১৮ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৯ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

ধর্ষণ বা ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতারের কঠোর নির্দেশ


গাফফার খান চৌধুরী ॥ ধর্ষণ বা ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগ দ্রুত আমলে নিয়ে আসামি গ্রেফতারে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কড়া নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সদস্য বা কোন ইউনিট গাফিলতি বা অবহেলা বা দেরি করলে কড়া ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দিয়েছে সরকার। মামলা তদন্তের ক্ষেত্রে কোন প্রকার পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ উঠলে, তদন্তকারী কর্মকর্তার বিষয়ে তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। এমন নির্দেশনা দিয়ে পুলিশ সদর দফতর থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর প্রতিটি ইউনিট ও থানাকে চিঠি পাঠানো হয়েছে। ধর্ষণের ঘটনায় দেশজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার জন্ম হয়েছে। ধর্ষণের মতো অপরাধ কমাতে ও ধর্ষকদের আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এমন উদ্যোগ নিয়েছে। এমনকি ধর্ষণ মামলার পৃথক তালিকা করে এসব মামলা বিশেষভাবে তদন্তের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দফতর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

পুলিশ সদর দফতরের ইন্টেলিজেন্স এ্যান্ড স্পেশাল এ্যাফেয়ার্স শাখার সহকারী পুলিশ মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জনকণ্ঠকে বলেন, পুলিশ সদর দফতর থেকে পুলিশের প্রতিটি ইউনিট ও থানাকে ধর্ষণ, ধর্ষণ চেষ্টা, ইভটিজিং, শ্লীলতাহানি সংক্রান্ত অভিযোগ তাৎক্ষণিকভাবে আমলে নিতে কড়া নির্দেশনাসহ চিঠি দেয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে দায়িত্বশীলদের কোন প্রকার গাফিলতি, অবহেলা, দেরি বা অন্য কোন অজুহাত দেখানোর সুযোগ নেই। দ্রুত অভিযোগ আমলে নিতে হবে। অভিযোগ আমলে নেয়ার পরেই অভিযুক্তকে অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে গ্রেফতার করতে হবে। এরপর শুরু হবে তদন্ত প্রক্রিয়া। তদন্তে কেউ নির্দোষ প্রমাণিত হলে সেটি আদালত বিচার করবে।

তবে পুলিশের তরফ থেকে অভিযোগ দেরিতে নেয়া বা আসামি গ্রেফতারে গাফিলতি করার কোন প্রকার সুযোগ নেই। যে অবহেলা করবে, তার কপালে দুঃখ নিশ্চিত। কারণ কোন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিতে দেরি, টালবাহানা, অজুহাত বা অন্য কোন অভিযোগ ওঠামাত্রই তার বিরুদ্ধে পৃথক তদন্ত কমিটি গঠিত হবে। তদন্তে ওই পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে উঠা অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এ বিষয়ে পুলিশ সদর দফতর কঠোর। এমন সিদ্ধান্তের হেরফের হওয়ার ন্যূনতম কোন সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কোন সদস্য ঢিলেঢালাভাবে এ ধরনের স্পর্শকাতর মামলার তদন্ত করলে তার বিরুদ্ধেও কড়া ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এই কর্মকর্তা বলেছেন, গত কয়েক বছর ধরেই পুলিশের তরফ থেকে অত্যন্ত গভীরভাবে ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টাসহ এ ধরনের স্পর্শকাতর ঘটনায় দায়েরকৃত মামলাগুলোর উপর নজর রাখা হচ্ছে। তাতে দেখা গেছে, সম্প্রতি এ ধরনের দায়েরকৃত মামলায় অভিযোগ তদন্তে প্রায় শতভাগই সত্য প্রমাণিত হয়েছে। বিশেষ করে কোন নারীর এককভাবে দায়ের করার মামলার তদন্ত করে দেখা গেছে, ওই নারীর দায়ের করার মামলায় আনা অভিযোগের প্রায় শতভাগই সত্য। তবে কোন কোন মামলার ক্ষেত্রে তথ্যের সামান্য হেরফের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। তবে পুরো অভিযোগটি মিথ্যা বা মামলাটিই মিথ্যা এখন পর্যন্ত তা প্রমাণিত হয়নি।

এই কর্মকর্তা বলছেন, শুধু অভিভাবকদের দায়ের করার মামলার অভিযোগের বিষয়ে তদন্তে কিছুটা পার্থক্য দেখা গেছে। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন থানায় অভিভাবকদের দায়ের করা অপহরণের পর ধর্ষণ মামলার অভিযোগের ক্ষেত্রে এ ধরনের পার্থক্য তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। তদন্তে দেখা গেছে, অপহৃত হয়েছে। তবে ধর্ষিত হয়নি। আবার অপহৃত হয়নি, অথচ ধর্ষিত হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে প্রেম করে ছেলের সঙ্গে কোন মেয়ের চলে যাওয়ার ঘটনাই সবচেয়ে বেশি। এরপর ছেলেমেয়ের সম্পর্কের মধ্যেই অবৈধ শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে ছেলে বা মেয়ের পরিবারের তরফ থেকে অপহরণ ও অপহরণের পর ধর্ষণ এবং হত্যার অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করার নজির সবচেয়ে বেশি।

এই কর্মকর্তা আরও জানান, ধর্ষণ মামলার পৃথক তালিকা করে এসব মামলা বিশেষভাবে তদন্তের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। এজন্য ধর্ষণ মামলার আসামিরা দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার হচ্ছে। ধর্ষণের ঘটনা আগেও হতো। এখনও হচ্ছে। আগে ব্যক্তিগত বা সামাজিক কারণে ধর্ষিতারা থানায় তেমন একটা অভিযোগ করতেন না। এখন সে অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে। ধর্ষিতারা সাহসিকতার সঙ্গে মামলা দায়ের করছেন। আসামিরা গ্রেফতার হচ্ছে। উপযুক্ত শাস্তিও পাচ্ছে। এতে করে ধর্ষণের ঘটনাগুলো ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলেও দেশে ধর্ষণের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার পরিমাণ তুলনামূলকভাবে তেমন বাড়েনি। পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর রাজধানীর বনানীর রেইনট্রি হোটেলে জন্মদিনের দাওয়াত দিয়ে বান্ধবী ধর্র্ষণের ঘটনা সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করে। এ বিষয়ে ধর্ষিতাদের থানায় মামলা দায়ের নিয়ে নানা ঘটনার জন্ম হয়। ওই ঘটনায় বনানী থানার ওসি ফরমান আলীসহ সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হয়। ওসির পিতা ক্ষমতাসীন দলের একটি বিশেষ জেলার আওয়ামী লীগের পদধারী প্রভাবশালী নেতা। বিষয়টি একেবারেই আমলে নেয়া হয়নি। বর্তমানে পুত্র ফরমান আলীর কারণে তার পিতা দলে কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছেন।

বনানীর ঘটনায় আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের গ্রেফতার নিয়ে নানা গুঞ্জন ওঠে। সবকিছু পেছনে ফেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী আসামিদের গ্রেফতার করে। আসামিদের অনেকেই আদালতে ধর্ষণের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেয়। এমন ঘটনার পরেও দেশে একের পর এক ধর্ষণের ঘটনা আলোড়ন সৃষ্টি করে চলেছে। পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, দেশে বেশ কিছু প্রতারক চক্র রয়েছে। এদের অধিকাংশ ধনাঢ্য পরিবারের বখে যাওয়া সন্তান। এই চক্রটি মেয়েদের প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: