১৮ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৯ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

হবিগঞ্জে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ থামাতে পুলিশের গুলি টিয়ারশেল ॥ নিহত ২


নিজস্ব সংবাদদাতা, হবিগঞ্জ, ১২ আগস্ট ॥ শনিবার ভোরে হবিগঞ্জের বাহুবলের মুগাকান্দিতে দু’পক্ষের ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী সংর্ঘষ, পুলিশের লাটিচার্জ ও গুলিবর্ষণের ঘটনায় এক লন্ডন প্রবাসীসহ ২ জন নিহত এবং আহত হয়েছে কমপক্ষে পৌনে দু’শ’ মানুষ। সংর্ঘষের পর পক্ষদ্বয়ের মাঝে চরম উত্তেজনা অব্যাহত থাকায় আবারও রত্তক্ষয়ী সংর্ঘষের আশঙ্কা করছে এলাকার মানুষ ও পুলিশ। নিহতরা হলো মুগাকান্দি গ্রামের বাসিন্দা ছাবু মিয়ার পুত্র লন্ডন প্রবাসী কবির মিয়া (৪৫) ও মতিন মিয়া (৫০)। এর মধ্যে কবির ঘটনাস্থলে এবং মতিন গুরুতর আহত অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নেয়ারপথে মারা যায়।

পুলিশ ও এলাকাবাসী জানান, সাতকাপন ইউনিয়নের মুগাকান্দি জামে মসজিদের কমিটি গঠন ও ইমাম পরিবর্তন নিয়ে মুসল্লিরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। এক পর্যায়ে বর্তমান ইমাম ফরিদ আখঞ্জির পরিবর্তন না করার পক্ষে যেমন অবস্থান নেন তেমনি অপরপক্ষ তাকে পরিবর্তনের পক্ষে অবস্থান নেন। এ অবস্থায় শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ইউপি চেয়ারম্যান আব্দাল মিয়া বিষয়টি নিয়ে সোহেল মিয়া ও শফিক মাস্টারের সঙ্গে তুমুল বাগবিত-ায় লিপ্ত হলে মুসল্লিরা দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে মারমুখী অবস্থান নেন। গ্রামের লোকজনও দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়েন। এক সময় উভয়পক্ষই দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংর্ঘষে লিপ্ত হয়। খবর পেয়ে এএসপি রাসেলুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে সতর্ক অবস্থান নেয় এবং পরবর্তীতে অন্তত ১০ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়েও সংর্ঘষ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারায় তাতে অন্তত অর্ধশতাধিক লোক আহত হয়। এদিকে এই সংর্ঘষ থেমে এলে উপজেলা চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আব্দুল হাই বিষয়টি মীমাংসার উদ্যোগ নিয়ে শুক্রবার রাতেই তার কার্যালয়ে বিবদমান উভয়পক্ষকে আসতে বলেন। কিন্তু একপক্ষ না আসায় তা ভেস্তে যায়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ উভয়পক্ষের ৮ জনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসে। এছাড়া সংর্ঘষে আহত আনোয়ার হোসেন শনিবার ভোরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিতে এলে তাকেও পুলিশ আটক করে। সংর্ঘষে লিপ্ত লোকজনকে পুলিশের দু’দফা আটকের ঘটনায় উভয়পক্ষের মাঝে উত্তেজনা দেখা দেয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে শনিবার ফজরের নামাজের পরপরই উভয়পক্ষ তুমুল সংর্ঘষে লিপ্ত হয়। খবর পেয়ে পুলিশ আবারও ঘটনাস্থলে ছুটে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমে ২৫ রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে। এতে কাজ না হওয়ায় অন্তত ১০০ রাউন্ড শটগানের গুলি ছোড়ে। এতে দাঙ্গাবাজরা ছত্রভঙ্গ হয়ে এদিক-ওদিক সটকে পড়ে। প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী চলা এই সংর্ঘষ ও পুলিশের টিয়ারশেল এবং গুলিবর্ষণের ঘটনায় নিহত হন ওই দুই ব্যক্তি। আহত হন শিশু-নারী-পুরুষসহ অন্তত পৌনে দু’শতাধিক লোক। আবারও যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা রোধে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: