১৭ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

প্রিয় পিতার মুখ মহাজীবনের খণ্ডচিত্র


প্রিয় পিতার মুখ মহাজীবনের খণ্ডচিত্র

মোরসালিন মিজান ॥ হায় ছবি, তুমি শুধু ছবি...। জাতির জনক ছবি এখন। পুরনো ফ্রেমগুলো থেকেই খুঁজে নিতে হয় বাঙালীর অবিসংবাদিত নেতাকে। সাদা কালো আর বার বার দেখা ছবি। তবুও একবার তাকালে চোখ ফেরানো যায় না। কী যেন যাদুমন্ত্র! দারুণ আকর্ষণ করে। অধিকার করে নেয়। শোকের মাস আগস্টে ঢাকায় এমন বেশ কয়েকটি আলোকচিত্র প্রদর্শনী চলছে। সেগুলোরই একটির আয়োজক জাতীয় জাদুঘর। প্রধান মিলনায়তনের সামনের খোলা জায়গায় আয়োজন করা হয়েছে প্রদর্শনীর। বার বার দেখা ছবি। এরপরও ভেতরে কেমন যেন একটা দোলা দিয়ে যায়। বঙ্গবন্ধু ধরা দেন বাংলাদেশ হয়ে।

প্রদর্শনীতে শতাধিক ছবি। বিভিন্ন সূত্র থেকে পাওয়া। মোটামুটি দুই দেয়ালের পুরোটা জুড়ে আছে। ছোট বড় এবং মাঝারি ফ্রেমে প্রিয় পিতার মুখ। মহাজীবনের খ- চিত্র। একেবারে কিশোর শেখ মুজিবকে যেমন পাওয়া যায়, তেমনি ওঠে আসেন অবিসংবাদিত নেতা হয়ে। বঙ্গবন্ধুর হাত ধরে হেঁটে গেলে দেখা হয়ে যায় ইতিহাসের প্রধান প্রধান বাঁকগুলো। যার পর নাই ঘটনাবহুল ছিল ১৯৫৪ সাল। সে সময়ের একাধিক আলোকচিত্র শেখ মুজিবের মহান নেতা হয়ে ওঠার পূর্বাভাস দেয়। একটি ছবি তো খুবই বিখ্যাত। নদীর বুকে নৌকো ভাসিয়েছেন রাজনীতির গুরু হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী। তার সঙ্গে যোগ্য যুবনেতা হিসেবে এখানে পাওয়া যায় শেখ মুজিবুর রহমানকে। কাদের সান্নিধ্যে বেড়ে ওঠা? রাজনীতির পাঠ কাদের কাছ থেকে? ছবিটির দিকে তাকালে বেশ অনুমান করা যায়। এ বছরই পূর্ব বাংলার প্রথম সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

২১ দফার ভিত্তিতে যুক্তফ্রন্ট বিশাল ব্যবধানে বিজয়ী হলে মন্ত্রী পরিষদে জায়গা হয় শেখ মুজিবুর রহমানের। ’৭০ এর নির্বাচন তো আরও বড় ইতিহাস। এ ইতিহাসের মূল নায়ক হয়ে সামনে আসেন বঙ্গবন্ধু। নির্বাচন উপলক্ষে ডাকা সংবাদ সম্মেলন থেকে বাঙালীর নেতাকে খুঁজে নেন আলোকচিত্রীরা। নির্বাচনে ঐতিহাসিক জয়ের পরও শেখ মুজিবুর রহমানের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি হয় না পশ্চিম পাকিস্তানের ধুরন্দর নেতারা। বাঙালীকে দাবিয়ে রাখতে পুরনো নীতি অনুসরণ করে। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ ঢাকায় ইতিহাসের বর্বর গণহত্যা চালায়। সঙ্গত কারণেই আসে স্বাধীনতার ডাক। ২৬ মার্চ পাকিস্তান থেকে মুক্ত হয়ে বাংলাদেশ গড়ার ঘোষণা দেন জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রতিনিধি মহান নেতা শেখ মুজিবুর রহমান। সেদিনই তাঁকে গ্রেফতার করে নিয়ে যাওয়া হয় পশ্চিম পাকিস্তানে। সেই ছবিটা টানানো আছে দেয়ালে। ক্ষুব্ধ গম্ভীর ভেতরে আগুন পুষে রাখা শেখ মুজিবকে ঘিরে রেখেছে দুই সেনা সদস্য। কিন্তু কতদিন? নয় মাসের সংগ্রাম শেষে ঠিক ফিরে আসেন হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী। বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের আবেগঘন মুহূর্ত ধারণ করা হয়েছে আলোকচিত্রে।

প্রদর্শনীতে বিশেষভাবে ওঠে এসেছে স্বাধীন বাংলাদেশ পর্ব। সরকার ও রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে শেখ মুজিবের নানা কর্মকা- তুলে ধরার চেষ্টা হয়েছে। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে যোগ দেয়া, বিশ্ব নেতাদের সঙ্গে বৈঠক, বক্তৃতার ছবি আছে প্রদর্শনীতে।

কর্মমুখর এক একটি দিন, দেশ গড়ার সংগ্রাম এসে থেমে যায় এক সময়। সেই কালো রাত ১৫ আগস্ট কেড়ে নেয় অদ্বিতীয় শেখ মুজিবকে। এত দেখার পর ক্ষতবিক্ষত শেখ মুজিবে চোখ আটকে যায়। সব কিছু যেন থেমে যায় এখানে এসে। মন বিষন্ন হয়ে যায়। সত্যি, জাতির জনকের রক্তের কাছে ঋণী হয়ে রইল বাংলাদেশ। এই ঋণ কোনদিন শোধ হবে না।

১৫ আগস্ট শুরু হওয়া প্রদর্শনী চলবে ৩০ আগস্ট পর্যন্ত।