২৪ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ঈদের পর ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন করতে চায় বিএনপি


শরীফুল ইসলাম ॥ একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলের অবস্থান সুদৃঢ় করতে আসন্ন ঈদ-উল-আযহার পর ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন শুরু করতে চায় বিএনপি। তাদের আন্দোলনের প্রথম ইস্যু হবে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকার। আর এ আন্দোলনের পক্ষে জনমত তৈরি করতে ইতোমধ্যেই ভেতরে ভেতরে প্রস্তুতি শুরু করেছে দলটি। এ ছাড়াও এখন থেকে জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট অন্য কোন ইস্যু পেলে তা নিয়েও আন্দোলন করবে বিএনপি। এ বিষয়টি সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে। সূত্র মতে, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া লন্ডনে ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সরকার বিরোধী আন্দোলনসহ সার্বিক বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন। তিনি দেশে ফিরেই নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করবেন। এরপর সরকারকে চাপে ফেলতে এ ইস্যুতে আন্দোলন শুরু করবেন। এ ছাড়া আরও কোন ইস্যু সামনে এলে তা নিয়েও আন্দোলন করবে বিএনপি। তবে তাদের এবারের আন্দোলন যাতে ২০১৫ সালের লাগাতার আন্দোলনের মতো সহিংস না হয় সেদিকে সজাগ থাকতে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন মহল থেকে বিএনপির ওপর চাপ রয়েছে বলে জানা গেছে।

বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করছেন, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারকে রাজনৈতিভাবে চাপে ফেলা না গেলে বিএনপি ফলাফলে প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। আর এ জন্যই তারা আসন্ন ঈদের পর থেকেই ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন শুরু করতে চায়। ইতোমধ্যেই আন্দোলনের প্রথম ইস্যু নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা চূড়ান্ত করেছে বিএনপি। এতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ক্ষমতার বাইরে রেখে সরকার গঠন করার প্রস্তাব থাকছে বলে জানা গেছে।

জানা যায়, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে-পরে রাজপথে সরকারবিরোধী আন্দোলনে ব্যর্থ হওয়ায় বিএনপির তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের মধ্যে চরম হতাশা বিরাজ করছে। সেই সঙ্গে দলের যে সকল নেতাকর্মী আন্দোলনের সময় বিভিন্ন নাশকতামূলক কর্মকা-ে জড়িত ছিল তারা এখন বিভিন্ন মামলার আসামি। কেউ কেউ গ্রেফতার হয়ে কারাগারে। আবার অনেকে গ্রেফতারের ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে। এ সকল নেতাকর্মী এখন দলীয় কর্মকা- থেকে দূরে। তবে গতবছর জাতীয় কাউন্সিলের পর বিএনপি নেতাকর্মীরা কিছুটা গতিশীল হলেও দলীয় তেমন কর্মসূচী না থাকায় রাজনৈতিকভাবে শক্তি অর্জন করতে পারছে না তারা। এ পরিস্থিতিতে ঈদের পর ইস্যুভিত্তিক কর্মসূচী শুরু করা গেলে দল লাভবান হবে বলে বিএনপি নেতাকর্মীরা মনে করছেন।

এদিকে সময়োপযোগী কোন ইস্যু ছাড়া আন্দোলন করে সফল হওয়া যাবে না মনে করে ২০ দলীয় জোটের শরিকরাও এখন সরকার বিরোধী আন্দোলন শুরু করার বিষয়ে কোন সায় দিচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে ঈদের পরপরই নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি। আর তা করা হলে এ ইস্যুতে আন্দোলন করতে নিজ দলের পাশাপাশি ২০ দলীয় জোটের অন্য শরিক দলের নেতাকর্মীরাও উৎসাহিত হবে এমনটিই ধরে নিয়েছে বিএনপি। আর এ জন্যই আগে থেকেই বিএনপির সিনিয়র নেতারা নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবিতে আন্দোলনের কথা বলতে শুরু করেছেন।

সূত্র জানায়, ঈদের পর ইস্যুভিত্তিক আন্দোলনের কথা শুনে বিভিন্ন জেলা-উপজেলা থেকে বিএনপি হাইকমান্ডকে জানানো হয়েছে তারা এবার ঢাকার আন্দোলনের প্রকৃতি দেখে নিজ নিজ এলাকায় আন্দোলনে শরিক হবে। দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে কেন্দ্রের নির্দেশে কঠোর আন্দোলনে নেমে তারা যে শক্তিমত্তা প্রদর্শন করেছিল তাতে বেশ ক’টি এলাকা রাজধানী থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেললেও রাজধানীতে আন্দোলনের তেমন ছাপ ছিল না। যে কারণে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়-ক্ষতির পরও সে আন্দোলন ব্যর্থ হয়। তাই এবার কেন্দ্র থেকে বলার সঙ্গে সঙ্গেই তারা মাঠে ঝাঁপিয়ে পড়বে না।

তবে রাজধানীতে যেন এবার আন্দোলন আগের চেয়ে শক্তিশালী করা যায় সেজন্য ঢাকা মহানগর বিএনপিকে ইতোমধ্যেই ঢেলে সাজানো হয়েছে। এ ছাড়া বিএনপির আন্দোলনে চালিকা শক্তি ছাত্রদল, স্বেচ্ছাসেবক দল ও যুবদলকে মাঠে সক্রিয় করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বিএনপির অন্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোকেও সক্রিয় করার চেষ্টা চলছে।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভরাডুবি হয়। এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন পেয়ে জয়লাভ করে সরকার গঠন করে। এরপর রাজনৈতিকভাবে বেকায়দায় পড়ে বিএনপি। সাংগঠনিক দুর্বলতার কারণে সরকার বিরোধী আন্দোলন করতে পারছিল না দলটি। তবে ২০০৯ সালের ৮ ডিসেম্বর দলের ৫ম জাতীয় কাউন্সিল করার পর ২০১০ সালের ১ জানুয়ারি ৩৮৬ সদস্যের জাতীয় নির্বাহী কমিটি গঠন করে দলকে এগিয়ে নেয়ার চেষ্টা শুরু করে। বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার নির্দেশে দলের মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেন নতুন কমিটির নেতাদের ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

২০১২ সালে ২০ দলীয় জোট গঠন করে বিএনপি জোটগতভাবে আন্দোলন চাঙ্গা করার চেষ্টা করে। এক পর্যায়ে ২০১৩ সালের শেষের দিকে গিয়ে দেশব্যাপী আন্দোলন জোরদার করে। একের পর এক হরতাল, রাজপথ, রেলপথ ও নৌপথ অবরোধসহ আন্দোলনের কঠোর কর্মসূচী পালন করলেও শেষ পর্যন্ত সফলতা অর্জন করতে পারেনি বিএনপি। কারণ, সে আন্দোলন সহিংস হওয়ায় সাধারণ মানুষের সমর্থন পায়নি। যে কারণে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচন প্রতিহত করার ঘোষণা দিয়েও সফল হতে পারেনি বিএনপি জোট। আওয়ামী লীগ তাদের মহাজোটের শরিক দলগুলোকে নিয়ে নির্বাচন করে আবারও সরকার গঠন করে।

এদিকে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে নতুন সরকার গঠন হলে এক এক করে সারাবিশ্বের অধিকাংশ দেশই এ সরকারকে সমর্থন জানায়। এ পরিস্থিতিতে বিএনপি রাজনৈতিকভাবে চরম বেকায়দায় পড়ে। কারণ, দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে সরকারে না থাকলেও প্রধান বিরোধী দলের মর্যাদাটি বিএনপি পেত। কিন্তু দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন বর্জন করায় সেই মর্যাদাটুকুও হারাতে হয়। এ কারণে দলের বিপর্যয়কর পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু করে লাগাতার অবরোধ-হরতাল কর্মসূচী। কিন্তু নেতিবাচক এ আন্দোলনে জানমালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়ে বিএনপি। এ পরিস্থিতিতে টানা ৯২ দিন আন্দোলন কর্মসূচী চালানোর পর পিছু হটে দলটি।

২০১৫ সালের লাগাতার আন্দোলন ব্যর্থ হওয়ার পর রাজনৈতিকভাবে আর মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেনি বিএনপি। বর্তমানে শুধু দলীয় রুটিন কর্মসূচীতে সীমাবদ্ধ রয়েছে দলটি। তবে ১৫ জুলাই চেয়ারপার্সন লন্ডনে যাওয়ার পর ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে আলোচনা করে ইস্যুভিত্তিক আন্দোলন কর্মসূচী শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানা গেছে।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য লে. জেনারেল (অব.) মাহবুবুর রহমান জনকণ্ঠকে বলেন, বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়া লন্ডন থেকে দেশে ফিরে নির্বাচনকালীন সহায়ক সরকারের রূপরেখা ঘোষণা করবেন। এরপর সহায়ক সরকারের দাবি আদায়ে শুরু হবে আন্দোলন। এ ছাড়াও জনগণের স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ইস্যুতে আন্দোলন হবে। বিএনপি জনগণের জন্য রাজনীতি করে। তাই সরকারের কোন সিদ্ধান্তে জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এমন কোন ইস্যু পেলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আন্দোলন কর্মসূচী পালন করা হবে। বিশেষ করে একাদশ

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: