২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

কমছে মানবপাচার


কমছে মানবপাচার

গাফফার খান চৌধুরী ॥ থেমে যায়নি মানবপাচার। তবে কমে আসছে। গত তিন বছরে মানবপাচার উল্লেখযোগ্যহারে কমেছে। প্রধানমন্ত্রী মানবপাচারের ক্ষেত্রে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতরা যত ক্ষমতাধরই হোক, তাদের আইনের আওতায় আনার ঘোষণা দেন তিনি। তারই প্রেক্ষিতে মানবপাচারের মামলা তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিটি ইউনিটে বিশেষ সেল গঠিত হয়েছে। তার পরেও অকাট্য প্রমাণের অভাবে এবং দায়েরকৃত মামলায় ত্রুটি থাকায় আইনের বাইরেই থেকে যাচ্ছে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত অনেক রাঘববোয়াল। তবে যে হারে মানবপাচারকারীরা গ্রেফতার হচ্ছে, এ ধারা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে মানবপাচার শূন্যের কোটায় নেমে আসতে পারে। মানবপাচার ঠেকাতে স্থলসীমান্ত পয়েন্টগুলোতে, জলসীমা এবং বিমানবন্দরগুলোতে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে এমন তথ্য মিলেছে।

সিআইডির সংঘবদ্ধ অপরাধ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, মানবপাচারের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করেছেন। মানবপাচারের সঙ্গে জড়িতরা যত ক্ষমতাধরই হোক না কেন, তাদের আইনের আওতায় আনার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এরই প্রেক্ষিতে পুলিশ মহাপরিদর্শক পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) একজন অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শককে প্রধান করে তিন সদস্যবিশিষ্ট একটি কমিটিও গঠন করেন। সিআইডির একজন বিশেষ পুলিশ সুপার ও পুলিশ সদর দফতরের ডিসিপ্লিন এ্যান্ড প্রফেশনাল স্ট্যান্ডার্ড শাখার একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপারকেও কমিটির সদস্য করা হয়। কমিটি মানবপাচার সংক্রান্ত যাবতীয় মামলা ও আনুষঙ্গিক বিষয়াদি মনিটরিং করছে। তবে সিআইডির সংঘবদ্ধ অপরাধ বিভাগ ছাড়াও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিটি ইউনিটকে মানবপাচার সংক্রান্ত মামলার তদন্ত, আসামি গ্রেফতারসহ অন্যান্য প্রক্রিয়া গুরুত্বের সঙ্গে দেখতে নির্দেশ দেন আইজিপি একেএম শহীদুল হক।

সিআইডির সংঘবদ্ধ অপরাধ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালে বিদেশে পাচার হওয়াদের মধ্যে পাঁচ হাজারেরও বেশি লোককে দেশে ফেরত আনা হয়েছে। উদ্ধারকৃতদের বিভিন্ন সময় পাচার করা হয়েছিল বলে জবানবন্দীতে প্রকাশ পায়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে ২০১৩ থেকে ২০১৫ সালের মে পর্যন্ত এক হাজার ৪৯৪ বাংলাদেশীকে থাইল্যান্ডের পুলিশ অবৈধভাবে প্রবেশের দায়ে গ্রেফতার করেছিল। এর মধ্যে ৯১৯ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়। তাদের পর্যায়ক্রমে দেশে ফেরত আনা হচ্ছে। ফেরত আনাদের জবানবন্দী রেকর্ড করা হয়েছে। পাচার হওয়ার পর বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কারাগারে বা বিভিন্ন সেফ হোমে থাকা বাংলাদেশীদের পরিচয় শনাক্ত করে দেশে ফেরত আনার প্রক্রিয়া অব্যাহত আছে। দেশে ফেরত আনাদের মধ্যে ২০১৩ সালে ইরান থেকেই ফেরত আনা হয়েছে পাচার হওয়া বাংলাদেশীদের মধ্যে দুই হাজার জনকে। তবে পাচারকারী চক্রগুলো ঠিক কতজনকে পাচার করেছিল, সে বিষয়ে সুস্পষ্ট কোন তথ্য মেলেনি। তা জানার চেষ্টা করছে স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

সিআইডির একজন উর্ধতন কর্মকর্তা জানান, ফেরত আনাদের জবানবন্দী রেকর্ড করে রাখা হয়েছে। জবানবন্দীতে উঠে এসেছে মানবপাচারকারীদের নির্যাতনের লোমহর্ষক কাহিনী। উদ্ধার হওয়াদের একজন তারেক। তিনি তার জবানব›ীদতে জানান, গ্রামের দুই দালালের মাধ্যমে থানা পর্যায়ের এক দালালের সঙ্গে পরিচয় হয়। থানা পর্যায়ের ওই দালাল চট্টগ্রামের কক্সবাজার থেকে ট্রলারযোগে সমুদ্রপথে তাকে মালয়েশিয়ার উদ্দেশে পাঠায়। ওই ট্রলারে আরও অন্তত ৮০ জন ছিল। সমুদ্রের মাঝে ট্রলার পরিবর্তন করে। ওই ট্রলারে আরও বিভিন্ন জায়গা থেকে মানুষজন এনে তোলা হয়। ট্রলারটি সমুদ্রের মাঝে তিন মাস ছিল। দুই বেলা খাওয়ার দেয়া হতো। বাড়তি খাবার চাইলেই মারধর করা হতো। অনেকে ক্ষুধার যন্ত্রণায় ট্রলার থেকে লাফিয়ে পড়েছেন। অনেককেই কুমির ও হাঙ্গরে খেয়ে ফেলেছে। আবার অনেকেই লবণাক্ত পানি পানের কারণে বমি করতে করতে মারা গেছেন। অনেককে মারাত্মক জখম করে সমুদ্রে ফেলে দিয়েছে দালালরা। দালালরা মারধর করে পরিবারের লোকজনের কাছে ফোন করে মুক্তিপণ হিসেবে টাকা আদায় করত। যার কাছ থেকে যা নিতে পারত। সাগরে থাকার এক পর্যায়ে সেখান দিয়ে যাওয়া মিয়ানমারের নৌবাহিনী ট্রলার দেখে এগিয়ে আসতে থাকে। এ সময় অন্য ট্রলারে করে দালালরা পালিয়ে যায়। পরে নৌবাহিনী তাদের উদ্ধার করে মিয়ানমারে নিয়ে যায়। (কৌশলগত কারণে তারেকের বিস্তারিত পরিচয় প্রকাশ করা হলো না)।

সিআইডি বলছে, ২০১৪ সালে বাংলাদেশের সাত তরুণীকে ভাল চাকরি দেয়ার নাম করে সীমান্তপথে ভারতে পাচার করে একটি চক্র। তাদের বোম্বেতে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা বেতনে চাকরির লোভ দেখিয়ে চেন্নাইয়ের একটি পতিতালয়ে বিক্রি করে দেয়া হয়েছিল। ভাষাগত সমস্যার কারণে তারা ভারতীয় পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়। ওই সময় বিষয়টি দেশ-বিদেশে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। সর্বশেষ ২০১৫ সালে বাংলাদেশ ও ভারত সরকারের মধ্যে আলাপ-আলোচনার প্রেক্ষিতে দেশে ফিরিয়ে আনা হয় ওই সাত তরুণীকে।

সিআইডি সূত্র বলছে, ২০১৫ সালের প্রথম দিকে থাইল্যান্ডের জঙ্গলে একের পর এক গণকবর আবিষ্কৃত হওয়ার ঘটনায় রীতিমতো হৈচৈ পড়ে যায়। উদ্ধার হয় শত শত মানুষের কঙ্কাল। মানবপাচার সংক্রান্ত প্রায় তিন হাজার মামলা জমা পড়েছে সিআইডির কাছে। এসব মামলার আসামির অধিকাংশই গ্রাম ও থানা পর্যায়ের দালাল। এর মধ্যে দুই হাজারের বেশি মামলার তদন্ত শেষে নয় হাজার জনকে আসামি করে ইতোমধ্যেই চার্জশীট দাখিল করা হয়েছে। বাকি মামলার তদন্ত চলছে। আসামিদের অধিকাংশই গ্রাম ও থানা পর্যায়ের দালাল। তাদের অধিকাংশই পলাতক।

পুলিশ ও র‌্যাব সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর শতাধিক মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য গ্রেফতার হয়েছে। তাদের কাছ থেকে চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে। সে তথ্য মোতাবেক অভিযান অব্যাহত আছে। তারই ধারাবাহিকতায় প্রায়ই মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যরা গ্রেফতার হচ্ছে। সর্বশেষ তারই ধারাবাহিকতায় লিবিয়া থেকে পাচার হওয়া ১২ জনকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হয় র‌্যাব-৩-এর একটি দল। ইতোপূর্বে সিআইডি পুলিশ বিদেশে অপহৃত বাংলাদেশী ও পাচার হওয়াদের মধ্যে অন্তত পাঁচ হাজার জনকে উদ্ধার করে দেশে ফিরিয়ে আনে। বিদেশে অপহৃতদের মধ্যে বিদেশেই অন্তত ১৭ জনকে উদ্ধার করে ওই সব দেশে থাকা তাদের পরিবারের কাছে ফেরত পাঠায়।

বহু মানবপাচার মামলার তদন্তের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সিআইডির সংঘবদ্ধ অপরাধ বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার মীর্জা আবব্দুল্লাহেল বাকী জানান, বাংলাদেশের মানবপাচার চক্রগুলোর সঙ্গে ভারত, পাকিস্তান, মিয়ানমার, ইরান, ইরাক, দক্ষিণ আফ্রিকা, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, লিবিয়া, কানাডা, থাইল্যান্ড, সুদান, দক্ষিণ সুদান, সাইপ্রাস, গ্রীসসহ বহু দেশের আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্রের যোগাযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে জল, স্থল ও আকাশ তিন পথেই মানবপাচার হয়। স্থলপথে বাংলাদেশ থেকে সাধারণত ভারতে মানুষ পাচার হয়। এদের অধিকাংশই হেঁটে ভারতে প্রবেশ করে। এদের মধ্যে নারী ও শিশুর সংখ্যা বেশি। তাদের ভাল কাজের লোভ দেখিয়ে ভারতে নিয়ে বিভিন্ন অসামাজিক কর্মকা-ে জড়িত করে দালালরা। মাঝেমধ্যেই উদ্ধার হয়। ভারতে পাচার হওয়াদের একটি বড় অংশ চলে যায় পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে, যাদের অনেকেই জড়িয়ে পড়ে জঙ্গীবাদে। তারা সেখান থেকে জঙ্গীবাদ অধ্যুষিত দেশগুলোতেও চলে যায় বলে নানাভাবে জানা যায়। তবে এর সংখ্যা কত তার সঠিক কোন পরিসংখ্যান জানা যায়নি।

আর জলপথে মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়াসহ অন্যান্য দেশে ট্রলারযোগে পাচার করা হয়। এছাড়া আকাশপথে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার উদ্দেশে দক্ষিণ আফ্রিকা, ব্রাজিল, সাইপ্রাস, গ্রীসে পাঠায়। সেখানে থাকা পাচারকারীরা বিভিন্ন দেশ থেকে যাওয়া মানুষদের ভূমধ্যসাগর নৌকায় করে পাড়ি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে পাঠানোর চেষ্টা করে। অনেকেই গ্রেফতার হয়। তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

সারাদেশেই মানবপাচারকারীদের জাল বিস্তৃত। বিশেষ করে দেশের দরিদ্র অঞ্চল ও সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে মানব-পাচারকারীদের তৎপরতা সবচেয়ে বেশি। মাঝেমধ্যেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে দালালরা গ্রেফতার হচ্ছে। তবে তথ্য-প্রমাণের অভাবে পর্দার আড়ালেই থেকে যাচ্ছে রাঘববোয়ালরা। দেশে মানবপাচারকারীদের কতটি আন্তর্জাতিক চক্র সক্রিয় তার সুনির্দিষ্ট কোন পরিসংখ্যান নেই। তবে চলতি বছর গ্রেফতারকৃত শতাধিক মানবপাচারকারী চক্রের সদস্যের তথ্য মোতাবেক দেশে মানবপাচারকারীদের অসংখ্য চক্র সক্রিয় রয়েছে।

তিনি জানান, বহু ধাপে মানবপাচারের মতো অপরাধ সংঘটিত হয়। এটি অনেকটা জঙ্গীদের মতো কাটআউট পদ্ধতিতে কাজ করে। গ্রাম পর্যায়ের দালালদের সঙ্গে থানা পর্যায়ের, থানা পর্যায়ের দালালদের সঙ্গে জেলা পর্যায়ের, জেলা পর্যায়ের দালালদের সঙ্গে বিভাগীয় পর্যায়ের এবং বিভাগীয় পর্যায়ের দালালদের সঙ্গে বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সির যোগাযোগ থাকে। এটি একটি বিশাল চেনের মতো প্রক্রিয়া। এ চেনের মধ্যে রয়েছে বিভিন্ন রিক্রুটিং এজেন্সি, দেশ-বিদেশের আন্তর্জাতিক পাচারকারী চক্র, বিমানবন্দর, সংশ্লিষ্ট দেশের বাংলাদেশ ও ওই সব দেশের দূতাবাস, ইমিগ্রেশন বিভাগ, সমুদ্রবন্দরের সঙ্গে জড়িতরা। অনেক রিক্রুটিং এজেন্সি ভুয়া নাম-ঠিকানা ব্যবহার করে ব্যবসা করে। এসব চক্রের মাধ্যমেই লোক বিদেশে পাঠানোর নাম করে পাচার করে দেয়া হয়ে থাকে। পুরো চেনে সবাই কমিশন পেয়ে থাকে। ফলে যে যার যার মতো কমিশন নিয়ে সরে পড়ে।

এর শেকড় অনেক গভীরে। পাচারের পর উদ্ধার হওয়া মানুষজন দালালদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। সবচেয়ে বেশি মামলা হয়েছে কক্সবাজারের থানাগুলোতে। আর মামলা দায়েরের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলার থানাগুলো। এসব মামলার তদন্তে থানা থেকে জেলা পর্যায়ের দালালদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়। এরপর আইনের আওতায় আনার জন্য আর যেসব অকাট্য প্রমাণাদি প্রয়োজন হয়, তা অনেকক্ষেত্রেই পাওয়া যায় না। ফলে অকাট্য তথ্য-প্রমাণাদির অভাবে রাঘববোয়ালদের চার্জশীটভুক্ত আসামি করা যায় না।

তিনি আরও জানান, ২০১৫ সালে আন্দামান সাগরে মাছ ধরা জেলেরা আট শ’র মতো বাংলাদেশীকে সাগরে ভাসতে দেখে উদ্ধার করে। পরে তাদের ইন্দোনেশিয়ার আচেহ প্রদেশে রাখা হয়। ওই বছর ৬শ’ জনকে ইরান, ইরাক, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত আনা হয়। তবে এখন পর্যন্ত বিদেশে পাঠানোর কথা বলে কতজন বাংলাদেশীকে পাচার করা হয়েছে তার সঠিক কোন পরিসংখ্যান মেলেনি। তবে মানবপাচার গত তিন বছরে উল্লেখযোগ্যহারে কমে এসেছে। আগে হাজার হাজার মানুষকে বছরে বিদেশে পাচার করা হতো। এখন পাচারসংক্রান্ত মামলার পরিসংখ্যান দিন দিন কমে আসছে, যা মানবপাচার আগের তুলনায় কমে এসেছে বলে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছে। ২০১৩ ও ২০১৪ সালের পর বছরে গড়ে পাঁচ শ’ মানুষকে উদ্ধারের ঘটনাও ঘটেনি, যা মানবপাচার কমে আসার ইঙ্গিত বহন করে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ সংশ্লিষ্টরা আরও তৎপর হলে অদূর ভবিষ্যতে মানবপাচার শূন্যের কোটায় নেমে আসা বিচিত্র নয়।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: