২০ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বিএনপির ক্ষমতার রঙিন খোয়াব কর্পূরের মতো উবে গেছে ॥ কাদের


বিশেষ প্রতিনিধি ॥ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আন্দোলন করার মুরোদ নেই, তাই বিদেশে বসে বিএনপি নেত্রী সরকার হটানোর ষড়যন্ত্র করছেন। কিন্তু সরকার হটানোর জন্য কী ষড়যন্ত্র চলছে, কোন্ কোন্ পথ খোঁজা হচ্ছে এবং ষড়যন্ত্রে কারা কারা কলকাঠি নাড়াচ্ছে সব আমরা জানি। জামায়াতকে নিয়ে বিএনপি পুরনো খেলায় মেতে উঠেছে। বিএনপি আবারও ২০০১ সালের স্বপ্ন দেখছে। কিন্তু আমরা ২০০১ সালের পুনরাবৃত্তি বাংলাদেশে আর হতে দেব না।

শনিবার রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামী যুবলীগের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, সুপ্রীমকোর্টের রায় নিয়ে কি লাফালাফি? গর্ত থেকে বেরিয়ে এসে ঘরে বসে প্রেস ব্রিফিং। বিএনপি এখন লাফালাফির পর বুঝতে পেরেছে, ক্ষমতার রঙিন খোয়াব কর্পূরের মতো উবে গেছে।

তিনি বলেন, বিএনপি বদলায়নি, তারা বদলাবেও না। যদি তারা বদলাত তাহলে ২১ আগস্ট খুনের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের নিয়ে বিএনপি সংগঠনের কমিটিতে বড় বড় পদে যুক্ত করত না। ইতিহাসের সব ময়লা-আবর্জনা, রক্তের দাগ, বিএনপি ধারণ করে আছে। তাদের হাতে রক্তের দাগ, গণতন্ত্র তাদের কাম্য নয়। তারা ষড়যন্ত্র করে ক্ষমতায় যেতে চায়। এটা তাদের ইতিহাস। এসেছে বন্দুকের নল উঁচিয়ে। তারা এখনও অবৈধ ও ষড়যন্ত্রের পথেই ক্ষমতায় যেতে চায়।

বিএনপির সঙ্গে সংলাপের সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, খালেদা জিয়ার ভুয়া জন্মদিবস পালন করা হয় আমাদের হৃদয়ে আঘাত করার জন্য, অনুভূতিকে আঘাত করার জন্য, আমাদের উপহাস করার জন্য। তাই যারা ভুয়া জন্মদিনের নামে কেক কাটে, তাদের সঙ্গে কী আমরা সংলাপে বসব? আমাদের হৃদয়ে যারা আঘাত করে, অনুভূতিকে যারা আঘাত করে তাদের সঙ্গে কী আমরা সংলাপ করব? তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে তারা বিদ্বেষের চোখে দেখে। শেখ হাসিনাকেও বিদ্বেষের চোখে দেখে। তাদের এখন মনে বড় কষ্ট, এবার ১৫ আগস্টে আরেকটা ২১ আগস্ট কেন হলো না। আত্মঘাতী বোমা হামলায় কেন শেখ হাসিনা মরলেন না!

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপির এক নেতা (মেজর হাফিজ) বললেন, সুপ্রীমকোর্টের রায়ে একটা উপকার হয়েছে। আর একটা উপকার হয় যদি এই অবৈধ সংসদ ভেঙ্গে দেয়? এটা হাফিজ সাহেবের মামাবাড়ির আবদার। এরপর আরেককাঠি এগিয়ে বলবে, সুয়োমোটো রায় দিয়ে বিএনপিকে ক্ষমতায় বসার আয়োজন করেন! সুয়োমোটো রায় দিয়ে বিএনপির ক্ষমতায় যাওয়ার হারানো ময়ূর সিংহাসন ফিরে পাওয়ার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করলে তাদের মামাবাড়ির আবদার ষোলোকলা পূর্ণ হয়ে যায়।

বিএনপির আন্দোলন করার মুরোদ নেই দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, আমরা সব জানি, কোথায় কারা যাচ্ছে, কি আলাপ হচ্ছে, লন্ডনের খবর, দুবাইয়ের খবর, ব্যাংককের খবর, কি কি শলা-পরামর্শ। কোন্ কোন্ পথ খোঁজা হচ্ছে শেখ হাসিনার সরকারকে হটানোর জন্য। এসব খবর এই তথ্যপ্রবাহের যুগে আমরা সব জানি। কারা কারা এই ষড়যন্ত্রের কলকাঠি নাড়াচ্ছে সব খবর আমাদের কাছে আছে।

যুবলীগ নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে এই অপশক্তিকে প্রতিরোধ করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ২০০১ সালের নির্বাচন ছিল সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। ষড়যন্ত্রমূলক নির্বাচন ছিল। তবে এবারের নির্বাচন হবে পার্টিসিপেটরি, ইনক্লুসিভ, ক্রেডিবল, ফ্রি এ্যান্ড ফেয়ার। ক্রেডিবল ইলেকশনে বিএনপি আর জিততে পারবে না। এটা তারা জানে। সেজন্য আবারও ষড়যন্ত্র করছে।

দলের নেতাকর্মীদের ২০০১ সালের বিভীষিকার কথা স্মরণ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, বিএনপি আবার ক্ষমতায় এলে ২০০১ সালের চেয়েও ভয়াবহ অবস্থা ফিরে আসবে। এই জামায়াত নিয়ে তারা আবারও সেই পুরনো খেলায় মেতে উঠেছে। আমাদের চোখ-কান খোলা রাখতে হবে। সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধু এখন শোক নয়, বঙ্গবন্ধু শক্তি। এই শক্তিকে কাজে লাগাতে হবে। এবার ভুয়া জন্মদিনে বিএনপিতে কেক কাটার উৎসব ছিল না। বঙ্গবন্ধুপ্রেমী জনতার রুদ্ধরোষ ও রোষানলের মুখে এই কেক কাটার উৎসব প- হয়ে গেছে। বিষয়টি আজ এমন জায়গায়; পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া উপজেলা বিএনপির এক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বঙ্গবন্ধুর প্রতি আবেগ ও ভালবাসা থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেননি। তিনি প্রকাশ্যেই বলেছেন, আমাদের নেত্রী (বিএনপি) আজকের এই জন্মদিবসের কেক কাটার উৎসবটি একদিন আগে কিংবা একদিন পরে করলে কি হয়? কিন্তু সেই অপরাধে উপজেলার ওই নেতাকে তার সদস্যপদ স্থগিত এবং শোকজ করেছে বিএনপি। এ হলো বিএনপির আসল চরিত্র।

বিএনপি উত্তরাঞ্চলে কোন ত্রাণ দেয়নি দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, দুর্গত এলাকার কোন মানুষ বলতে পারেনি যে, বিএনপি ত্রাণ নিয়ে কোন এলাকায় গেছে। তারা দুর্গত এলাকায় গিয়ে ফটোসেশন করে এখন ঢাকায় বসে সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করছে। তারা ঘরে বসে প্রেস ব্রিফিং করে, নালিশ আর কান্নাকাটি করে। রাজনীতিতে দুর্বল ও কাপুরুষের অবলম্বন হলো কান্নাকাটি।

যুবলীগ চেয়ারম্যান ওমর ফারুক চৌধুরীর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য ড. নাসরিন আহমেদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সভাপতি এ এস এম মাকসুদ কামাল, সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য শহীদ সেরনিয়াবাত, মজিবুর রহমান চৌধুরী, ফারুক হোসেন, মাহবুবুর রহমান হিরন, আবদুস সাত্তার মাসুদ, আতাউর রহমান আতা, দক্ষিণের সভাপতি ইসমাইল চৌধুরী স¤্রাট, উত্তরের সভাপতি মাইনুল হোসেন খান নিখিল ও সাধারণ সম্পাদক ইসমাইল হোসেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: