১৭ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ইলিফ চাহনা বাহে, শেখের বেটিক খালি একখানবার দেখিবার দেও’


ইলিফ চাহনা বাহে, শেখের বেটিক খালি একখানবার দেখিবার দেও’

সাজেদুর রহমান শিলু, দিনাজপুর থেকে ॥ ‘ইলিফ চাহনা বাহে, শেখের বেটিক খালি একখানবার দেখিবার দেও।’ এই আকুল আকুতি প্রায় শতবর্ষী বৃদ্ধ মোঃ ফকদুলের। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে তার কোমর। বয়সের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ক্ষয়ে যাওয়া এক খণ্ড বাঁশের লাঠিতে ভর করে ছেঁড়া দু’রঙের স্পঞ্জের স্যান্ডেল পরে হেঁটে তিনি এসেছেন প্রায় ৩ কিলোমিটার দূরবর্তী বিরল উপজেলার গড়বাড়ি গ্রাম থেকে। সঙ্গে রয়েছে ১৪ বছরের কিশোর নাতি সাইদুর রহমান। প্রধানমন্ত্রীকে দেখতে নয়, সাইদুর এসেছে দাদার আগ্রহের কারণে।

দৃশ্যপট দিনাজপুর বিরল উপজেলার তেঘরা স্কুল মাঠ। সময় ২০ আগস্ট দুপুর সাড়ে ১১টা। স্কুলের বিশাল মাঠটি তখন কানায় কানায় মানুষে পরিপূর্ণ। হাজার মানুষ অধীর আগ্রহে প্রতীক্ষা করছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আগমণের। যিনি শত কাজ ফেলে ছুটে এসেছেন দিনাজপুরের বানভাসী মানুষদের দেখতে। তাদের দুঃখ-কষ্টের সমব্যাথী হতে। চরম এই বিপদের দিনে তাদের পাশে দাঁড়াতে। কথা বলে জানা গেল, গড়বাড়ি এলাকা থেকে লাঠিতে ভর করে পায়ে হেঁটে এসেছেন এই বৃদ্ধ। নাম ফকদুল। বয়স প্রায় ৯৬ বছর। আলাপচারিতায় তিনি জানালেন, বঙ্গবন্ধুর ডাকে সাড়া দিয়ে পিতা-মাতা ও বোনকে ফেলে রেখে একাত্তরের মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিতে চলে যায় তার একমাত্র পুত্র সোলেমান। দেশ স্বাধীন হলে সকলে একে একে ঘরে ফিরে এলেও, ফিরেনি সোলেমান। বছরের পর বছর ছেলের প্রতীক্ষায় বসে থেকে অবশেষে ফকদুল এক সময় বুঝতে পারেন, সলেমান আর কোনদিনও ফিরবেন না। সে হারিয়ে গেছে না ফেরার দেশে।

ফকদুল জানালেন, পঁচাত্তরের ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যার খবর রেডিওতে শুনে তিনি সারাদিন অঝোর ধারায় কেঁদেছিলেন। ভেবেছিলেন, দেশটা আবার পাকিস্তান হয়ে যাবে না তো? শেখ হাসিনা দেশে ফেরার পর তিনি আবার আশাবাদী হয়ে উঠলেন। তার মনে বদ্ধমূল ধারণা জন্মায়, শরীরে একবিন্দু রক্ত থাকা পর্যন্ত, শেখের বেটি হাসিনা, দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব কোনভাবেই খর্ব হতে দেবেন না। এরপর শক্ত হাতে দেশের হাল ধরে, শেখের বেটি দেশকে উন্নয়নের জোয়ারে ভাসিয়ে দেন। সেই থেকে শেখের বেটিকে সামনে থেকে দেখার বাসনা ফকদুলের। ইতোপূর্বে শেখ হাসিনা বেশ কয়েকবার দিনাজপুরে এলে তিনি অনেক চেষ্টা করেছিলেন, সামনে থেকে এক পলক তাকে দেখতে, কিন্তু পারেননি। আজ জীবনের শেষপ্রান্তে এসে ফকদুল তাই এবার মরিয়া হয়ে এসেছেন, তার প্রিয় নেত্রীকে সামনে থেকে শুধু একটিবার দেখতে।

সর্বাধিক পঠিত: