২২ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৯ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

হজে যাওয়া হলো না ১২২৫ জনের


আজাদ সুলায়মান ॥ শেষ পর্যন্ত হজে যাওয়া হচ্ছে না ১২২৫ জনের। নির্দিষ্ট সময়ে টাকা জমা দিয়েও মাঠপর্যায়ে দালালদের প্রতারণা, মক্কা মদীনায় বাড়ি ভাড়া জটিলতা, মৃত্যু, অসুস্থতা ও অন্যান্য কারণে এসব হজযাত্রীর ভিসা করা সম্ভব হয়নি। গতকাল শনিবার পর্যন্ত তাদের স্বপক্ষে কোন ধরনের ভিসা লজমেন্ট হয়নি। ফলে আজ সোমবার সৌদি দূতাবাসের অফিস খোলা থাকলেও তারা এ সুবিধা নিতে পারছেন না। আশকোনা হজ অফিসের পরিচালক সাইফুল ইসলাম জানান, শনিবার পর্যন্ত ১ লাখ ২৫ হাজার ৮৭৫ জনের ভিসা হয়ে গেছে। এ হিসাবে আর প্রায় হাজার খানেক বাকি থাকে। কিন্তু সেটা আজ সোমবার কতদূর কি হয় তা বলা মুশকিল।

এদিকে সর্বশেষ শনিবার রাত পর্যন্ত মোট ৮৫ হাজার ১২৩ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সে গেছেন ৪১ হাজার ৬৬ জন এবং সৌদি এ্যারাবিয়ান এয়ারলাইন্সে গেছেন ৪৪ হাজার ১২৩ জন।

হজ অফিস সূত্রে জানা গেছে, এ বছর বিপুলসংখ্যক হজযাত্রীর ভিসা পাওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছিল। এ নিয়ে এজেন্সিগুলোর গাফিলতি ও টালবাহানা নিয়ে ব্যাপক অভিযোগ উঠায় কঠোর অবস্থান নেয় ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংসদীয় কমিটি। এ কমিটির সভাপতি বি এইচ হারুন বার বার এজেন্সিগুলোকে সতর্ক করেন। এমনকি গত শুক্রবার তিনি আশকোনা হজ অফিসে বসে সাংবাদিকদের সামনে এজেন্সিগুলোকে চব্বিশ ঘণ্টার কঠোর আল্টিমেটাম দিয়ে বলেন, এ সময়ে হজযাত্রীর ফ্লাইটের নিশ্চয়তা না দিলে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির লাইসেন্স বাতিল ও জরিমানা করা হবে। মূলত এরপরই এজেন্সিগুলো আশকোনা অফিসে পাসপোর্ট জমা দিতে ভিড় জমায়।

যারা টাকা নিয়ে ভিসা দেয়নি তাদের বিরুদ্ধে কি ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হবে জানতে চাইলে বি এইচ হারুন এমপি জনকণ্ঠকে বলেন, এবার আর কাউকে ছাড়া হবে না। তাদের চিহ্নিত করে কঠোর শাস্তি দেয়া হবে। বার বার এ ধরনের অপরাধ করে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার অধিকার কারোর নেই।

কেন এত সংখ্যক যাত্রী এবার যেতে পারবে না হজে জানতে চাইলে হাব মহাসচিব শাহাদত হোসেন তসলিম জনকণ্ঠকে বলেন, এটা বলতে পারেন সিস্টেম লস। এজন্য কাউকে দায়ী করা যাবে না। মোট সোয়া এক লাখ হজযাত্রীর মধ্যে হাজারখানেক নানা কারণেই যেতে পারছেন না। যেমন এদের মধ্যে রয়েছে মৃত্যুজনিত কারণ। একটি পরিবারের ছয়জন টাকা জমা দেয়ার পর একজন মারা যাওয়ায় ওই পরিবারেরর বাকিরা হজে যাওয়ার সিদ্ধান্ত পাল্টান। একইভাবে কতিপয় যাত্রী রয়েছেন যাদের সঙ্গে পাওনা দাওনা নিয়ে মাঠ পর্যায়ের দালাল বা মোয়াল্লেমের সঙ্গে বিরোধ দেখা দেয়ায় বাদ পড়তে হয়েছে। অনেকে অসুস্থতার জন্য যেতে অপারগতা প্রকাশ করেছেন। আবার মক্কা মদিনায় বাড়ি ভাড়া বা মোয়াল্লেম ফি বাড়ানোর বিষয়টি মেনে নিতে পারায় ভিসা করতে পারছেন না। এসব কারণেই মূলত হাজারখানেক বাদ পড়তে পারেন। তবে আজ সোমবারও হয়ত কিছু পাসপোর্ট ভিসার জন্য দূতাবাসে পাঠানো হতে পারে।

এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শনিবার রাত পর্যন্ত আশকোনা হজ অফিসে রিপ্লেসমেন্ট কোটা বাড়িয়ে বর্তমান ১৫ শতাংশ থেকে আরও ৫ শতাংশ বৃদ্ধি করার জন্য দেন-দরবার করেছেন বেশ কজন মোয়াল্লেম। রিপ্লেসমেন্টের দরুন মাঠপর্যায়ের বেশ কিছু সংখ্যক প্রতারণার শিকার হওয়ায় এখন তাদের নিয়ে শেষ মুুহূর্তের দৌড়ঝাঁপ করছে এজেন্সিগুলো।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের পরিচালক আলী আহসান বাবু জানান, হজযাত্রী সঙ্কটে এখন পর্যন্ত বিমানের ২৪টি ফ্লাইট বাতিল হয়েছে। তবে রবিবার কোন ফ্লাইট বাতিল হয়নি। হজ ফ্লাইটের ঘোষিত নির্দিষ্ট সময় যতই ঘনিয়ে আসছে হজযাত্রী পরিবহনের সংখ্যা ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ কারণে আর ফ্লাইট বাতিল হওয়ার কোন কারণ নেই।

জানা গেছে, গত শনিবার বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ও সৌদি এয়ারলাইন্সযোগে একদিনেই ৫ হাজার ১৪ জন হজযাত্রী সৌদি পৌঁছেছেন। এর মধ্যে বিমানের ৮টি ও সৌদি এয়ারলাইন্সের ৬টি ফ্লাইট ছিল।

এদিকে শনিবার বাংলাদেশ হজ অফিস মক্কার কনফারেন্স কক্ষে প্রশাসনিক দলের দলনেতা এবং ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ফয়েজ আহমেদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে হজ প্রশাসনিক দলের নিয়মিত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় বাংলাদেশ থেকে আগত হজযাত্রীদের প্রাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়। অন্যদিকে মক্কাস্থ কনসাল মোঃ আবুল হাসান মোয়াচ্ছাছার অফিসে জামারাতে পাথর নিক্ষেপ সম্পর্কিত বিষয়ে এক জরুরী সভায় মিলিত হন।

এ বছর হজ পালনে সৌদি আরবে এখন পর্যন্ত ১৭ হজযাত্রী মারা গেছেন। তাদের মধ্যে পুরুষ ১৬ জন এবং ১ জন মহিলা হজযাত্রী রয়েছেন।