২১ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কোরবানির গরুর চামড়া ঢাকায় প্রতি বর্গফুট ৫০-৫৫ টাকা


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহের জন্য দাম নির্ধারণ করে দেয়া হয়েছে। ট্যানারি মালিকরা ঢাকায় প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া কিনবেন ৫০-৫৫ টাকায়, ঢাকার বাইরে এর দাম হবে ৪০-৪৫ টাকা। এছাড়া সারাদেশে খাসির চামড়া ২০-২২ টাকা, ছাগল ১৫-১৭ টাকা এবং মহিষের চামড়া আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে দাম নির্ধারণের কথা জানিয়ে দিয়েছে সরকার। চামড়া পাচার রোধে ঈদের পর থেকে ৩০ দিন পর্যন্ত বিশেষ নজরদারি থাকবে। সীমান্ত এলাকায় পুলিশ ও বিজিবি (বর্ডার গার্ড অব বাংলাদেশ) এই নজরদারি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। রবিবার সচিবালয়ে চামড়াশিল্পে জড়িত ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেন বাণিজ্যমন্ত্রী। বৈঠক শেষে আলাপ-আলোচনার ভিত্তিতে চামড়ার দাম নির্ধারণ করা হয়। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ।

নির্ধারিত এই দাম লবণযুক্ত চামড়ার জন্য প্রযোজ্য হবে, নাকি লবণ দেয়ার আগে; সে বিষয়ে অনুষ্ঠানে কোন সিদ্ধান্ত হয়নি। কাঁচাচামড়া ব্যবসায়ী ও ট্যানারি মালিকদের টানাপোড়েনের মধ্যে মন্ত্রী বিষয়টি প্রচলিত নিয়ম-পদ্ধতি ও বাজারের ওপর ছেড়ে দেন। গত বছর ট্যানারি ব্যবসায়ীরা ঢাকায় প্রতি বর্গফুট লবণযুক্ত গরুর চামড়া ৫০ টাকা এবং ঢাকার বাইরে ৪০ টাকায় কিনেছেন। এছাড়া খাসির লবণযুক্ত চামড়া ২০ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৫ টাকায় সংগ্রহ করা হয়েছিল। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে দাম বাড়লেও দেশে এবার চামড়ার দাম গতবারের মতোই রাখা হয়েছে। চামড়া শিল্প সাভারে স্থানান্তরের পর এমনিতে মালিকরা চাপে রয়েছেন। এ কারণে ভারতে বা অন্য দেশে দাম একটু বেশি হলেও দেশে দাম বাড়ানো হয়নি।

বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, সরকার এ বছর চামড়াকে প্রোডাক্ট অব দ্য ইয়ার ঘোষণা করেছে। ২০২১ সালের মধ্যে চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য রফতানি করে সরকার ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার আয়ের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এ লক্ষ্য অর্জনে সংশ্লিষ্ট সকলকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে। আগামী ১৬ নবেম্বর দেশে লেদার কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। তিনি বলেন, এক জেলার কাঁচা চামড়া অন্য জেলায় যেতে পারবে, তবে বিদেশে পাচার হবার সুযোগ দেয়া হবে না। পাচার রোধে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিজিবি ও পুলিশ বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তোফায়েল আহমেদ বলেন, চামড়া সংরক্ষণের জন্য লবণ একটি গুরুত্বপূর্ণ পণ্য। দেশে খাবার ও চামড়ায় ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় এনে ৫ লাখ মেট্রিক টন অপরিশোধিত লবণ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। সে মোতাবেক লবণ আমদানির জন্য এলসি খোলা হয়েছে। আসন্ন কোরবানি ঈদের আগেই আমদানিকৃত লবণ দেশে আসবে।

ঢাকা জেলা চামড়া ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক রবিউল আলম অনুষ্ঠানে বলেন, ঢাকায় এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চামড়া স্থানান্তরে বিধি-নিষেধ রয়েছে। এর ফলে চামড়া সংরক্ষণে জটিলতার সৃষ্টি হয়। ধানম-ি এলাকার দৃষ্টান্ত টেনে তিনি বলেন, এখানে কোথায় চামড়া সংরক্ষণ করা যাবে? স্থানীয় অধিবাসীরা এটা করতে দেয় না। বেরাইদ, সাভারের মতো উপশহরে এটা সংরক্ষণ করা হয়। তাই জেলার ভেতরে যেন চামড়া স্থানান্তর করা যায়, সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

তিনি ভারতে চামড়া পাচার ঠেকাতে ঢাকার আশপাশের বিভিন্ন ব্রিজ ও ফেরিঘাটে নজরদারি বাড়ানোর পরামর্শ দিলে মন্ত্রী বৈঠকে উপস্থিত পুলিশ প্রতিনিধির দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। সেই সঙ্গে সীমান্তে অন্তত এক মাস বিশেষ নজরদারির পরামর্শ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিজিবি ও পুলিশের প্রতিনিধি পৃথকভাবে মন্ত্রীকে জানান, তারা এ বিষয়ে আলাদা সভা করেছেন। পাচার ঠেকাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থাই তারা নেবেন। শিল্প সচিব মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বৈঠকে বলেন, হাজারীবাগে ১৫৫টি ট্যানারি ছিল। এর মধ্যে ৬৭টি সাভারে চালু হয়ে গেছে। এ মাসের মধ্যে ১০০ ট্যানারি চামড়া শিল্প নগরীতে চালু হয়ে যাবে বলে তারা আশা করছেন।

সাভার চামড়া শিল্প নগরীর সিইটিপি ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা হয় না বলে অভিযোগ পাওয়ার কথা জানিয়ে সচিব বলেন, এ বিষয়ে ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। এখন দুটি সিইটিপি ২৪ ঘণ্টা চালু রাখা হয়। বাকি দুটো পরবর্তীতে চালু হবে।

তিনি জানান, ইতোমধ্যে চামড়া শিল্প নগরীতে পানি সংযোগের ব্যবস্থা হয়েছে। আর গ্যাস সংযোগের ক্ষেত্রে যে নীতি নেয়া হয়েছে, তাতে আবেদন করলে তারপর সংযোগ দেয়া হবে। সেজন্য কিছু অবকাঠামো তৈরি করা প্রয়োজন। তাতে কিছুটা সময় লাগবে। শিল্প সচিব বলেন, সাভারে যেসব আধুনিক কারিগরি বিষয় যুক্ত করা হচ্ছে, তাতে একটি আধুনিক চামড়া শিল্প নগরীতে পরিণত হবে। এখানকার কঠিন বর্জ্য দিয়ে বিদ্যুত উৎপাদন করা যেতে পারে। পাঁচ মেগাওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুত উৎপাদন করা সম্ভব। এ বিষয়ে ঢাকার ডিসির সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনেরও সহযোগিতা চেয়েছি। ট্যানার্স এ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, জমির দলিল না পেলে তারা ব্যাংক ঋণ নিতে পারছেন না। এ বিষয়ে তিনি বাণিজ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস এ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ মাহিন বলেন, আগে যে দামটা (জমির) ছিল আমরা সেটাই দিতে চাই। এখন সিইটিপির দামসহ আমাদের কাছে চাওয়া হচ্ছে। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে দেয়া অর্থমন্ত্রীর চিঠি আমাদের কাছে আছে, যেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, সিইটিপির দাম সরকার পরিশোধ করবে। এ সময় শিল্প সচিব বলেন, এর সুরাহা করতে হলে একনেকের অনুমতি লাগবে। শিল্পমন্ত্রী বিষয়টি দেখবেন-এমন আশা প্রকাশ করে এ বিষয়ে নিজেও কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন বাণিজ্যমন্ত্রী।

এদিকে, ট্যানার্স এ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, বছরে বাংলাদেশ থেকে ২২ কোটি বর্গফুট চামড়া পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৬৪ দশমিক ৮৩ শতাংশ গরুর চামড়া, ৩১ দশমিক ৮২ শতাংশ ছাগলের, ২ দশমিক ২৫ শতাংশ মহিষের এবং ১ দশমিক ২ শতাংশ ভেড়ার চামড়া। এর অর্ধেকের বেশি আসে কোরবানির ঈদের সময়।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: