১৯ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

বাংলাদেশীদের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকা ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে


তৌহিদুর রহমান ॥ বাংলাদেশীদের জন্য ধীরে ধীরে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রতিমাসেই দেশটির বিভিন্নস্থানে দুষ্কৃতকারীদের হতে একাধিক বাংলাদেশী নিহত হচ্ছেন। বাংলাদেশীদের নিরাপত্তা প্রদানে দেশটির সরকারের কাছে একাধিকবার আবেদনের পরও এ বিষয়ে সাড়া মিলছে না। গত চার মাসে দেশটিতে নিহত হয়েছেন ১০ বাংলাদেশী। সূত্র জানায়, গত ১১ আগস্ট শরীয়তপুরের কাজী সোহেল রানাকে দক্ষিণ আফ্রিকায় গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার কেপটাউনে একটি দোকান চালাতেন। তিনি ১৫-১৬ বছর আগে দক্ষিণ আফ্রিকায় গিয়েছিলেন। সোহেল তার দোকানে ঢোকার সময় সন্ত্রাসীরা রাস্তা থেকে গুলি করে। গুলি তার মাথায় ও পেটে লাগে। হাসপাতালে নেয়ার পর চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনি নিহত হওয়ার মাত্র দুদিন আগে ওই দোকানটি চালু করেছিলেন।

এদিকে গত ৬ আগস্ট দক্ষিণ আফ্রিকায় দুর্বৃত্তের গুলিতে ফেনীর সাইফুল ইসলাম নামে এক বাংলাদেশী নিহত হন। ২০১৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় যান সাইফুল। সেখানে তিনি একটি দোকানে কাজ করতেন। দোকানের জন্য মাল কিনতে আরও দুজনকে নিয়ে কেপটাউনে যান। ফেরার পথে দুর্বৃত্তরা তাদের গাড়ির গতিরোধ করে জিনিসপত্র ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা করে। সাইফুল দুর্বৃত্তদের বাধা দেয়ার চেষ্টা করলে তারা গুলি ছোড়ে। গুলিবিদ্ধ অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তিনি মৃত্যুবরণ করেন। এভাবে প্রায় প্রতি সপ্তাহে এক-দুজন বাংলাদেশী দুষ্কৃতদের হাতে নিহত হচ্ছেন।

সূত্র জানায়, মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার বন্ধের পর বেশ কয়েক বছর ধরে অনেক বাংলাদেশী দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে ঝুঁকেছেন। দেশটিতে ১২ হাজার বাংলাদেশী নাগরিক রয়েছেন। দক্ষিণ আফ্রিকায় এসব বাংলাদেশী ছোট ছোট দোকানপাট গড়ে তুলে ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়ে বাংলাদেশীরা শ্রমিক হিসেবে কাজ করলেও দক্ষিণ আফ্রিকার পরিস্থিতি ভিন্ন। এখানে বাংলাদেশী শ্রমিক খুবই কম। দেশটির বিভিন্নস্থানে দোকানপাট গড়ে তুলে ব্যবসা করছেন বাংলাদেশীরা। তবে কয়েক বছর ধরে দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসীদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটছে। এই হামলার ঘটনার পেছনে কারণ দুটি। প্রথমত অভিবাসী বিরোধী আন্দোলন। দ্বিতীয়ত চাঁদা না দেয়ার কারণে সন্ত্রাসী হামলা।

সূত্র জানায়, ২০১৫ সাল থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় অভিবাসী বিরোধী আন্দোলন চলছে। তারপর থেকেই অভিবাসীদের ওপর হামলা চালানো হচ্ছে। বিদেশীরা এসে স্থানীয়দের চাকরি দখল করছে, এমন ক্ষোভ থেকেই সেই অভিবাসী বিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। আর সেই আন্দোলন থেকেই একের পর এক হামলার ঘটনা ঘটতে থাকে। একই সঙ্গে বিদেশীদের পরিচালিত ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট লুটপাট হয়। এই অবস্থায় বাংলাদেশীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আফ্রিকা মহাদেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অভিবাসীরা দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাস করছে। সেসব দেশের নাগরিকরা দেশটিতে গিয়ে চাকরির বাজার দখল করছে বলে দক্ষিণ আফ্রিকানদের অভিযোগ। আর সে কারণেই সেসব বিদেশীর ওপর দক্ষিণ আফ্রিকানদের আক্রোশ। এই আক্রোশ থেকেই অভিবাসী বিরোধী আন্দোলন শুরু করে তারা। তারপর থেকেই সেখানের সকল বিদেশীর ওপরও হামলার ঘটনা ঘটে। বিদেশী মালিকানার অনেক দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে লুটপাট চলতে থাকে। এখনও সেসব ঘটনা অব্যাহত।

জানা গেছে, দক্ষিণ আফ্রিকায় মূলত জিম্বাবুইয়ে থেকে অভিবাসী বাড়ছে। জিম্বাবুইয়ে থেকে দেশটিতে কয়েক লাখ অভিবাসী অনুপ্রবেশ করেছে দাবি করছে আন্দোলনকারীরা। তাদের বিরুদ্ধেই মূলত সেই আন্দোলন। তবে সেই আন্দোলনের জন্য রেহাই পাচ্ছেন না সেখানের অন্যান্য দেশের অভিবাসীও। আর এই অভিবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশীরাও আক্রমণের শিকার হচ্ছেন।

ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে কয়েক দফায় দক্ষিণ আফ্রিকায় অবস্থিত বাংলাদেশীদের সাবধানে থাকার জন্য নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশীদের নিরাপত্তা দেয়ার জন্য দক্ষিণ আফ্রিকার সরকারের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়ে আসছে বাংলাদেশ সরকার। তবে একাধিকবার আবেদনের পরও দেশটির সরকার নিরাপত্তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে বলে জানা যায়।

এদিকে অভিবাসী বিরোধী আন্দোলনের পাশাপাশি দেশটিতে সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি বেড়েছে। বাংলাদেশীদের বিভিন্ন দোকানপাটে গিয়ে সন্ত্রাসীরা চাঁদা দাবি করছে। আর চাঁদা পরিশোধ করতে ব্যর্থ হলে হামলা চালানো হচ্ছে। হামলার পাশাপাশি হত্যাও করছে সেসব দুর্বৃত্তরা।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: