১৯ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্প ৫ বছরে কাক্সিক্ষত লক্ষ্যে পৌঁছতে পারেনি


আনোয়ার রোজেন ॥ ৫ বছরেও কাক্সিক্ষত লক্ষ্য অর্জন করতে পারেনি ‘পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্প’ (দ্বিতীয় পর্যায়)। ফলে দীর্ঘায়িত হচ্ছে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী ৩ লাখ ৬০ হাজার মানুষের ভাগ্যোন্নয়নের লড়াই। প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগের বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন বোর্ড (বিআরডিবি)। ২০১২ সালের জুলাইয়ে শুরু হওয়া ৩৩১ কোটি ৪২ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রকল্পটি চলতি বছরের জুন মেয়াদে সম্পন্ন হওয়ার কথা ছিল। লক্ষ্য অর্জনে নতুন করে মেয়াদ এক বছর ও ব্যয় ২৩৮ কোটি ৫৭ লাখ টাকা বাড়ানো হয়েছে। বিআরডিবি সূত্র জানায়, ঋণের অর্থ আদায় নিশ্চিত করাসহ সাত কারণে মেয়াদ ও ব্যয় বাড়ানো হয়েছে পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্পের। বলা হয়েছে, এ প্রকল্পের দ্বিতীয় পর্যায়ের আওতায় দেশের ১৯০ উপজেলায় ঋণ তহবিল খাতে প্রায় ৩ কোটি টাকা বিনিয়োগ রয়েছে, যা ঘূর্ণায়মান পদ্ধতিতে আদায় ও পুনঃবিনিয়োগ করা হচ্ছে। এ অবস্থায় ঋণ কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হলে প্রকল্পের মাধ্যমে সরকারের বিনিয়োগ করা অর্থের ব্যবহার ও আদায়ে অনিশ্চয়তা দেখা দেবে। পাশাপাশি প্রকল্পে কর্মরত ২ হাজার ৪৭৭ জনবল বেকার হয়ে পড়বে। এ প্রসঙ্গে বিআরডিবির মহাপরিচালক মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম জানান, ব্যাংকের সুদের হার কমে যাওয়ায় প্রকল্পের স্থায়ী আমানতের সুদ কমে গেছে। পর্যাপ্ত ঋণ তহবিলের অভাবে প্রকল্পের নিজস্ব আয় কাক্সিক্ষত পরিমাণে অর্জিত হচ্ছে না। সে কারণে প্রকল্পের সময়-ব্যয় বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

সূত্র জানায়, ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ দিয়ে পল্লী অঞ্চলের মোট ৩ লাখ ৬০ হাজার বিত্তহীন মানুষকে স্বাবলম্বী করতে দেশের ৪২ জেলার ১৯০ উপজেলায় বাস্তবায়িত হচ্ছে প্রকল্পটি। বসতভিটাসহ অনুর্ধ ৫০ শতাংশ জমি, দিনমজুর, নিয়মিত আয়ের ব্যবস্থা নেই, সংশ্লিষ্ট গ্রামের স্থায়ী বাসিন্দা, বয়স ১৮-৫০ বছরের মধ্যে এবং শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ এমন পরিবারের একজন করে নারী অথবা পুরুষ প্রকল্পের জন্য নির্বাচন করা হয়। নির্বাচিত এমন ২০-৩৫ জনকে সমবায় সমিতির আওতায় এনে বিভিন্ন আয়বর্ধনমূলক কর্মকা-ের প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে ১১ শতাংশ সুদে ঋণ সহায়তার মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানে নিয়োজিত করে দারিদ্র্য নিরসন করাই এর লক্ষ্য।

সূত্র জানায়, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) সহায়তায় বিআরডিবি ‘রুরাল পুওর কো-অপারেটিভ প্রজেক্ট (আরপিসিপি)’ শীর্ষক একটি প্রকল্প বৃহত্তর রাজশাহী, পাবনা, কুষ্টিয়া ও যশোরসহ ১৩ জেলার ৮২ উপজেলায় জানুয়ারি ১৯৯৩ থেকে ডিসেম্বর ১৯৯৮ মেয়াদে বাস্তবায়ন করে। পরবর্তীতে আরপিসিপিভুক্ত ৮২ উপজেলা এবং বৃহত্তর চট্টগ্রাম ও সিলেটের ৫২ এবং বৃহত্তর ঢাকার ১৮ উপজেলাসহ সর্বমোট ১৫২ উপজেলায় পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্প (১ম পর্যায়) জুলাই ১৯৯৮ থেকে জুন ২০০৭ মেয়াদে ৩৪৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়িত হয়। পরে জুলাই ২০০৭ থেকে জুন ২০১২ পর্যন্ত প্রকল্পটি সরকারী সিদ্ধান্তে নিজস্ব অর্থায়নে কর্মসূচী হিসেবে বাস্তবায়িত হয়। এর ধারাবাহিকতায় ঢাকা, বরিশাল ও রংপুর বিভাগের ৩৮টি উপজেলাসহ মোট ১৯০ উপজেলায় ২০১২ সালে শুরু হয় পল্লী জীবিকায়ন প্রকল্পের ২য় পর্যায়। এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো গ্রামীণ সুবিধাবঞ্চিত মহিলা ও পুরুষদের সংগঠিত করে নিবন্ধিত সমবায় সমিতির আওতায় কর্মসংস্থানের সুযোগ করা এবং এর মাধ্যমে সরকারের ২০২১ সালের মধ্যে দারিদ্র্যের হার ১৫ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ভূমিকা রাখা।