১৭ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

চাঁপাইয়ে দেশী গরুতে ঠাসা বাজার, ভারতীয় মোষ যাচ্ছে অন্যত্র


স্টাফ রিপোর্টার, চাঁপাইনবাবগঞ্জ ॥ কোরবানির ঈদ সামনে রেখে জমে উঠেছে জেলার ছোট-বড় ১৮ পশুর হাট। জেলায় এবার গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া মিলিয়ে কোরবানির চাহিদা দেড় লাখ। এর মধ্যে গরুর চাহিদা প্রায় ৭৫ হাজার। পশু পালন ও পশু সম্পদ বিভাগ সূত্র নিশ্চিত করেছে, চাহিদার তুলনায় এবার জেলায় প্রায় শতাধিক খামারে কোরবানির জন্য প্রায় এক লাখের বেশি দেশী পোষা গরু প্রস্তুত। উদ্বৃত্ত গরু দেশের বিভিন্ন হাটবাজারে নিয়ে যাবে খামারিরা নতুবা পাইকাররা। পাশাপাশি বৈধ পথে বেশ কটি করিডর দিয়ে আসা শুরু হয়েছে ব্যাপক হারে পশু। যার কারণে বাজারে গরুর মূল্য এবার অনেকটাই নাগালের মধ্যে রয়েছে বলে জানা গেছে। এদিকে করিডর দিয়ে বৈধ পথে গরু আসায় বেড়েছে রাজস্ব আয়।

তবে এবার লক্ষ করা যাচ্ছে, সীমান্ত পথে বৈধ-অবৈধভাবে গরুর চেয়ে অধিক হারে মহিষ আসছে। মহিষ আসার ব্যাপারে ভারতীয় আইন প্রয়োগকারী সংস্থার তেমন কোন বাধা বা কড়াকড়ি নেই। তবে অধিকাংশ মহিষ বয়সের দিক দিয়ে বুড়ো ও অচল। এক কথায় চাষ অনুপযোগী। এ ছাড়াও যেসব মহিলা মহিষ সন্তান ধারণে অক্ষম কিংবা সন্তান ধারণের বয়স পেরিয়েছে সেসব পেড়ি মহিষ কোরবানি উপলক্ষে এপারে ঠেলে দেয়ার প্রবণতা ভারতীয় মহিষ মালিক ও আইন প্রয়োগকারীদের সব চেয়ে বেশি। তাই এবার বিভিন্ন যানবাহনে গরুর বদলে মহিষ যাচ্ছে অধিক হারে। সীমান্তের একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে, গত জুন মাসে চাঁপাই সীমান্ত পথে ৬১ হাজার মহিষ এসেছে। জুলাই মাসের চার সপ্তাহে মহিষ আসার পরিমাণ ৭০ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। পাশাপাশি আগস্ট মাসের ২১ তারিখ পর্যন্ত মহিষ আসার পরিমাণ ৯০ হাজার ছুঁই ছুঁই করছে। সীমান্ত এলাকা থেকে পাওয়া খবরে জানা গেছে, মালদহ ও মুর্শিদাবাদ সীমান্তের ভারতীয় এলাকায় পাঁচ লাখের অধিক মহিষ জড়ো করা হয়েছে। যা কোরবানির আগ পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রবেশ অব্যাহত থাকবে। তবে জেলার প্রধান হাট তর্তিপুর, খাসের হাট, আড়গাড়া, মনাকষা, সোনাইচ-ী, মল্লিকপুর, রহনপুর, গোহালবাড়ী ও বটতলা এবং রামচন্দ্রপুরে দেশী গরুর সংখ্যা সব চেয়ে বেশি। তবে তর্তিপুর, খাসের হাট, আড়গাড়া, সোনাইচ-ী ও রামচন্দ্রপুরে দেশী গরুর পাশাপাশি ভারতীয় গরুর ঢল নেমেছে। সীমান্তের বিভিন্ন বিট/খাটাল ও করিডর দিয়ে এসব ভারতীয় গরু এসেছে। তবে বাখের আলী সীমান্ত পথে আসা গরু জমা হচ্ছে তর্তিপুর ও রামচন্দ্রপুর হাটে। দেশের বিভিন্ন জেলার পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা এসব ছোট গরু কিনে নিয়ে যাচ্ছে। তবে ঈদকে সামনে রেখে দেশী গরু বেশি দামে কেনাবেচা হচ্ছে। শিবগঞ্জ সীমান্তের ৭টি ইউনিয়নের প্রায় প্রতিটি ঘরে কোরবানির জন্য গরু মোটাতাজাকরণ বা পোষা হয়েছে। তবে এসব গরু একসময়ে বা বছর খানেক বা তারও বেশি আগে ভারত থেকে কম দানে কিনে এনে বাড়িতে পোষা হয়েছে। যার কারণে তিন থেকে চার গুণের অধিক লাভে বিক্রি করতে পারছে। প্রায় প্রতিটি গ্রামে এই ধরনের পোষা গরুর সংখ্যা বেশি হওয়ার কারণে স্বাভাবিকভাবেই হাটবাজারে গরুর দাম কমে গেছে। ৮০ থেকে ৮৫ কেজি মাংস হবে এমন গরুর দাম ৪০ থেকে ৫০ হাজার টাকার মধ্যে কেনাবেচা হচ্ছে। এসব হাটে এক লাখ টাকার উর্ধে কোন গরু কেনাবেচা হচ্ছে না। ৫টি হাট ঘুরে দেখা গেছে, এখন পর্যন্ত এসব হাটে কোন গরু লাখ টাকার ওপরে বিক্রি হয়নি। ক্ষেত্রবিশেষে ১ লাখ ১০ হাজার থেকে ২০ হাজার পর্যন্ত বিক্রির নজির থকালেও পরিমাণ খুবই কম। তবে এই জেলার মানুষ মহিষের মাংস তেমনভাবে পছন্দ না করার কারণে অধিকাংশ ভারতীয় মহিষ চলে যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়।