নির্মিত হয়েছে। যা দিয়ে বর্তমানে ফিরিঙ্গিবাজার হয়ে কর্ণফুলী সেতু পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু হয়েছে।