২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

অবিরাম বর্ষণে পাহাড়ে ফের আতঙ্ক ॥ আরও ধস-ঢল


অবিরাম বর্ষণে পাহাড়ে ফের আতঙ্ক ॥ আরও ধস-ঢল

মোয়াজ্জেমুল হক/জীতেন বড়ুয়া/মোহাম্মদ আলী ॥ ভারি বর্ষণ, ঢল ও ধস থামছে না পাহাড়ে। রবিবার রাত ও সোমবার দিনভর ভারি ও মাঝারি বর্ষণে পাহাড়জুড়ে নতুন নতুন ধস ও ঢলে পরিস্থিতি একেবারেই বেহাল অবস্থায় পৌঁছে গেছে। গত মঙ্গলবারের (১৩ জুন) মহাদুর্যোগের পর সিভিল ও সেনা প্রশাসনের উদ্যোগে সড়ক মেরামত ও মাটি সরানোর কাজে যতটুকু অগ্রগতি এসেছিল নতুন করে বর্ষণ ও ধসে তার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলা, বান্দরবান থেকে রুমা সড়কে পাহাড় ধসের পর যে উন্নতি ঘটানো হয়েছে সেখানেও অবনতি ঘটেছে। টানা তৎপরতা চালিয়ে যে সংস্কার কাজ হয়েছিল তা আবারও ধসে গেছে। সেনাবাহিনীর বিভিন্ন কোরের প্রায় দেড় হাজার সদস্য সড়ক রাঙ্গামাটি ও বান্দরবান সড়ক যোগাযোগ পুনরায় সচল করা ও অন্যান্য কাজে নিয়োজিত রয়েছে। ঢলের পানিতে কর্ণফুলী হ্রদে পানির উচ্চতা বেড়েই কাপ্তাই বাঁধ (স্পিলওয়ে) ঝুঁকির মুখে চলে যাওয়ায় ৩ দিন ধরে এর ১৬ গেট খুলে দেয়া হয়েছে। এবং বেশি পানি নেমে যাওয়ার ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে। সর্বশেষ সোমবার কাপ্তাই বাঁধের গেটগুলো থেকে ১ দশমিক ৬ ইঞ্চি হারে তীব্রগতিতে পানি নামছে। এর ফলে পুরো রাঙ্গুনিয়া ও রাউজানের অংশবিশেষের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। লাখ লাখ মানুষ পানিবন্দী হয়ে বিভিন্ন সঙ্কটে পড়েছে। নতুন করে মৃত্যুর খবর পাওয়া না গেলেও সহায়-সম্পদের ক্ষতি বর্ণনাতীত।

খাগড়াছড়ি সেনা জোনের লক্ষ্মীছড়িতে পাহাড়ের চূড়ায় নির্মিত সেনাবাহিনীর সৈনিক ব্যারাক ও অফিসার্স মেসে নিচ থেকে ভূমিধস ঘটায় ব্যারাক ও মেস সম্পূর্ণ খালি করা হয়েছে। অফিসার ও সৈনিকদের অন্যত্র থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কে সাপছড়ি এলাকায় সর্ববৃহৎ যে পাহাড় ধস ঘটে রাস্তা বিধ্বস্ত হয়েছে সেখানে তা চলাচল উপযোগী করার কাজে সেনাবাহিনী যেটুকু উন্নতি ঘটিয়েছিল রবিবার রাত ও সোমবারের বর্ষণে তা আবারও ধসে গেছে। বান্দরবান রুমা সড়কে ওয়াই জংশন পয়েন্টে পাহাড় ধসে বিধ্বস্ত সড়কের মেরামত কাজের যেটুকু অগ্রগতি হয়েছিল তা আবারও ধসে গেছে। খাগড়াছড়ির লক্ষ্মীছড়ি, গুইমারা, দীঘিনালা উপজেলার ছোট মেরুং এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। লক্ষ্মীছড়ি এলাকায় বানরকাটা ব্রিজ পাহাড়ী ঢলের তোড়ে তলিয়ে গেছে। ফলে সেখানকার লোক বিপুল সংখ্যক পাহাড়ী বাঙালী যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।

রাঙ্গামাটি ॥ চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়কের মানিকছড়ি এলাকার সাপছড়িতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি মেরামত কাজে সেনাবাহিনী যতটুকু অগ্রগতি এনেছিল রবিবার ও সোমবারের বর্ষণে তা আবার ধসে গেছে। বর্ষণ অব্যাহত থাকায় মাটি সরানো ও সংস্কার কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এর ফলে পাহাড়ের ঢালুতে নতুন করে মাটি কেটে এক লেনের রাস্তা নির্মাণ করে হাল্কা যানবাহন চলাচল উপযোগী করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। ভারি ও মাঝারি আকারের বর্ষণ অব্যাহত থাকায় বিভিন্ন পাহাড়ের ঝুঁকিমুক্ত এলাকা থেকে লোকজনদের আশ্রয় কেন্দ্রে নেয়ার অব্যাহত রয়েছে। সেনা পুলিশ ও বিজিবির তত্ত্বাবধানে আশ্রিতদের দুই বেলা খাবার সরবরাহ করা হচ্ছে। পাহাড় ধস ও ঢল যেন থামছেই না। ফলে ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনের উদ্যোগটি এখন সুদূর পরাহূত। সোমবার পর্যন্ত রাঙ্গামাটিতে মৃতের সংখ্যা ১১৫ জনে উন্নীত হয়েছে।

রবিবার মধ্যরাত ও সোমবার সকাল থেকে রাঙ্গামাটিতে ভারি বর্ষণ শুরু হওয়ায় সাপছড়িতে প্রায় দেড়শ ফুট বিধ্বস্ত সড়কের ৮০ ফুট যে সংস্কার হয়েছিল তা পুনরায় ১০০ ফুট নিচে ধসে গেছে। রাঙ্গামাটি সড়ক বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ এমদাদ হোসেন জানিয়েছেন, সেনাবাহিনীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে তারা এখন ধসে যাওয়া সড়ক আর মেরামত না করে পাহাড় কেটে এক লেইনের নতুন সড়ক কাজে লিপ্ত হয়েছেন। চট্টগ্রাম-রাঙ্গামাটি সড়ক সপ্তাহ ধরে সকল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় স্বাভাবিক যোগাযোগ ফিরে আসতে সময় নেবে।

রাঙ্গামাটি জেলা ও এর আওতাধীন ১০ উপজেলায় ৩৬ আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। রাঙ্গামাটি শহরে আরও দুটি আশ্রয় কেন্দ্রসহ মোট ১৯টি আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ৩ হাজার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। এসব আশ্রয় কেন্দ্রগুলো সেনা, পুলিশ ও বিজিবি, রেড ক্রিসেন্টের তত্ত্বাবধানে চলছে। সেনাবাহিনীর সদর জোন ও স্বাস্থ্য বিভাগ ও নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে আশ্রিতদের চিকিৎসা ব্যবস্থা দেয়া হচ্ছে। রাঙ্গামাটির ১৮টি ও কাপ্তাই উপজেলার এ জাতীয় তিনটি টিম দিবারাত কাজ করে যাচ্ছে।

রাঙ্গামাটি সড়কের সংস্কার কাজ সেনাবাহিনীর চট্টগ্রাম এরিয়া কমান্ডার ও ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের চীফ সরাসরি তত্ত্বাবধান করছেন। রাঙ্গামাটি-বান্দরবান সড়কে যে ১২ কিলোমিটারব্যাপী যে সড়ক ধসে গেছে সেখানে এখনও কাজও শুরু করা যায়নি। রাঙ্গামাটি শহরে বিভিন্ন পণ্যের যে সঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে তা উন্নতি হচ্ছে খুবই ধীরগতিতে। জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে ব্যবসায়ীদের নিয়ে দফায় দফায় বৈঠক করা হচ্ছে। তাদের জন্য বিভিন্ন ধরনের সুযোগ-সুবিধা দিয়ে পণ্য সঙ্কট উত্তরণের জন্য চেষ্টা অব্যাহত রাখা হয়েছে। রাঙ্গামাটির আশ্রয় কেন্দ্রগুলোতে দুর্গত মানুষের ভিড় বাড়ছে। ফলে খাদ্য ও পানীয় সঙ্কটের অপ্রতুলতা রয়েছে। মঙ্গলবারের ধ্বংসযজ্ঞের ৭ দিন পরও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনও কোন তালিকা করা সম্ভব হয়নি। সোমবার বিকেলে বিভিন্ন পাহাড়ের পাদদেশ থেকে লোকজনকে সরিয়ে নেয়ার জন্য মাইকিং করানো হচ্ছে।

খাগড়াছড়ি ॥ ভারি বর্ষণ পাহাড় ধস ও ঢলে জেলার বিভিন্ন স্থানে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা আর অনিশ্চিত জীবন নিয়ে কাটছে পাহাড়ী জেলা খাগড়াছড়ির লক্ষাধিক মানুষের জীবন। মৃত্যুঝুঁকি নিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় কিংবা পাদদেশে নিরীহ মানুষগুলো বসবাস করে আসছে বছরের পর বছর ধরে। পাহাড় ধস কিংবা পাহাড়ী ঢলে প্রতিবছরই বাড়ছে প্রাণহানির ঘটনা। তারপরও পাহাড়ের চূড়ায় কিংবা পাদদেশে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বসবাস থেমে থাকেনি। জেলা প্রশাসনের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সঠিক কোন পরিসংখ্যানও নেই। গত এক সপ্তাহে জেলায় পাহাড় ধসে ৪ জনের মৃত্যু ও বহু আহত হওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। যে কোন মুহূর্তে আরও বিপর্যয় ঘটারসমূহ আশঙ্কা রয়েছে। সোমবারও মাঝারি ও ভারি বর্ষণ শুরু হয়েছে। ফলে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে মানুষ সরানোর কাজ অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে সর্বক্ষণে যেখানে জীবনের ঝুঁকি, এরপরও পাহাড়ের চূড়ায়, পাদদেশ এবং ঢালুতে বসবাস থেকে সরে যাচ্ছে না শহর এলাকার শত শত পরিবার। কয়েকটি গুচ্ছগ্রাম এলাকার এসব পরিবারগুলো আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠার মধ্যে রয়েছে। জেলার সুশীল সমাজ ও পরিবেশ সচেতন লোকজন রীতিমতো উদ্বিগ্ন হলেও সরকারীভাবে বা জেলা প্রশাসনের তরফ থেকে বাস্তবসম্মত কোন কার্যকর পদক্ষেপ এখনও গ্রহণ করা যায়নি। কেননা, বর্ষণ ও ধস অব্যাহত থাকায় নতুন কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করা সম্ভব হচ্ছে না।

সরেজমিনে পরিদর্শনে দেখা গেছে, খাগড়াছড়ির কলাবাগান, শালবান, কালেক্টরী এলাকা, সবুজবাগসহ বেশকিছু এলাকায় অন্তত ২শ’ পরিবার রয়েছেন, যারা পাহাড়ের বিভিন্ন অংশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন। কলাবাগান এলাকার দিনমজুর আবদুল মজিদ স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে মৃত্যু ভয় মাথায় নিয়ে রাত কাটান। কারণ তার ঘরের ঠিক ওপরেই বিশাল পাহাড় ঠাঁয় দাঁড়িয়ে আছে। যে কোন সময় বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন।

ঝুঁকিতে বসতি গড়া অনেকের মতো নাছিমা বেগম বললেন, নিজের ঘরটিও পাহাড়ের নিচে হওয়ায় সারাক্ষণই আতঙ্কে থাকেন। অভিযোগ রয়েছে, অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কেটে ঘরবাড়ি তুললেও প্রতিরোধে কোন ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন প্রতিবেশীরা পাহাড় কাটায় বর্ষা এলেই ধস দেখা দেয়।

এরপরও এখানে থেমে নেই পাহাড় কাটা। উন্নয়ন কাজের নামে সরকারী-বেসরকারীভাবে বিশাল পাহাড় কেটে গড়ে তোলা হচ্ছে ভবন। বিগত জোট সরকারের প্রভাবশালীরা পাহাড় কেটে আবাসিক এলাকা গড়ে তোলার মাশুল দিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ফলে পাহাড় কাটা মামলার আসামিদের বিচারের দাবিও উঠেছে। এছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে জরুরী ভিত্তিতে না সরালে খাগড়াছড়িতেও বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পরিবেশ কর্মীরা।

কেবল সাধারণ বসতিই নয়, ভয়াবহ ঝুঁকিতে আছে খাগড়াছড়ি জেলা পরিষদ রেস্ট হাউজ, একটি গোয়েন্দা অফিস, পুলিশ সুপারের বাংলো, জেলা কারাগার ও সার্কিট হাউস এলাকা। সোমবারের বর্ষণে কোট বিল্ডিং এলাকাও জলমগ্ন হয়েছে।

এদিকে জেলা প্রশাসনের কাছে ঝুঁকিপূর্ণ বসতির কোন হিসেব না থাকলেও প্রশাসক সূত্রে জানানো হয়েছে, খাগড়াছড়িতে এ ধরনের ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসের সংখ্যা খুবই বেশি নয়। তবুও প্রশাসন সর্বোচ্চ তিনি বেশি ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের নিরাপদে রাখার ব্যাপারে সতর্ক রয়েছে। অপরদিকে, খাগড়াছড়িতে তিনদিনের টানা ভারি বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে, শত শত বসতবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ধারাবাহিক বর্ষণ অব্যাহত থাকায় চেঙ্গী নদীর তীরবর্তীসহ নিম্নাঞ্চলে বসবাসকারীর পরিবারগুলোর মাঝে পানি ওঠার আতঙ্ক বিরাজ করছে। টানা বর্ষণে জেলা সদরের মিলনপুর, আনন্দনগর, মুসলিমপাড়া, বাঙ্গালকাঠি এলাকার নিম্নাংশ, নদীতীরবর্তী গঞ্জপাড়া ও শান্তিনগর এলাকায় বসবাসরত বেশিরভাগ পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে।

অব্যাহত বর্ষণের কারণে পাহাড়ী ঢলে জেলার চেংগী ও মাইনী নদীর পানি বাড়তে থাকে। ফলে জেলা সদরের মুসলিমপাড়া, বাঙ্গালকাঠি এলাকার নিম্নাংশ, নদীতীরবর্তী গঞ্জপাড়া ও শান্তিনগর এলাকা প্লাবিত হয়ে পড়ে এদিকে দুপুরের পর থেকে পানিবন্দী ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো বিভিন্ন জায়গায় আশ্রয় নিতে শুরু করেছে।

খাগড়াছড়ি পৌরসভার মেয়র রফিকুল আলম জানান, পানিবন্দী পরিবারগুলোর জন্য জেলা শহরের মুসলিমপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মিউনিসিপ্যাল প্রাথমিক বিদ্যালয় আশ্রয় কেন্দ্র হিসেবে খুলে দেয়া হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্তদের খোঁজখবর নেয়ার জন্য স্ব স্ব এলাকার কাউন্সিলরদের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

এছাড়া লক্ষ্মীছড়ি ও গুইমারা, দীঘিনালার উপজেলার ছোটমেরুং এলাকা নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে শতাধিক পরিবার পানিবন্দী হয়ে পড়েছে। চেঙ্গী নদীর তীরে বসবাসকারীদের মাঝে ঘরে পানি ওঠার আতঙ্ক বিরাজ করছে।

লক্ষ্মীছড়ির অসিম চাকমা জানান, এলাকার নিচু জায়গায় বসতি ঘরগুলো তলিয়ে গেছে। প্রর্বল বর্ষণের কারণে ছড়া ও খালের পানি বেড়ে যাওয়ায় প্রতিটি গ্রাম বিচ্ছিন্ন রয়েছে। রবিবার সাপ্তাহিক হাটের দিন হলেও বাজারগামী লোকজন আটকা পড়ে। লক্ষ্মীছড়ি জোন এলাকায় ব্রিজ বানরকাটা ব্রিজ তলিয়ে গেলে যানবাহন ও মানুষের চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ে। উপজেলা সদর বেলতলী পাড়া, হাইস্কুলের পেছনে ধুরংপাড়, গুচ্ছ গ্রামের কিছু এলাকা, উপজেলা পরিষদের মাঠের পূর্ব পাশের ৩টিসহ প্রায় ১০টি ঘর তলিয়ে যায়। উপজেলা সদর জামে মসজিদের ভেতর ৫ ফুট পর্যন্ত পানি ওঠে। ওই এলাকার ২ ফুট থেকে শুরু করে ৪-৫ ফুট পর্যন্ত ঘরের মধ্যে পানি ওঠে বলে স্থানীয়রা জানান। ধুরং নদীর পানি মুহূর্তের মধ্যে ঘরবাড়িসহ প্রধান প্রধান রাস্তা তলিয়ে যায়। এ সময় ঘর থেকে অনেক প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র পানির তোড়ে ভেসে যায়। এছাড়া পানছড়ি উপজেলার লতিবান এলাকার সেতুটি প্রবল বর্ষণের কারণে প্রচ- ঝুঁকির মধ্যে আছে। ব্রিজটির দীর্ঘদিনের নির্মিত হওয়ার কারণে বর্তমানে একদিকে ঢলে পড়েছে। যে কোন সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। তাই অন্যসব জনসাধারণের জন্য সতর্ক থাকার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। লক্ষ্মীছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার জাহিদ ইকবাল জানান, এলাকার ক্ষয়ক্ষতির তালিকা করা হচ্ছে।

সেনা কার্যক্রম

পাহাড়ে সৃষ্ট মহাদুর্যোগে তিন জেলায় নিয়োজিত করা হয়েছে প্রায় দেড় হাজার সেনাসদস্য। সেনাবাহিনীর কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (ইসিবি) রিভারাইন ইঞ্জিনিয়ারিং ব্যাটালিয়ন (আরইবি), আর্মি মেডিক্যাল কোর, সাপ্লাই কোর, অর্ডন্যান্স কোর, ইলেকট্রিক্যাল ও মেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোরসহ (ইএমই) সাধারণ সৈনিক সেনা কর্মকর্তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি ও তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: