২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সুষ্ঠু সংসদ নির্বাচন হলে আওয়ামী লীগের পরাজয় অবধারিত


স্টাফ রিপোর্টার ॥ বিএনপি নির্বাচনের জন্য সবসময় প্রস্তুত বলে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচন হলে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরাজয় অবধারিত। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘গণতান্ত্রিক সাংস্কৃতিক জোট’ নামক একটি সংগঠন আয়োজিত ‘খালেদা জিয়া ঘোষিত ভিশন-২০৩০’ আগামী দিনে রাজনীতি ও আমাদের করণীয়’ শীর্র্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

মওদুদ বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করলে বিএনপি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নেবে এবং সে নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় যাবে। নির্বাচনকালীন এমন সহায়ক সরকার থাকতে হবে যাদের কোন রাজনৈতিক স্বার্থ থাকবে না। তবে পরাজয়ের আশঙ্কায় সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে ভয় পায় আওয়ামী লীগ। তিনি বলেন, আইনের শাসন এখন দলীয় শাসনে পরিণত হয়েছে। বিচার বিভাগ কি স্বাধীন এ নিয়ে জনমনে প্রশ্ন রয়েছে। সরকার বলছে বিচার বিভাগ স্বাধীন। কতটুকু স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছেন বিচারকরা? তবে বিএনপি ক্ষমতায় গেলে বিচার বিভাগকে পুরোপুরি স্বাধীন করা হবে।

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, দেশে সামাজিক অপরাধ বৃদ্ধি পাচ্ছে, প্রতিদিনই মানুষ খুন হচ্ছে। বনানীতে রেইনট্রি হোটেলে দুই ছাত্রী ধর্ষণের ঘটনা ঘটে, ওই হোটেলের মালিক কে সেটা সবাই জানে। প্রতিটি অপরাধের সঙ্গে তারাই জড়িত যারা বারবার অপরাধ করে। প্রতিটি অপরাধের সঙ্গে সরকারের কোন না কোন প্রভাবশালী লোকের সমর্থন ও মদদ আছে।

মওদুদ বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে আমরা হীনমন্যতা ও প্রতিহিংসার রাজনীতি করব না। মেধা, দক্ষতা ও যোগ্যতার ওপর ভিত্তি করে আমরা প্রশাসন সাজাব। দলীর দৃষ্টিভঙ্গি থেকে প্রশাসনের কোন পদে কাউকে অধিষ্ঠিত করা হবে না। কিন্তু আওয়ামী লীগ প্রশাসনকে মেধাহীন করে দিয়েছে। অর্থাৎ তাদের কাছে মেধার কোন মূল্যায়ন নেই।

ব্যারিস্টার মওদুদ বলেন, দেশে সামাজিক অস্থিরতা বেড়েছে, কেন বেড়েছে? প্রতিকারের বাস্তবসম্মত কোন ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে না। অথচ পুলিশকে বলা হয়েছে বিরোধী দলকে পেটাও, তাদের কোন জনসভা করতে দেবে না। এ কারণে আমরা আজ কোন জনসভা করতে পারি না। পুলিশকে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক উদ্দেশে এবং নিজেদের রক্ষার জন্য ব্যবহার করছে। আওয়ামী লীগ বলে দেশে নাকি বিএনপি নেই। আমি সরকারকে বলতে চাই, দেশের যে কোন জায়গায় এবং যে কোন উপজেলায় বিএনপিকে জনসভা করতে দেন, আর আপনারাও করেন। দেখেন, কাদের জনসভায় বেশি মানুষ হয়।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দিন বকুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য রাখেনÑ বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, সুকোমল বড়ূয়া, নির্বাহী কমিটির সদস্য আবু নাসের রহমত উল্লাহ, জাতীয়তাবাদী দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলনের সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপন প্রমুখ।

সাংবাদিকদের ওপর নজরদারি বাকশালী দৃষ্টিভঙ্গী-রিজভী

বিদেশ ভ্রমণরত সাংবাদিকদের ওপর নজরদারি একদলীয় বাকশালী দৃষ্টিভঙ্গি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। শুক্রবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে বিএনপি নেতা বরকত উল্লাহ বুলু ও খায়রুল কবির খোকনের মুক্তির দাবিতে স্বাধীনতা ফোরাম আয়োজিত মানববন্ধনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

বিএনপির মুখপাত্র রুহুল কবির রিজভী বলেন, আজকে দেশে দুঃশাসনের মধ্যেও কেউ কেউ প্রতিবাদ করছেন। যেমন প্রধান বিচারপতি প্রতিবাদ করছেন। তিনি বলছেন শাসন বিভাগ বিচার বিভাগের ওপর হস্তক্ষেপ করছে। প্রধান বিচারপতি যখন এ হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে কথা বলেন, তখন তাদের গায়ে জ্বালা ধরে যায়। তিনি বলেন, সাংবাদিক ও গণমাধ্যম গণতন্ত্রের একটি মূল ভিত্তি। তাদের স্বাধীনতাকে আজকে সঙ্কুচিত করা হয়েছে। মিডিয়ার ওপর স্বঘোষিত নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়েছে। এখন তাদের চলাচলের ওপর নজদারি করা হচ্ছে। এটা কোন গণতান্ত্রিক সরকার করে না।

রিজভী বলেন, এ সরকারের টার্গেট বিএনপিকে ধ্বংস করা। সরকার বিএনপিকে ভয় পায় বলেই তাদের নেতাকর্মীদের গ্রেফতার করে কারাগারে পাঠানো হচ্ছে। এ কারণে বিএনপির নেতাকর্মীরা আতঙ্কে আছে। তিনি বলেন, অন্যায় বা অবৈধ কর্মকা- কখনও চাপা দেয়া যায় না। তাই একদিন এ সরকারের অন্যায় ও অবৈধ কর্মকা-ের বিচার একদিন হবেই হবে। গ্রেফতারকৃত বিএনপি নেতাকর্মীদের মুক্তি দাবি করে রিজভী বলেন, সরকার তাদের মুক্তি না দিলে আন্দোলন করে মুক্ত করা হবে।

আয়োজক সংগঠনের সভাপতি আবু নাসের রহমত উল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মানববন্ধন কর্মসূচীতে আরও বক্তব্য রাখেনÑ বিএনপির বিএনপির স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরিন সুলতানা, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক এ বি এম মোশাররফ হোসেন, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: