২৪ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সম্পর্কোন্নয়নে বাধা রোহিঙ্গা ইস্যু


হাসান নাসির, চট্টগ্রাম অফিস ॥ দেশের রাজনীতিতে ভারত-পাকিস্তান নিয়ে যতটা বিতর্ক, মিয়ানমার নিয়ে ততটা নয়। প্রতিবেশী এ দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। দীর্ঘদিন ধরে অবরুদ্ধ থাকা মিয়ানমার একটু একটু করে উন্মুক্ত হতে শুরু করেছে। বাড়ছে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য। কিন্তু খোলা হাওয়ার এ সুযোগ সেভাবে গ্রহণ করতে পারছে না বাংলাদেশ। মিয়ানমারের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটাবার পথে বড় ধরনের একটি অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে রোহিঙ্গা ইস্যু। উটকো এ ঝামেলা দু’দেশের মধ্যে জিইয়ে রেখেছে অনাস্থা এবং অবিশ্বাস। অথচ, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক যোগাযোগ পূর্বমুখী করার ক্ষেত্রে মিয়ানমারের সঙ্গে সুসম্পর্ক বড়ই প্রয়োজন।

বাংলাদেশের জন্য তিনদিক ঘেরা প্রতিবেশী ভারতের পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দেশটি হল মিয়ানমার। বিশাল প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে বৈরি সম্পর্ক রেখে কাক্সিক্ষত উন্নয়ন সম্ভব নয়। কারণ, প্রয়োজনীয় শিল্পের কাঁচামাল এবং খাদ্যপণ্য খুবই অল্প সময়ের মধ্যে আমদানি করা যায় ভারত থেকে। দীর্ঘদিনের জান্তাশাসিত মিয়ানমার এখনও পুরোপুরি গণতান্ত্রিক না হলেও ধীরে ধীরে খুলতে শুরু করেছে দেশটির দ্বার। ব্যবসা-বাণিজ্যের সম্পর্ক গড়ে উঠছে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে। বিগত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে দেশটির জিডিপি প্রবৃদ্ধি গড়ে ৮ শতাংশের অধিক। ভারতের সঙ্গে মিয়ানমারের বাণিজ্য যোগাযোগ যে হারে বাড়ছে বাংলাদেশের সঙ্গে ততটা নয় বলেই প্রতীয়মান বিভিন্ন পরিসংখ্যানে। এক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে রোহিঙ্গাসৃষ্ট সঙ্কট।

বাংলাদেশে আশ্রিত রয়েছে লাখ লাখ রোহিঙ্গা। এরা মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত। রাখাইন প্রদেশে ঘরবাড়ি থাকলেও এদের নেই নাগরিকত্বের অধিকার। নাগরিকত্বহীন এই রোহিঙ্গাদের প্রতি অনেকের সহানুভূতি থাকলেও এটাও সত্য যে, তারা নাগরিকত্বের দাবিতে কোন আন্দোলন করছে না। বরং তারা চায় বিচ্ছিন্নতা। মিয়ানমারে যেমন তাদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসসহ নানা অপকর্মের অভিযোগ রয়েছে, তেমনিভাবে বাংলাদেশে এসেও তারা জড়িয়ে পড়ছে সন্ত্রাসী কর্মকা-ের সঙ্গে। এদের আগমন এতটাই বাড়ছে যে, কক্সবাজার জেলার উখিয়াসহ সীমান্তবর্র্তী এলাকার এদেশের নাগরিকরাই কোন এক সময়ে সংখ্যালঘু হয়ে পড়ার আশঙ্কার মধ্যে রয়েছে। এ পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে ধরা পড়েছে অনেক রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী। তাছাড়া বাংলাদেশী পাসপোর্ট ধারণ করে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে গিয়ে অপকর্মের মাধ্যমে বাংলাদেশের সুনাম ক্ষুণেœর অভিযোগও রয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছিলেন, মানবিক কারণে আমরা নিরীহ রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের আশ্রয় দিয়েছি। কিন্তু রোহিঙ্গা নেতারা সন্ত্রাসী। তাদের পাওয়া গেলে ধরে মিয়ানমারের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হবে। কক্সবাজার এলাকার বাসিন্দারা জানাচ্ছেন, ব্যাপক হারে রোহিঙ্গা অভিবাসন ঘটায় সেখানকার আর্থ-সামাজিক অবস্থার ওপর বিরূপ প্রভাব পড়েছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: