২০ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

তিস্তার চর থেকে সংজ্ঞাহীন হাত বাঁধা গৃহবধূকে উদ্ধার


স্টাফ রিপোর্টার, নীলফামারী ॥ মাকে বেঁধে রেখে তিন সন্তানের জননী মেয়েকে তুলে নিয়ে গেছে স্থানীয় কিছু দুর্বৃত্ত। শনিবার গভীর রাতে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের দুর্গম চর ছাতুনামায় এ ঘটনা ঘটে।

রবিবার বেলা এগারোটায় ডিমলা থানা পুলিশ এলাকাবাসীর সহায়তায় ঘটনাস্থল থেকে এক কিমি. দূরে তিস্তার দুর্গম চর থেকে ফেন্সি বেগমকে (২৫) হাত বাঁধা ও সংজ্ঞাহীন অবস্থায় উদ্ধার করে। ফেন্সি বেগমকে উদ্ধারের আগে ওই গৃহবধূর বৃদ্ধ মা ফাতেমা বেগমকে (৬০) জামাই বাড়ির উঠানে বাঁশের খুঁটিতে দড়ি দিয়ে হাত বাঁধা অবস্থায় উদ্ধার করে পুলিশ। মা-মেয়েকে উদ্ধার করে দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ফেন্সি বেগম ওই গ্রামের রশিদুল ইসলামের ও ফাতেমা বেগম ছাতুনামা গ্রামের কলিম উদ্দিনের স্ত্রী। ফেন্সি বেগমের স্বামী রিক্সা চালানোর কারণে ঢাকায় অবস্থান করছে।

এদিকে ফেন্সি বেগম গণধর্ষণের শিকারের কারণে তার শারীরিক অবস্থা খারাপ হওয়ায় তাকে বিকেলে নীলফামারী সদর আধুনিক হাসপাতালে গাইনী বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ পাহারায় তার চিকিৎসা চলছে।

ফেন্সির মা ফাতেমা বেগমের অভিযোগ শনিবার গভীর রাতে একদল দুর্বৃত্ত এসে দরজা ভেঙ্গে ঘরে প্রবেশ করে। এরপর মেয়ে ফেন্সিকে মুখ-হাত বেঁধে জোরপূর্বক তুলে নিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দিতে গেলে দুর্বৃত্তরা তাকে (ফাতেমা) জামাই বাড়ির উঠানে হাতে দড়ি ও মুখে কাপড় দিয়ে বেঁধে রেখে দেয়। দুর্বৃত্তরা তার মেয়েকে গণধর্ষণ করতে পারে বলে ধারণা করছেন তিনি। বৃদ্ধা আরও জানান, তার জামাই ঢাকায় রিক্সাচালানোয় তিনি মেয়ে ফেন্সির বাড়িতে থাকতেন। ফেন্সির দুই মেয়ে ও এক ছেলে। এরা হলো রেখা (৭), সবুজ (৫) ও পারভীন (৩)। সকালে নাতি নাতনিদের চিৎকারে এলাকাবাসী ছুটে আসে। তিনি বলেন ওরা ১০/১২ জনের বেশি এসেছিল। এদের মধ্যে এলাকার কয়জনকে চিনতে পেরেছি। এরা হলো পার্শ্ববর্তী গ্রামের মিস্টার, রহিম, দেলওয়ার ও চেতন। বাকিদের চিনতে পারলেও তাদের নাম জানি না।

এদিকে ডিমলা হাসপাতালে ভর্তির পর ফেন্সির জ্ঞান ফিরে এলেও তার শারীরিক অবস্থা দুর্বল ছিল। তবে বিকেল ৫টায় ফেন্সি বেগম সাংবাদিকদের জানান, তাকে বাড়ি থেকে জোরপূর্বক তুলে এনে মিস্টার ও রহিম নামের দুইজন ধর্ষণ করেছে। এ সময় তাদের সঙ্গে আরও ১০/১২ জন ছিল।

ঝুনাগাছ চাপানি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আমিনুর রহমান জানান, রবিবার সকালে এলাকাবাসীর কাছে ঘটনা জানতে পেরে ডিমলা থানায় খবর দেই। এলাকাটি তিস্তার দুর্গম চর হওয়ায় সেখানে যেতে ও ফিরতে অনেক সময় লাগে। পুলিশ এলে পুলিশসহ ঘটনাস্থলে গিয়ে দুর্গম চর হতে হাত বাঁধা সংজ্ঞাহীন ফেন্সি বেগমকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে ফেন্সির মাকে ফেন্সিদের বাড়ির উঠানে বাঁশের খুঁটিতে হাত বাঁধা অবস্থায় পাওয়া যায়।

ডিমলা থানার এসআই শাহাবুদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে ফেন্সি ও তার মা ফাতেমা বেগমকে উদ্ধার করে উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ফেন্সির বাবা কলিম উদ্দিনকে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। তবে কারা কি কারণে এ ঘটনা ঘটিয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তাদের লিখিত অভিযোগ পেলে বলা যাবে।