২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

বাজারে ওঠে সবার আগে, সুস্বাদু মিষ্টি দামে চড়া


বাজারে ওঠে সবার আগে, সুস্বাদু মিষ্টি  দামে চড়া

এমএ রকিব ॥ বাজারে সবে উঠতে শুরু করেছে সুস্বাদু মৌসুমী ফল লিচু। মেহেরপুরে এবার আমের পর লিচুরও আবাদ হয়েছে ভাল। বাগানগুলোর গাছে গাছে ঝুলছে লাল টস টসে লিচু। ফলের ভারে গাছের অবস্থা মাটি ছুঁই ছুঁই। আবার অনেকে লিচু সংগ্রহ করে থরে থরে সাজিয়ে রেখেছেন আড়তে। বিক্রির উদ্দেশ্যে তারা ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে দিচ্ছেন হাঁকডাক। এখানকার লিচু অন্যান্য জেলার তুলনায় যেমন আগে ভাঙ্গা পড়ে, তেমনই শেষও হয়ে যায় আগেভাগে। এর আগে মেহেরপুরের বোম্বাই, হিমসাগর, ল্যাংড়াসহ নানা জাতের ও হরেক নামের আম গেছে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। তবে বিদেশে না গেলেও এ জেলার সুস্বাদু লিচুর চাহিদা ও খ্যাতি রয়েছে দেশজুড়ে। এ জেলায় উৎপাদিত আটি, বোম্বায়, মোজাফ্ফর, আতাবোম্বাই, চাইনা থ্রীসহ বিভিন্ন নাম ও জাতের লাল টস টসে লিচু চলে যায় রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। কাঠফাটা রোদে রসালো এই ফলটিকে ঘিরে মেহেরপুরের বাসস্ট্যান্ড পাইকারি বাজার এখন বেশ জমজমাট। চলছে পাইকার, ফড়িয়া ও বিক্রেতাদের হাঁকডাক। প্রতি হাজার লিচু বেচাকেনা হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা দরে। তবে ফলন ভাল এবং চড়া দাম পেলেও মুখে হাসি নেই মেহেরপুরের লিচু চাষীদের। বৈরী আবহাওয়ায় লিচু নষ্ট হয়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে তারা রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। এমন পরিস্থিতিতে গুণগত মান ঠিক রাখার জন্য আরও কয়েকদিন পর লিচু সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছে কৃষি বিভাগ। মেহেরপুরের বাগানে বাগানে এখনও ঝুলে রয়েছে রাশি রাশি লিচু। লাভজনক হওয়ায় দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চলের এ জেলায় ক্রমান্বয়ে বাড়ছে লিচুর আবাদ। যদিও চলতি মৌসুমে বেশ কয়েকবার কালবৈশাখীর ঝড় ও গ্রীষ্মের খরতাপে নষ্ট হয়েছে বাগানের লিচু। চাষীরা বলছেন, বাজারে ভাল দাম থাকলেও ফলন বিপর্যয় দেখা দেয়ায় উৎপাদন খরচ তোলা নিয়ে তাদের মধ্যে রয়েছে সংশয়। আটি, বোম্বায়, মোজাফ্ফর, আতাবোম্বাই, চায়না থ্রীসহ বিভিন্ন জাতের লিচু চাষ হয়ে থাকে এ জেলায়। এ জেলায় উৎপাদিত লাল টস টসে সুস্বাদু লিচু যায় রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট ও বরিশালসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায়। প্রতিদিনই ৪ থেকে ৫ ট্রাক করে লিচু চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের হিসেব মতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৫৮৯ হেক্টর জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে, যা থেকে ৫ হাজার মেট্রিক টন লিচু উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। মেহেরপুর শহরের ম-লপাড়ার লিচু চাষী কালু জানান, বছরের শুরুতেই গাছে ভাল মুকুল এসেছিল। কিন্তু হঠাৎ করেই আবহাওয়া তারতম্যের কারণে নষ্ট হয়ে যায় গাছের মুকুল। তারপরও ভাল ফলনের আশায় বুক বেঁধেছিল কৃষকেরা। কিন্তু দফায় দফায় কালবৈশাখীর ঝড়ে ঝরে যায় অনেক লিচু। তারপরও গ্রীষ্মের প্রচ- রোদ্রে পুড়ে ফেটে যাচ্ছে লিচু। বাজারে প্রতি হাজার লিচু বিক্রি হচ্ছে ১ হাজার ৭০০ টাকা থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা দরে। তবে ফলন বিপর্যয়ের কারণে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের। মেহেরপুর সদর উপজেলার রাজনগর গ্রামের লিচু চাষী একরামূল জানান, তার এবার ১২ বিঘা জমিতে লিচুর আবাদ হয়েছে। কালবৈশাখী ঝড়ে লিচু নষ্ট হওয়া ছাড়াও এখন লিচু পুড়ে ফেটে নষ্ট হচ্ছে। নিয়মিত সেচ ও কীটনাশক প্রয়োগ করেও কোন কাজ হচ্ছে না। এদিকে সার, বিষসহ শ্রমিকের মজুরি বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে দ্বিগুণ। ফলে খরচ তুলতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কৃষকদের। তবে লাভবান হচ্ছে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ব্যবসায়ীরা। ঢাকা থেকে আসা ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী জানান, সবার আগে বাজারে ওঠে মেহেরপুরের লিচু। এখানকার ফলের চাহিদাও থাকে বেশ। লিচু কিনে তারা দেশের বিভিন্ন জেলায় নিয়ে বিক্রি করছেন। এতে লাভবানও হচ্ছেন তারা। মেহেরপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক এস এম মোস্তাফিজুর রহমান জানান, প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মাইক্রোনিউট্রেনটের অভাব ও পানির তারতম্যের কারণে লিচু ফেটে যেতে পারে। এ জন্য সুষম মাত্রায় সার ও নিয়মিত সেচ প্রয়োগের পরামর্শ দেয়া হচ্ছে কৃষকদের। আর লিচুর গুণগত মান ধরে রাখার জন্য আরও কয়েকদিন পর লিচু বাজারজাত করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। কারণ এতে লিচুর আকৃতি বড় হবে এবং খেতেও বেশি মিষ্টি লাগবে বলে মত দেন তিনি।