১৮ জানুয়ারী ২০১৮,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

রায় নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক নজিরবিহীন ॥ ফখরুল


রায় নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক নজিরবিহীন ॥ ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার ॥ ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও এ্যাটর্নি জেনারেলের বৈঠককে নজিরবিহীন আখ্যায়িত করে এ বিষয়ে উদ্বেগ ও হতাশা প্রকাশ করেছে বিএনপি। বৃহস্পতিবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির সাবেক মহাসচিব আবদুস সালাম তালুকদারের ১৮তম মৃতুবার্ষিকী উপলক্ষে ‘সালাম তালুকদার স্মৃতি সংসদ’ আয়োজিত আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে দলটির বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর দলের এ অবস্থানের কথা জানান।

মির্জা ফখরুল বলেন, সরকার বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করছে। এর বিরুদ্ধে সবাইকে সোচ্চার হতে হবে। তিনি বলেন, বুধবার স্বয়ং সরকারের প্রধানমন্ত্রী আইনমন্ত্রী ও এ্যাটর্নি জেনারেলকে সঙ্গে নিয়ে, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠকের বিষয়টি ষোড়শ সংশোধনীর রায়ের ওপরে। রাষ্ট্রপতির সঙ্গে এই বৈঠক নিঃসন্দেহে সমগ্র জাতিকে, সকল মানুষকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। যে রায় হয়ে গেছে সর্বোচ্চ আদালতে, সেই রায়ের বিরুদ্ধে সরকার অবস্থান নিয়ে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। তাই আমরা এই ঘটনার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।

ফখরুল বলেন, সরকারের মন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক কয়েক দিন আগে রাতের বেলা প্রধান বিচারপতির সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং নৈশভোজ করেছেন। অপর দিকে সরকারের মন্ত্রীরা প্রধান বিচারপতির বিরুদ্ধে কুৎসা রটনা করছেন। আওয়ামী লীগের নেতারা প্রধান বিচারপতি ও সুপ্রিম কোর্ট সম্পর্কে যে সমস্ত মন্তব্য করছেন তা কোনো গণতান্ত্রিক রা¿ ব্যবস্থায় চলতে পারে না। আমরা আশঙ্কা করছি নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে গণতন্ত্রর যেটুকু অবশিষ্ট আছে সেটুকু ধ্বংস করে দেওয়া হয় কি না।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, বিচার বিভাগের ক্ষমতা হরণ ও স্বাধীনতা হরণ করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে জনগণকে রুখে দাঁড়াতে হবে। সরকার একদলীয় শাসনব্যবস্থা প্রবর্তনের জন্য গণতন্ত্রের সমস্ত স্মম্বগুলোকে ভেঙ্গে দিচ্ছে। এর বিরুদ্ধে আমাদের সকলকে সোজা হয়ে দাঁড়াতে হবে। সংবিধান ও দেশকে রক্ষা করবার জন্য শুধু বিএনপি নয়, সকল রাজনৈতিক দল, সমস্ত সংগঠন, ব্যক্তি ও সুশীল সমাজের এগিয়ে আসা উচিত।

ক্ষমতাসীনরা রাষ্ট্রবিরোধী কার্র্যলাপে জড়িত অভিযোগ করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রদ্রোহিতার অভিযোগে তাদের বিচার করা হবে। আজকে যারা এই রাষ্ট্রকে ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র করছেন, গণতন্ত্রকে ধবংস করার ষড়যন্ত্র করছেন তাদেরকে ভবিষ্যতে জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে। তিনি বলেন, দেশের মানুষের জন্য, ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য, সংবিধানকে সমুন্নত রাখার জন্য ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় শুধু যুগোপযোগী নয়, ঐতিহাসিকও। আমি মনে করি এটি একটি ঐতিহাসিক দলিল। কিন্তু এ রায়ের পর আওয়ামী লীগের গাত্রদাহ শুরু হয়েছে। কারণ তারা দেখছে যে তাদের পায়ের নিচে আর মাটি নেই।

ষোড়শ সংশোধনী বাতিলের রায় নিয়ে আইন কমিশনের চেয়ারম্যান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হকের বক্তব্য প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, যাকে বেতন দেয়া হয় রাষ্ট্রের কোষাগার থেকে সেই আইন কমিশনের চেয়ারম্যান আদালতের রায় নিয়ে প্রকাশ্যে সংবাদ সম্মেলন করেন। এর মাধ্যমে তিনি অন্যায় করেছেন। আর তত্ত্বাবধায়ক সরকারের ওপরে ১৬ মাস পরে রায় পরির্বতন করে ভিন্ন আরেকটা রায় দিয়েছেন তিনি। ‘দিস ইজ এ ক্রিমিনাল অফেন্স’। এটার জন্য তার বিচার হওয়া উচিত।

সরকারকে উদ্দেশ করে ফখরুল বলেন, আপনারা কথায় কথায় আমাদের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রবিরোধী মামলা দেন। আর প্রকাশ্যে আপনারা রাষ্ট্রবিরোধী কাজ করছেন, সংবিধানকে ছিন্ন-ভিন্ন করে ফেলছেন। এসব প্রত্যেকটির বিচার আজকে হোক, কালকে হোক জনগণ করবে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক এমাজউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা ও মিলাদ মাহফিলে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক ফজলুল হক মিলন, বিএনপি নেতা কামরজ্জামান রতন, সিরাজুল হক, এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, ওয়ারেস আলী মামুন, সাঈদুর রহমান সাঈদ, আনোয়ার হোসাইন, শফিউল বারী বাবু, নিলোফার চৌধুরী মনি, এ টি এম আবদুল বারী ড্যানি, শামসুজ্জামান মেহেদি, হাবিবুল্লাহ তালুকদার রাসকিন, সাদিয়া হক, প্রয়াত সালাম তালুকদারের জামাতা এম হাসান, আয়োজক সংগঠনের নেতা সুজাত আলী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে প্রয়াত ব্যারিস্টার আবদুস সালাম তালুকদারের স্ত্রী মাহমুদা সালাম উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: