২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবল বর্ষণে ২০ গ্রাম প্লাবিত ॥ উদ্ধারে নেমেছে সেনাবাহিনী


ঠাকুরগাঁওয়ে প্রবল বর্ষণে ২০ গ্রাম প্লাবিত ॥ উদ্ধারে নেমেছে সেনাবাহিনী

নিজস্ব সংবাদদাতা, ঠাকুরগাঁও ॥ তিনদিনের টানা বর্ষণে ঠাকুরগাঁওয়ের নি¤œাঞ্চলের ২০ টি গ্রামের কয়েক হাজার ঘড়বাড়ি প্লাবিত হয়েছে। বাড়িঘরে পানি ওঠায় শত শত লোকজন বাড়িঘর ছেড়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে আশ্রয় নিয়েছে। শনিবার বিকেল থেকে বন্যার্তদের উদ্ধারে নেমেছে সেনাবাহিনী। এদিকে রেলপথ ডুবে যাওয়ায় শনিবার সকাল থেকে ঠাকুরগাঁও- পঞ্চগড় রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

গত বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে ঠাকুরগাঁওয়ে মুসলধারে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এ বৃষ্টিপাতের কারণে শহরের বেশকিছু নিম্নাঞ্চল পাড়ামহল্লা প্লাবিত হয়েছে। এগুলো হলো শহরের নিশ্চিন্তপুর, ডিসিবস্তি, হঠাৎবস্তি, কলেজপাড়া, রোড খালপাড়া, শান্তিনগরসহ অন্যান্য এলাকা। এসব এলাকার ঘড়-বাড়ি বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে যাওয়া শতশত মানুষ সন্তান পরিজন নিয়ে শহরের রিভারভিউ উচ্চ বিদ্যালয়, জেলা শিল্পকলা একাডেমি ও ঠাকুরগাঁও রোড যুবসংসদে আশ্রয় নিয়েছে। প্লাবিত মানুষ গুলো শিশু, ঘর-বাড়ি, আসবাবপত্র, গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন। অনেকে রাস্তায় পাশে গবাদি পশুসহ আশ্রয় নিয়েছেন। এদিকে কলেজপাড়া এলাকার দুই শতাধিক মানুষ পানি বন্দি হয়ে পড়ায় জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়ালের নেতৃত্বে দমকল বাহিনীর সহায়তায় ওইসব বানভাসিদের উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া ঠাকুরগাঁও রেল স্টেশন মাস্টার মনসুর আলী জানান, ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় রেলপথের নয়নবিরুজ এলাকায় ৫০২/১ হতে ৫০৪/৫ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার রেলপথ পানির নীচে ডুবে যাওয়ায় শনিবার সকাল থেকে ঠাকুরগাঁও-পঞ্চগড় ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এদিকে টানা তিন দিনের ভারী বর্ষণে বৃষ্টির পানির প্রবল ¯্রােতে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলার রুপগঞ্জ তীরনই ব্রীজের সংযোগ সড়ক ভেঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। একই অবস্থায় পড়েছে জেলার অন্যান্য চার উপজেলার নিম্নাঞ্চলের গ্রাম গুলোতে। এসব এলাকায় বানভাসী লোকজন খাদ্য সংকটের আশংকা করছেন।

অন্যদিকে জেলার বিভিন্ন নদীর পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টাঙ্গন নদীর পানি বিপদ সীমার ৪০ মিলি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক আব্দুল আওয়াল জানান, গত তিন দিনের ভারি বর্ষণে জেলার প্রায় তিন শতাধিক ঘর বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মানুষ নিরাপদ আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়ার জন্য প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে। বাকিদের উদ্ধারের জন্য সেনাবাহিনী কাজ শুরু করেছে। বর্তমানে দূগর্তদের জেলায় প্রায় শতাধিক আশ্রয় কেন্দ্রে থাকার জায়গা ও ত্রানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: