১৮ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কমলাপুরে মানুষের ঢল, প্রত্যাশিত টিকেট না পেয়ে অনেকেই হতাশ


স্টাফ রিপোর্টার ॥ দেশের প্রায় ২০টি জেলা বন্যার কবলে। কয়েকটি জেলা উপজেলার সঙ্গে সড়ক ও রেলপথের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন। এরমধ্যে নতুন করে যুক্ত হয়েছে ভাঙ্গাচোরা রাস্তা। এ নিয়েই ঈদে ঘরমুখো মানুষের দুশ্চিন্তা। নিরাপদ ঈদ যাত্রা হবে তো। সড়ক পথে দুর্ভোগের কথা ভেবে অনেকেই রেলপথকে বেছে নেয়ার চেষ্টা করছেন। কেউ কেউ বিকল্প হিসেবে নৌ-পথকে নিরাপদ মনে করছেন। শনিবার ট্রেনের অগ্রিম টিকেট বিক্রির দ্বিতীয় দিনে কমলাপুর রেল স্টেশনজুড়ে উপচেপড়া মানুষের ভিড় দেখা গেছে। এরমধ্যে অনেকেই সড়কের দুর্ভোগের কথা চিন্তা করে ট্রেনের টিকেট কাটতে আসেন। রেল কর্তৃপক্ষও বলছে সড়ক পথে ঈদে ভোগান্তির আশঙ্কায় এবছর ট্রেনে বাড়তি যাত্রীর চাপ থাকবে। অগ্রিম টিকেট বিক্রির দ্বিতীয় দিনে কমলাপুরে এসি টিকেট না পেয়ে খালি হাতে ফিরেছেন অনেকে। তেমনি বাসেরও একই চিত্র। বাসের বেশিরভাগ টিকেট শেষ। আবার সোনার হরিণ টিকেট হাতে পেয়ে খুশিতে অনেককেই বাড়ি ফিরতে দেখা গেছে। রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক জানিয়েছেন, বন্যার কারণে ট্রেনের সিডিউল বাতিল করা হলে যাত্রীদের টাকা ফেরত দেয়া হবে। সকাল থেকে কমলাপুর রেল স্টেশনের প্রতিটি কাউন্টারের সামনেই টিকেট প্রত্যাশীদের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। এরমধ্যে অনেকেই মধ্য রাতে এসে দাঁড়িয়েছেন। কেউ এসেছেন ভোরে। শনিবার সকাল ৮টা থেকে কমলাপুর স্টেশনের ২৩টি কাউন্টার থেকে একসঙ্গে টিকেট বিক্রি শুরু হয়। এদিন দেয়া হয়েছে ২৮ আগস্টের টিকেট।

এবার কোরবানির ঈদে তিন দিনের সরকারী ছুটি শুরু হবে ১ সেপ্টেম্বর থেকে। আগের দিন বৃহস্পতিবার হওয়ায় সেদিনের টিকেটের চাহিদাই সবচেয়ে বেশি থাকবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন। শনিবার ৩১টি আন্তঃনগর ট্রেনের বিভিন্ন গন্তব্যের ২২ হাজার ৪৯৬টি টিকেট বিক্রি করা হয়। ৩৫ ভাগ কোটার জন্য সংরক্ষিত রেখে বাকি টিকেট কাউন্টার থেকে পান যাত্রীরা। এছাড়া ঈদের বিশেষ ট্রেনের ২ হাজার ৬০৬টি টিকেটও কাউন্টার থেকে বিক্রি করা হচ্ছে। টিকেটের জন্য অপেক্ষমাণ মানুষের সারি টার্মিনাল ভবন ছাড়িয়ে স্টেশনের প্রবেশপথ পর্যন্ত চলে আসে।

কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার সীতাংশু চক্রবর্তী বলেন, টিকেট প্রত্যাশীরা অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট কিনতে পারছেন। কোন যাত্রী এখন পর্যন্ত কোন ধরনের অভিযোগ জানাননি। বেশিরভাগ মানুষ টিকেট নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারছেন। এসি টিকেটের কথা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অনেকের চাহিদা থাকে এসি টিকেটের। কিন্তু সংখ্যায় কম হওয়ায় আমরা চাহিদা পূরণ করতে পারি না। এজন্য না পাওয়ার অভিযোগ যাত্রীদের।

তিনি জানান, কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে প্রতিদিন ৩১টি ট্রেনের ২২ হাজার ৪শ’ ৯৬টি টিকেট বিক্রি করা হবে। ক্রমান্বয়ে ২০, ২১ ও ২২ আগস্ট যাত্রীরা যথাক্রমে ২৯, ৩০ ও ৩১ আগস্টের অগ্রিম টিকেট কাটতে পারবেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া যাওয়ার টিকেটের জন্য শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টায় স্টেশনে এসেছেন বলে জানান বেসরকারী চাকরিজীবী কামরুজ্জামান। শনিবার সকাল ৮টায় টিকেট হাতে পান তিনি। কামরুজ্জামান বলেন, পরিবারের সবাইকে নিয়ে যাবেন। আমাদের ওই দিকে সড়কপথ ভাল, তবে সবাই বাসে চলতে পারে না। এজন্য ট্রেনে যাই। টিকেট কনফার্ম করার জন্যই আগে এসে বসেছিলাম। টিকেট পাওয়ার পর এখন ভাল লাগছে।

মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের টিকেট কাটতে আসেন যাত্রাবাড়ীর বাসিন্দা প্রবীর কর। তিনি জানান, ঢাকা মোহনগঞ্জ পর্যন্ত ভাল বাস সার্ভিস নেই। তাছাড়া মহাসড়কে দিন দিন যানজট পরিস্থিতি মাত্রা ছাড়াবে। রাস্তার অবস্থাও ভাল নয়। শুনেছি টঙ্গী থেকে নাকি জয়দেবপুর চৌরাস্তা পাড়ি দিতে সময় লাগে চার ঘণ্টারও বেশি।

তার সঙ্গে দুই বন্ধু টিকেট কাটতে আসেন জামালপুরের ট্রেন দেওয়ানগঞ্জ এক্সপ্রেসের। সোহেল ও বিল্লাল জানান, এসি টিকেট চেয়েছিলাম, পাইনি। তাই এই ট্রেনের টিকেট কাটার কথা জানান তিনি।

উত্তরবঙ্গের ট্রেনের টিকেট কাউন্টারে ভিড় ছিল সবচেয়ে বেশি। এসব ট্রেনের টিকেটের জন্য শুক্রবার দুপুর থেকেই লোকজন কাউন্টারের সামনে ভিড় করে। রাজশাহীর পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকেটের জন্য শুক্রবার দুপুর ২টায় কমলাপুরে আসা মাদ্রাসা ছাত্র মোহাম্মদ ওয়ালিউল্লাহ কাক্সিক্ষত টিকেট পেয়ে বেশ খুশি।

আরেকজন টিকেট প্রত্যাশী জানান, আমার আগে ৪ জন ১৬টা এসি টিকেট নিয়েছে। এখনই বলছে আর কোন এসি টিকেট নাই। শুধু পদ্মা ট্রেনেই তিনটা এসি বগি আছে। এতগুলো ট্রেন মিলিয়ে কি মাত্র ১৬টা টিকেট? তাহলে বাকি টিকেটগুলো গেল কই? ২০ ঘণ্টার বেশি সময় দাঁড়িয়ে থাকার পর যদি বলে টিকেট নাই তাহলে কেমন লাগে বলেন।

এসি টিকেট না থাকার বিষয়ে কমলাপুর স্টেশনের ব্যবস্থাপক সীতাংশু চক্রবর্ত্তী সাংবাদিকদের জানান, যাত্রীদের অভিযোগ সত্যি নয়। আমি নিজে গিয়ে দেখে এসেছি সার্ভারে। এসি টিকেট বিক্রি হয়ে গেছে, এগুলো কাউন্টার থেকেই বিক্রি হচ্ছে। কিছু কিছু লোক অযৌক্তিক কথা বলছে। এসি টিকেটের স্টেশন প্রতি কোটা থাকে জানিয়ে সীতাংশু চক্রবর্ত্তী বলেন কাক্সিক্ষত স্টেশনের টিকেট না পেলে পরবর্তী স্টেশনের টিকেট কেনার পরামর্শ দেন যাত্রীদের।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: