২০ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

উত্তরাঞ্চল এক সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক হবে


উত্তরাঞ্চল এক সপ্তাহের মধ্যে স্বাভাবিক হবে

স্টাফ রিপোর্টার ॥ অবশেষে উত্তরাঞ্চল থেকে কমতে শুরু করছে যমুনা নদীর পানি। যদিও এখন পর্যন্ত এ নদীর পানি সব পয়েন্টেই বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী সপ্তাহের মধ্যে উত্তরাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। পানি নেমে যাওয়ায় মধ্যাঞ্চল এবং নিম্নমধ্যাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, আগামী ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত যমুনা এবং ব্রহ্মপুত্র নদের পানি হ্রাস পাবে। অপরদিকে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। তারা জানায়, পদ্মার নদীর পানি ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত বৃদ্ধি অব্যাহত থাকবে। পানি উন্নয়ন বোর্ড আরও জানায়, দেশের প্রধান তিন নদী অববাহিকার মধ্যে দুটি অববাহিকার পানি কমছে। অপরদিকে বাড়ছে একটি অববাহিকার পানি।

এদিকে উত্তরাঞ্চল থেকে পানি নামতে শুরু করলেও মানুষের দুর্ভোগ কমেনি। কোথাও কোথাও বন্যার পানি কমলে ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন উন্মোচিত হচ্ছে। বন্যায় কাঁচা ঘরবাড়ি মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। গ্রামের পর গ্রাম ধ্বংসের চিহ্ন ফুটে উঠছে। লোকজন এখনও বাঁধে, আশ্রয় কেন্দ্রে, এবং সড়কে অবস্থান করছে। কাঁচা ঘরবাড়ি মাটিতে মিশে যাওয়ায় মাথা গোঁজার ঠাঁই নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন সাধারণ মানুষজন।

এছাড়াও পেটের পীড়াসহ নানা রোগে আক্রান্ত বানভাসিরা। তাদের জন্য বন্যায় ত্রাণ তৎপরত যেমন অপ্রতুল রয়েছে তেমনি গবাদিপশু নিয়েও বিপাকে পড়েছেন। তারা জানিয়েছেন, বন্যায় সরকারীভাবে ত্রাণ সহায়তা পাওয়া গেলেও গবাদিপশুর জন্য খাবার সংগ্রহ করা তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছেন। বন্যায় শত শত একর গবাদিপশুর কাঁচা ঘাসসহ খড়ের পালা পানিতে পচে গেছে। কোরবানির ঈদ উপলক্ষে পশু মোটাতাজাকরণ খামারিরা বেশি বিপাকে পড়েছেন। খাদ্য নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি খামারের অবকাঠামোরও ক্ষতি হয়েছে। ফলে পশু নিরাপদ স্থানে রাখা নিয়েও সমস্যা। এছাড়া কোটি কোটি টাকার মাছ বন্যায় ভেসে যাওয়ায় চাষীরা পড়েছেন বিপাকে।

এদিকে পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, দেশের উত্তরাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি ক্রমশ উন্নতি হলেও মধ্যাঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে। মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, মুন্সীগঞ্জ, শরীয়তপুরে নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন জানান, উত্তরাঞ্চলের ব্রহ্মপুত্র-যমুনার পানি হ্রাস পাওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি উন্নতি অব্যাহত থাকবে। তিস্তা-ধরলা-দুধকুমার অববাহিকায় নদীর পানি হ্রাস অব্যাহত রয়েছে। ফলে এই অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি অব্যাহত থাকবে। গঙ্গা-পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও তা বর্তমানে বিপদসীমার প্রায় ৫৬-১২৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। মেঘনা অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় উন্নতি অব্যাহত থাকবে উল্লেখ করেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সারাদেশের ১৯টি নদীর ২৮ স্টেশনে পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে যমুনা নদী। নদীটির পানি ৫টি স্টেশনে ৭৫ থেকে ১৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে সিরাজগঞ্জ এবং কাজীপুর দিয়ে বিপদসীমার ১৩৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়াও বাহাদুরাবাদ এলাকায় ১০২ সেন্টিমিটার এবং সারিয়াকান্দিতে ১শ’ সেন্টিমিটার এবং আরিচায় ৭৫ সেন্টিমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

তবে যমুনা নদীর পানি কমতে শুরু করলেও উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোতে এর প্রভাব পড়তে শুরু করেনি। কোন কোন জেলায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। কোন জেলায় বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। আবার কোথাও বন্যার পানি নামলেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির চিহ্ন উন্মোচিত হচ্ছে। গ্রামের পর গ্রাম ধ্বংসের চিহ্ন ফুটে উঠছে। কাঁচা ঘরবাড়ি মাটিতে মিশে গেছে। দুর্গতরা আশ্রয় কেন্দ্রে, বাঁধে, সড়কে অবস্থান নিয়েছেন। পাকা রাস্তাগুলো ক্ষতিগ্রস্ত, কাঁচা সড়কগুলো হয়ে পড়েছে চলাচলের অনুপযোগী। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর থেকে জানানো হয়েছে এবারের বন্যায় এখন পর্যন্ত ২৬ জেলায় ১ লাখ ৮৬ হাজার ৫৭৬টি পরিবারের ৪৮ লাখ ৩১ হাজার ৯৪৪ জন মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

নওগাঁ থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানিয়েছে, সদর উপজেলার ইকরতারা নামকস্থানে ছোট যমুনা নদীর বাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বাঁধ ভাঙ্গা পানি তুলশীগঙ্গা নদীতে পড়ে মরা তুলশীগঙ্গাকে বেগবান করে তুলেছে। বন্যাকবলিত হয়ে পড়ছে নদীর দু’পাশের বিস্তীর্ণ এলাকা। বন্যাকবলিত এলাকায় ত্রাণের জন্য হাহাকার শুরু হয়েছে। সরকারী কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ এখনও শুধু বন্যা পরিদর্শন করে চলেছেন। কোন কোন স্থানে ব্যক্তি উদ্যোগে ত্রাণ বিতরণ করা হলেও তা অত্যন্ত অপ্রতুল। বিশুদ্ধ খাবার পানির সঙ্কট চরমে। এদিকে গত ২ দিনে বন্যার পানিতে ডুবে ২ ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। মৃত ব্যক্তিরা হলেনÑ মহাদেবপুর উপজেলার আলীদেওনা গ্রামের কোমর উদ্দীনের ছেলে আজিজার রহমান (৫০) ও রাণীনগর উপজেলার কনৌজ ঋষিপাড়ার সতিশের ছেলে অজিত কুমার (৫০)।

এদিকে বন্যা পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতি হলেও নীলফামারীর অনেক এলাকার ঘরবাড়ি হতে এখনও পানি নামেনি। জলঢাকা, কিশোরীগঞ্জ ও সৈয়দপুর উপজেলার ১২ আশ্রয় কেন্দ্রে ৫০৯টি পরিবার গরু, ছাগল, হাঁস মুরগি ও আসবাসপত্র নিয়ে অবস্থান করছে। শুক্রবার এদের মধ্যে ১৮ আশ্রয় কেন্দ্রের ৯৯১ পরিবার নিজ বাড়ি ফিরে গেছে। আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে সরকারীভাবে শুকনো খাবার, চাল ও নগদ অর্থ প্রদান করা হয়েছে এবং হচ্ছে। এদিকে ১২ আশ্রয় কেন্দ্রে যে ৫০৯ পরিবার রয়েছে তারা ত্রাণ নয়, তৈরি খাবার সরবরাহের দাবি করেছে। পাশাপাশি পরিবারগুলো তাদের পালিত গো-খাদ্যের সঙ্কটে পড়েছে বলে উল্লেখ করেছে বলে নীলফামারী থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান।

কৃষি তথ্য সার্ভিসের বিজ্ঞপ্তি

এদিকে কৃষি তথ্য সার্ভিসের পক্ষ থেকে শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে , এ বছর ৫৬ লাখ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বন্যায় উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় আমন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। তবে যেসব জমিতে আমন ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সেসব জমিতে পুনরায় চারা রোপণের জন্য প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে।

এতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ইতোমধ্যে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট উপযুক্ত স্থানে আমন ধানের চারা মজুদ রয়েছে। আপদকালীন বীজতলা তৈরির কাজ চলছে। সরকারীভাবে ৭২০টি ভাসমান বীজতলা তৈরি করা হয়েছে। যেসব প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র কৃষকের আমনের চারার প্রয়োজন হবে তাদের মাঝে চারা বিতরণের জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে। কমেনি জনদুর্ভোগ। স্টাফ রিপোর্টার কুড়িগ্রাম থেকে জানান, ত্রাণ অপ্রতুল হওয়ায় দুর্গম অঞ্চলে মানুষের খোঁজখবর নিতে গেলে বন্যাকবলিত মানুষ বিরক্ত হচ্ছে। তারা অভিযোগ করছে তাদের শুধু খবর নিয়ে যায় বিনিময়ে কোন ত্রাণ পায় না। এমনকি বন্যার এ দিনগুলোতে কোন জনপ্রতিনিধি তাদের দেখতে পর্যন্ত আসেনি। তাদের কাছে পৌঁছেনি খাদ্য সহায়তা। বৃহস্পতিবার উলিপুরের বেগমগঞ্জ ইউনিয়নে কাজল নবী (৫) ও সদর উপজেলার নাজিরা ফকিরপাড়া গ্রামের ওয়াকিল লাবিব (৩) পানিতে ডুবে দুই শিশু মারা গেছে। বন্যার্ত মানুষরা তাদের ঘরবাড়িতে ফেরা শুরু করলেও অনেকের বাড়িঘর ভেসে যাওয়ায় এখনও খোলা আকাশে পরিবারপরিজন নিয়ে রাত কাটাচ্ছে।

স্টাফ রিপোর্টার দিনাজপুর থেকে জানান, ভয়াবহ বন্যায় ১৩ উপজেলায় ৫ লাখ ৮৬ হাজার ১৩টি গবাদিপশু হুমকির মুখে পড়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৭২ হাজার ৫০৫টি গরু, ১০৭টি মহিষ, ২ লাখ ১ হাজার ৯৩১টি ছাগল এবং ১১ হাজার ৪৭০টি ভেড়া রয়েছে। সঙ্কট দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের। অপরদিকে দিনাজপুরে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বেড়েছে বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ। গৃহহীন বানভাসি মানুষ এখন বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সঙ্কটে ভুগছে। সরকারী হিসাবে অনুযায়ী, প্রায় পৌনে ৫ লাখ মানুষ গৃহহীন হলেও বরাদ্দ এসেছে ৪৮৫ মেট্রিক টন চাল ও ১৬ লাখ টাকা। এতে জনপ্রতি ভাগ্যে জুটছে ১ কেজি করে চাল ও ৩ টাকা। সরকারী হিসাব মতে, বন্যায় গো-খাদ্যের ৩৪৭ একর জমির কাঁচা ঘাস ও ১ হাজার ৬৬৬ মেট্রিক টন খড় বিনষ্ট হয়েছে। ১৫ লাখ গরু, দুই হাজার ৮২৭টি মহিষ, ৯ লাখ ৩৩ হাজার ছাগল ও ১ লাখ ৩৩ হাজার ভেড়া হুমকির মুখে রয়েছে। জেলার বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হলেও বেড়েছে বানভাসি মানুষের দুর্ভোগ। গৃহহীন বানভাসি মানুষ এখন বিশুদ্ধ পানি ও খাবার সঙ্কটে ভুগছে।

পঞ্চগড় ॥ বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে। আশ্রয় কেন্দ্রে থাকা মানুষজন বাড়িঘরে ফিরতে শুরু করেছে। তবে, দেবীগঞ্জ উপজেলায় বেশকিছু আশ্রয় কেন্দ্রে বন্যাদুর্গতরা বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত অবস্থান করছিল।

বগুড়া॥ বন্যায় আক্রান্তরা এখনও বাঁধের ওপর ও শুকনো ভূমিতে আশ্রয় নিয়ে আছে। বন্যা এলাকায় বিশুদ্ধ পানি পয়ঃনিষ্কাশন বড় সমস্যা হয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদফতর যে কয়টি টিউবওয়েল জরুরী ভিত্তিতে বসিয়েছিল তার বেশিরভাগই কাজ করছে না। এমন অভিযোগ বন্যায় আক্রান্তদের।

সিরাজগঞ্জ ॥ দুর্গত এলাকায় বিশুদ্ধ পানি ও শুকনো খাবারের সঙ্কট দেখা দিয়েছে। পানিবাহিত নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে পানিবন্দী মানুষেরা। জেলার ২৮৫ টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়েছে। গবাদি পশুর খাদ্যের সঙ্কটে বিপাকে পড়েছে খামারিরা।

রংপুর ॥ গত কয়েকদিন টানা ভারি বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে রংপুর বিভাগে ১ লাখ ৭৩ হাজার হেক্টর রোপা আমন ও শাকসবজির ক্ষেত নিমজ্জিত হয়েছে। এর মধ্যে ৮৫৬ হেক্টর রোপা আমন বীজতলা ও হলুদ, আদা, কলা জাতীয় ফসল ৩৫২ হেক্টর পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। তবে কিছু এলাকায় পানি নেমে যাওয়ায় কৃষকদের এসময়গুলোতে করণীয় বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছে কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা। বিভাগীয় কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, বন্যায় ক্ষতির প্রকৃত হিসেব এখনও চূড়ান্ত হয়নি। তবে একটি খসড়া হিসেবে এবার বন্যায় রংপুরে ৩৬ হাজার ৬শ রোপা আমন, ১ হাজার ১১ হেক্টর শাকসবজি, গাইবান্ধায় ১৫১ রোপা আমন বীজতলা, ১৮ হাজার ৬৭০ রোপা আমন, ৩৪১ হেক্টর শাকসবজি, কুড়িগ্রামে ৭০৫ রোপা আমন বীজতলা, ৪৫ হাজার ১৪০ রোপা আমন, ১ হাজার ৪১৬ হেক্টর শাকসবজি, লালমনিরহাটে ৩১ হাজার ১৩৫ রোপা আমন, ২৬৫ হেক্টর শাকসবজি, নীলফামারীতে ৩৭ হাজার ৭৯০ রোপা আমন, ২৬০ হেক্টর শাকসবজি ও অন্যান্য ফসল ৩৫২ হেক্টর পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। ফরিদপুর থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, বন্যায় ফরিদপুরের তিনটি উপজেলার এক হাজার ৪১০ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে।

রাজশাহী ॥ পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় উজান থেকে ধেয়ে আসা পানির তোড়ে ফুলে ফেঁপে প্রমত্তা হয়ে উঠেছে রাজশাহীর পদ্মা। ফারাক্কা ব্যারেজ দিয়ে তুমুল বেগে মহানন্দা ছুয়ে পদ্মায় বাড়ছে স্রোত। এ অবস্থায় ফুঁসে উঠেছে স্রোতস্বিনী পদ্মা। ক্রমেই ধারণ করেছে আগ্রাসী রূপ। প্রতিদিনই বাড়ছে পানি। এতে হুমকিতে পড়েছে রাজশাহী শহর রক্ষা বাঁধ। হঠাৎ পানি বৃদ্ধিতে শঙ্কার মধ্যে রয়েছেন রাজশাহীবাসী। শুক্রবার রাজশাহীতে পদ্মা প্রায় বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই করছে। আশঙ্কা করা হচ্ছে এবার বন্যা পরিস্থিতির যেভাবে অবনতি হচ্ছে তাতে এই ধারায় পানি বাড়তে থাকলে রাজশাহীতে বিপদসীমা অতিক্রম করতে পারে। তাই বিপদ ঠেকাতে সম্ভাব্য সকল প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

টাঙ্গাইল ॥ যমুনার পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় টাঙ্গাইলের ভূঞাপুর উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। এতে লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। বন্ধ হয়ে গেছে অর্ধশতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ভূঞাপুরে যমুনা নদীতে বিপদসীমার ১৩৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। স্টাফ রিপোর্টার মুন্সীগঞ্জ থেকে জানান, ভাগ্যকূল ও মাওয়া পয়েন্টে পদ্মার পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে বইছে। এতে পদ্মা তীরবর্তী লৌহজং, টঙ্গীবাড়ি ও শ্রীনগর উপজেলার নি¤œাঞ্চলের বিস্তীৃর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে অনেক লিঙ্ক রোড ও বাড়িঘরে পানি উঠেছে। বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে লৌহজং ও টঙ্গীবাড়ি উপজেলার পদ্মার চরের মানুষগুলো। বাড়িঘরে পানি উঠায় কয়েক হাজার মানুষ কষ্টে জীবনযাপন করছে। এই বন্যার কারণে গবাদিপশু এবং হাঁস-মুরগি রক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ফরিদপুর ॥ গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়ে আরও ১৪ সে.মি বৃদ্ধি পেয়ে শুক্রবার সকাল ৬টার দিকে বিপদসীমার ১০৬ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফরিদপুর সদর, চরভদ্রাসন ও সদরপুর উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের ১৯৭টি গ্রাম বন্যাকবলিত হয়েছে। এর মধ্যে চার হাজার ২০০ পরিবারের বসতবাড়ি পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এছাড়া ৩০ হাজার ৩০০ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। পানিতে তলিয়ে গেলে বন্যাকবলিত তিনটি উপজেলার ১১০টি কাঁচা ও পাকা সড়ক।

মাদারীপুর ॥ জেলার বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। পদ্মায় অস্বাভাবিক হারে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় সৃষ্ট তীব্র ¯্রােতে দেশের গুরুত্বপূর্ণ কাঁঠালবাড়ি-শিমুলিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল মারাত্মক ব্যাহত হচ্ছে। পদ্মার পানি বৃদ্ধি পেয়ে কাঁঠালবাড়ি ঘাট এলাকায় বিপদসীমার ২৬ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ফলে কাঁঠালবাড়ির ৪ ফেরি ঘাটের ৩ ঘাট পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। অপরদিকে পানির তোড়ে মাদারীপুরের শিবচরের পদ্মাবেষ্টিত জনবিচ্ছিন্ন চরাঞ্চলের কাঁঠালবাড়ি ও চরজানাজাত, মাদবরচর ও বন্দরখোলা এবং সন্নাসীরচর ইউনিয়নে ব্যাপক নদীভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। এছাড়াও পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ৪০ হাজার মানুষ।

শরীয়তপুর ॥ নড়িয়া উপজেলার সুরেশ^র পয়েন্টে শুক্রবার বিকেলে পদ্মা নদীর পানি বিপদসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় জেলার নড়িয়া উপজেলার চর আত্রা, নওপাড়া, সুরেশ^র, ওয়াপদা, ঈশ^রকাঠি, চন্ডিপুর, চেরাগ আলী বেপারী কান্দি গ্রাম ও জাজিরা উপজেলার বিলাশপুর, বড়কান্দি, কু-েরচর, খেজুরতলা গ্রামসহ ২০ টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এসব গ্রামের ১০ হাজার লোক পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। নড়িয়া-জাজিরা সড়কের ঈশ্বরকাঠি এলাকায় সড়কটির উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হওয়ায় ওই সড়কে যান চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। গবাদি পশু ও শিশুদের নিয়ে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছে বন্যাকবলিত এলাকার মানুষ। সরকারীভাবে এখনও বন্যাদুর্গতদের জন্য ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম শুরু হয়নি।