১৯ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

বন্যায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত ॥ সীমাহীন দুর্ভোগ


বন্যায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত ॥ সীমাহীন দুর্ভোগ

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়ে মানুষের সীমাহীন দুর্ভোগের পাশাপাশি উত্তরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। রেল এবং প্রধান সড়ক বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হয়ে পড়েছে। বন্যার কারণে জেলাগুলোর প্রধান প্রধান সড়ক ভাঙ্গনে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সড়ক যোগাযোগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি অনেক স্থানে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে গ্রামের পর গ্রাম প্লাবিত হয়ে পড়েছে। আবার অনেক জায়গায় হুমকির মুখে রয়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। এদিকে যোগাযোগ ব্যবস্থা বিপর্যস্ত হয়ে পড়ায় ঈদে ঘরে ফেরা যাত্রীদের মহাদুর্ভোগে পড়তে হবে বলে মনে করছেন অনেকেই। এদিকে দেশের উত্তরাঞ্চলের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। মধ্যাঞ্চলের জেলায় নতুন নতুন এলাকা বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। মানুষের দুর্ভোগ বেড়ে চলেছে। সঙ্কট দেখা দিয়েছে খাদ্য এবং বিশুদ্ধ পানির।

কয়েকদিন ধরে দেশের কুড়িগ্রামের সঙ্গে দেশের ট্রেল চলাচল বন্ধ রয়েছে। বন্যায় জেলায় রেল ব্রিজের একটি গার্ডার বসে যাওয়ার কারণে ট্রেন চলাচল করছে না। এছাড়াও উত্তরাঞ্চলের আরও কয়েকটি জেলায় ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। কুড়িগ্রাম থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, জেলার টগরাইহাটের বড়পুলের পাড়ে রেল ব্রিজের একটি গার্ডার বন্যায় দেবে গেছে। অপরদিকে ভেসে যাওয়ার কারণে রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে গেছে। মেরামত করা না হলে পুনরায় রেল যোগাযোগ চালু করা সম্ভব না। তিনি জানান, এখন পর্যন্ত মেরামতের কোন উদ্যোগ নেয়া হয়নি। এছাড়া কুড়িগ্রামে মহাসড়কে ভাঙ্গন দেখা দেয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছে বাসগুলো। জেলার তিন উপজেলার সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ রয়েছে। এছাড়াও টাঙ্গাইল, গাইবান্ধা, শেরপুর, জামালপুর, বগুড়া জেলার রাস্তাঘাট বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে। ফলে যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে।

পাশাপাশি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির শিকার হয়েছে বন্যায়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বন্যায় সাড়ে তিন হাজার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১২ মাধ্যমিক এবং কলেজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। বাকিগুলো প্রাইমারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঠদান আপাতত বন্ধ রয়েছে। এদিকে বন্যার কারণে ১৯ থেকে ২১ তারিখে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রী পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে।

মফস্বল বন্যায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বেড়ে ৪৮ লাখ ছাড়ানোর খবর দিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর। তারা জানায়, বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত ২৬টি জেলার ১৩১টি উপজেলায় বানের পানি ঢুকেছে। এতে এক লাখ ৮৬ হাজার ৫৬৭টি পরিবারের ৪৮ লাখ ৩০ হাজার ৯৪৪ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর ৪৫ হাজার।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, দু’একটি নদীর পানি কমলেও এখন পর্যন্ত অধিকাংশ নদীর পানির বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। পানি নেমে যাওয়ার পথে মধ্যাঞ্চলের জেলায নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। তারা জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত নদীর সমতলের ২৮টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে নদীর পানি বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে তারা আশ্বাস দিয়েছে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে বন্যার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। বন্যা নেমে যাওয়ার কারণে মধ্যাঞ্চল এবং নিম্ন-মধ্যাঞ্চলে বন্যা দেখা দিলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে বন্যা দীঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সাজ্জাদ হোসেন জনকণ্ঠকে বলেন, নদীগুলো থেকে পানি নামতে শুরু করেছে। ব্রহ্মপুত্র নদীর পানি কমতে শুরু করছে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে যমুনা নদীর পানি হ্রাস পাবে। তবে তিনি জানান, পদ্মায় আগামী ৭২ ঘণ্টা পানি বৃদ্ধি পেলেও পানি বৃদ্ধির হার অনেকটা কমে এসেছে। পদ্মার আপার স্ট্রিমে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধির হার অনেক কম। ২৪ ঘণ্টায় হার্ডিঞ্জ ব্রিজ পয়েন্টে মাত্র ৯ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।

তিনি জানান ভারি বৃষ্টি না হলে পানি এক সপ্তাহের মধ্যে নেমে যাবে। বন্যা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে। বৃষ্টিপাত না হলে বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তিনি বলেন, ১৯৮৮ সালে বন্যায় সারাদেশের ৬১ ভাগ এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছিল। ১৯৯৮ সালে সারাদেশে ৬৮ ভাগ এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছিল। তিনি জানান ‘১৫ সালে ৩২ ভাগ এরিয়া এবং ১৬ সালের বন্যায় ৩৫ ভাগ এরিয়ার বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞরা এবারে বন্যায় শুধু উত্তরাঞ্চলে দেখা দিয়েছে। এছাড়া পানি নেমে যাওয়ায় মধ্যাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কা রযেছে। তবে তারা জানান, ১৯৮৮ এবং ১৯৯৮ সালে সারাদেশে বন্যা হলে এ বছর সেই পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। বন্যা উত্তরাঞ্চলে বেশি হয়েছে। তাছাড়া ১৯৯৮ এবং ১৯৮৮ সালের বন্যা ছিল দীর্ঘস্থায়ী। এবার সে ধরনের আশঙ্কা নেই।

এদিকে কয়েকদিন ধরে সারাদেশে ভারি বর্ষণ থাকলে বর্তমানে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ কমে এসেছে। আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, দেশে আপাতত ভারি বর্ষণের কোন সতর্কতাও নেই। পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, ভারি বর্ষণ না হলে বন্যার পানি দ্রুত নেমে যাবে। তারা জানায়, দেশের উজানেও ভারি বৃষ্টিপাত কমে এসছে। ফলে বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে আর কোন আশঙ্কা নেই।

গাইবান্ধা থেকে প্রতিনিধি জানান, করতোয়া নদীর পানি বৃহস্পতিবার গোবিন্দগঞ্জের তরফকামাল, তরফমনু, চষকপাড়া, চক গোবিন্দ ও কাইয়াগঞ্জ এলাকায় গোবিন্দগঞ্জ-ফুলবাড়ী-দিনাজপুর উপমহাসড়কের ওপর দিয়ে বন্যার পানি প্রবাহিত হওয়ায় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা তলিয়ে গেছে। যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় গোবিন্দগঞ্জের সঙ্গে দিনাজপুরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

শেরপুর থেকে জনকণ্ঠের প্রতিনিধি জানান, পানি বৃদ্ধির কারণে শেরপুর-জামালপুর সড়কের পোড়ার দোকান কজওয়ের (ডাইভারশন) ওপর দিয়ে প্রায় ৪ ফুট উচ্চতায় বন্যার পানি প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেছে সড়ক ও জনপথ বিভাগ। ফলে শেরপুর-জামালপুর সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। কজওয়ের পাশে সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় যান চলাচল বন্ধের একটি সতর্কতামূলক নোটিসও স্থাপন করা হয়েছে।

নীলফামারী থেকে স্টাফ রিপোর্টার জানান, সৈয়দপুর উপজেলার উঁচু এলাকা থেকে বন্যার পানি নামছে। সেই সঙ্গে জেগে উঠছে বিধ্বস্ত বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট। তবে পানি কমলেও দুর্ভোগ কমেনি অনেক এলাকায়। উপজেলা শহরের পশ্চিম পাটোয়ারিপাড়া ও বসুনিয়াপাড়া এলাকায় খড়খড়িয়া নদীর বাঁধ ভেঙ্গে পাটোয়ারিপাড়া, বসুনিয়াপাড়া, কুন্দল, নয়াবাজার ও বাঁশবাড়ি এলাকায়ও পানি ঢুকে পড়ে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা সংকীর্ণ হওয়ায় সে পানি নিষ্কাশিত হচ্ছে না। তাই রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

জামালপুর থেকে প্রতিনিধি জানান, তারাকান্দি-ভুয়াপুর বঙ্গবন্ধু সেতু পাকা সড়ক বাঁধের সরিষাবাড়ীর আওনা ইউনিয়নের স্থল সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দক্ষিণ পাশে বুধবার রাত একটার দিকে যমুনার পানির তোড়ে অন্তত ৩০ মিটার বাঁধ ভেঙ্গে গেছে। এতে আওনা ও পিংনা ইউনিয়নের ২০টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে।

টাঙ্গাইল থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, পানি বৃদ্ধির কারণে হুমকির মধ্যে পড়েছে বঙ্গবন্ধু সেতু-ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়ক। এতে করে এলেঙ্গা পৌরশহরের পুরাতন ভুঞাপুর রোড বন্যায় তলিয়ে গেছে। মহাসড়কের এলেঙ্গাতে পানি উঠার উপক্রম হয়েছে।

মানিকগঞ্জ থেকে নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, পদ্মায় পানি বৃদ্ধির কারণে তীব্র স্রোত আর ফেরি স্বল্পতায় ব্যাহত হচ্ছে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌ- রুটের ফেরি চলাচল।

নিজস্ব সংবাদদাতা নওগাঁ থেকে জানান, সদর উপজেলার ইকরতারা নামকস্থানে বৃহস্পতিবার ভোরে ছোট যমুনা নদীর বাঁধ ভেঙ্গে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এলাকাকাবাসী বাঁধের ভাঙ্গা স্থান মেরামত করার জন্য প্রাণপন চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল।

এদিনে বন্যার পানি নেমে আসার কারণে দেশের মধ্যাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে।

শরীয়তপুর ॥ জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি গ্রাম থেকে নড়িয়া উপজেলার সুরেশ্বর পর্যন্ত প্রায় ৯ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে পদ্মার তীব্র ভাঙ্গন শুরু হয়েছে। গত ২ দিনে পদ্মার ভাঙ্গনে নড়িয়া উপজেলার সাধুরবাজার, চ-িপুর, ওয়াপদা ও সুরেশ^র, জাজিরা উপজেলার খেজুরতলা, কু-েরচর, ভেদরগঞ্জ উপজেলার কাচিকাটা এলাকার ৫ শতাধিক বসতবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এসব এলাকায় ভাঙ্গন আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়েছে পদ্মা পারের মানুষ।

মাদারীপুর ॥ পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় পদ্মায় পানি বেড়েছে ১২ সেমি। পানির তোড়ে মাদারীপুর জেলার শিবচরের পদ্মা বেষ্টিত চরাঞ্চলের কাঁঠালবাড়ি ও চরজানাজাতে ব্যাপক নদীভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। নদীভাঙ্গনে আক্রান্ত হয়েছে কাঁঠালবাড়ির কাউলিপাড়া দারুল উলুম কওমী মাদ্রাসাসহ শতাধিক বাড়িঘর নদীভাঙ্গনে আক্রান্ত হয়েছে।

মানিকগঞ্জ ॥ পদ্মা-যমুনাসহ জেলার অভ্যন্তরীণ নদ-নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় মানিকগঞ্জে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা অবনতি হয়েছে। প্রতিদিনই নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল। যমুনা নদীর আরিচা পয়েন্টে ২৪ ঘণ্টায় ১৩ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বৃহস্পতিবার বিপদসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

ফরিদপুর ॥ তিনটি উপজেলার ২২৯ হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে গেছে। গোয়ালন্দ পয়েন্টে পদ্মা নদীর পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়েছে আরও ১৬ সেমি বৃদ্ধি পেয়ে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে বিপদসীমার ৯২ সেমি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বুধবার রাত ৮টার দিকে ফরিদপুর সদরের আলীয়াবাদ ইউনিয়নের ভাজনডাঙ্গা ভূইয়াবাড়ির ঘাট এলাকায় নদীর পানি উপচে ফরিদপুর-চরভদ্রাসন সড়ক অতিক্রম বরেেত শুরু করে।

দোহার-নবাবগঞ্জ ॥ পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে ঢাকা জেলার দোহার ও নবাবগঞ্জ উপজেলায়। গত ২৪ ঘণ্টায় দুই উপজেলার অন্তত ২০ হাজার বাড়িঘরে পানি ঢুকে পড়েছে। সব মিলিয়ে পানিবন্দী হয়ে পড়েছে ৬০ হাজারেরও বেশি মানুষ। এর মধ্যে দোহার উপজেলা পরিস্থিতি ভয়াবহ।

এদিকে উত্তরাঞ্চলে বন্যার পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। মানুষের দুর্ভোগ দিন দিন বাড়ছে। সরকারপক্ষ থেকে যে ত্রাণ তৎপরতা রয়েছে তা অপ্রতুল।

রাজশাহী ॥ পাঁচদিন অতিবাহিত হলেও রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার ভীমনগর নামকস্থানে শিবনদের বেড়িবাঁধের ভাঙ্গন সংস্কার করতে পারেননি পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)। বাঁধ সংস্কার না হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতি আরও অবনতি হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ ॥ বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। যমুনা নদীর বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের অভ্যন্তরের এলাকার মানুষ অথৈ পানিতে ভাসছে। যমুনায় পানি এখন বিপদসীমার ১৫২ সেন্টিমিটার অর্থাৎ প্রায় সোয়া পাঁচ ফুট ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যমুনায় পানির উচ্চতা ১০০ বছরের রেকর্ড ভঙ্গ করেছে।

এদিকে কৃষি তথ্য সার্ভিসের এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বন্যায় যেসব জেলার ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হবে সেসব জমিতে পুনরায় চারা রোপণের জন্য প্রচেষ্টা নেয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর কৃষি উন্নয়ন কর্পোরেশন, ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট থেকে বীজতলা প্রস্তুত করা হয়েছে। আমন ধানের চারা মজুদ রাখা হয়েছে। আরও বীজতলা তৈরির কাজ চলছে। সরকারীভাবে প্রথম ৭২০ ভাসমান বঝিতলা তৈরি করা হয়েছে। যেসব প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র কৃষকের আমনের চারার প্রয়োজন হবে তাদের মাঝে বিতরণের জন্য চারা প্রস্তুত রাখা হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: