২১ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

আইরিশদের উড়িয়ে বড় জয় বাংলাদেশের


আইরিশদের উড়িয়ে বড় জয় বাংলাদেশের

অনলাইন রিপোর্টার ॥ আইরিশদের উড়িয়ে দিয়ে বড় জয় পেয়েছে বাংলাদেশ। যদিও ম্যাচে সৌম্য সরকার একটু আফসোস করতেই পারেন সেঞ্চুরিটা না হওয়ার! তবে দুর্দান্ত জয়ের দিনে আফসোসের চেয়ে জয়ের আনন্দটাই বেশি।

আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় সিরিজের প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টির কারণে পয়েন্ট ভাগাভাগি করতে হয় মাশরাফিদের। দ্বিতীয় ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে হার। টানা দুই ম্যাচের হতাশা কাটিয়ে ওঠার লক্ষ্যে দুর্দান্ত জয় দরকার ছিল বাংলাদেশের। বোলারদের দুর্দান্ত নৈপুণ্যের পর সৌম্য, তামিম ইকবাল ও সাব্বির রহমানের দৃঢ়তায় আয়ারল্যান্ডকে ৮ উইকেটের বড় ব্যবধানে হারিয়ে স্বস্তি ও ছন্দ ফিরে পেয়েছে টাইগাররা।

ডাবলিনের ম্যালাহাইডে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ৫০ ওভারের ২১ বল বাকি থাকতেই ১৮১ রানে গুটিয়ে যায় আয়ারল্যান্ড। জবাবে ব্যাটিংয়ে নেমে টপঅর্ডার ব্যাটসম্যানদের দৃঢ়তায় ১৩৭ বল ও ৮ উইকেট হাতে রেখেই জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের হয়ে সর্বোচ্চ ৮৭ রান করেন ব্যাক টু ব্যাক হাফসেঞ্চুরি করা সৌম্য। ৬৮ বলে ১১টি চার ও ২টি ছক্কার সাহায্যে হার না মানা এই ইনিংস খেলেন তিনি। এছাড়া তামিম ৫৪ বলে ৪৭ সাব্বির করেন ৩৪ বলে ৩৫ রান। মুশফিক ৪ রানে অপরাজিত থাকেন।

নিউজিল্যান্ডের হয়ে একটি করে উইকেট নেন কেভিন ও'ব্রায়েন ও ব্যারি ম্যাকার্থি। ইনিংসের ১৫ ওভারের মধ্যেই ৬ জন বোলার ব্যবহার করে ফেলেন আইরিশ অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড। কিন্তু সৌম্য-তামিমদের দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের দিন হতাশাই সঙ্গী হয়েছে স্বাগতিকদের।

১৮২ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকে স্বাচ্ছন্দে খেলতে থাকেন তামিম ও সৌম্য। তামিম শুরু থেকেই সাবলীল থাকলেও সৌম্য ছিলেন কিছুটা ধীর। টিম মুরতাগের করা অষ্টম ওভারের তৃতীয় বল মিড-উইকেটের ওপর দিয়ে সীমানাছাড়া করে পুরোপুরি ছন্দ ফিরে পান সৌম্যও।

৮ ওভার শেষে তামিম ২৪ ও সৌম্য ১৩ রান নিয়ে ব্যাট করছিলেন। এরপরই যেন তামিমকে ছাড়িয়ে যাওয়া মিশন শুরু করেন সৌম্য। ব্যারি ম্যাকার্থির করা নবম ওভারে একটি ছক্কা ও দুটি চার হাঁকিয়ে তামিমকে ছাড়িয়ে যান এই স্টাইলিশ ব্যাটসম্যান।

১৩ ও ১৪তম ওভারে দুটি চার হাঁকিয়ে সৌম্যকে ছাড়িয়ে যান তামিম। তবে ১৪তম ওভারেই সাজঘরে ফিরতে হয় টাইগার ওপেনারকে। কেভিন ও'ব্রায়েনের করা ওভারের পঞ্চম বল তামিমের ব্যাটের কানায় লেগে নেইল ও'ব্রায়েনের হাতে আশ্রয় নিয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন তিনি।

দলীয় ৯৫ রানের মাথায় তামিম ফিরে গেলেও সেটি ম্যাচে কোনো প্রভাব ফেলেনি। দ্বিতীয় উইকেটে সাব্বির ও সৌম্য ৭৬ রানের দুর্দান্ত জুটি গড়ে বাংলাদেশকে জয়ের বন্দরের কাছাকাছি নিয়ে যান। দলীয় ১৭১ রানের মাথায় সাব্বির স্কয়ার লেগ বাউন্ডারির কাছে ক্যাচ দিয়ে ফিরে গেলে মুশফিকুর রহীমকে নিয়ে ১১ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটি গড়ে দলকে জিতিয়েই মাঠ ছাড়েন সৌম্য।

এর আগে ডাবলিনের ম্যালাহাইড স্টেডিয়ামে টস জিতে প্রতিপক্ষকে ব্যাটিংয়ে পাঠান মাশরাফি। শুরুর দিকে বাংলাদেশি বোলারদের আক্রমণের মুখে চাপে পড়লেও মাঝপথে ঘুরে দাঁড়ানোর স্বপ্ন দেখে স্বাগতিকরা। কিন্তু মোস্তাফিজ, সানজামুল ও মাশরাফির দারুণ বোলিংয়ে ৪৬.৩ ওভারে ১৮১ রানেই গুটিয়ে যায় আয়ারল্যান্ড। জয়ের পথেই হাঁটছে বাংলাদেশ।

আয়ারল্যান্ডের হয়ে সর্বোচ্চ ৪৬ রান করেন এড জয়সে। এছাড়া নেইল ও'ব্রায়েন ৩০, জর্জ ডকরিল ২৫ ও উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড করেন ২২ রান।

বাংলাদেশের সেরা বোলার মোস্তাফিজ। ৯ ওভারের স্পেলে ২৩ রান দিয়ে ৪ উইকেট নেন কাটার মাস্টার। এছাড়া মাশরাফি ও অভিষিক্ত সানজামুল দুটি এবং সাকিব আল হাসান ও মোসাদ্দেক হোসেন নেন একটি করে উইকেট।

বিপদের মুখে ভড়কে না গিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন নেইল ও'ব্রায়েন ও জয়সে। সেই প্রতিরোধ ভাঙেন মোস্তাফিজ। স্টাম্পের বাইরের বল তুলে মারতে গিয়ে থার্ডম্যানে তামিম ইকবালের হাতে ক্যাচ দিয়ে নেইল ফিরে গেলে চাপের মুখে পড়ে আয়ারল্যান্ড।

সেই চাপ আরো বাড়িয়ে দেন অভিষিক্ত সানজামুল। ২৯তম ওভারে অভিষিক্ত বোলারের হাতে বল তুলে দেন মাশরাফি। ওভারের শেস বলে সানজামুলকে তুলে মারতে গিয়ে লং অনে তামিমের হাতে ক্যাচ দিয়ে প্যাভিলিয়নের পথ ধরেন জয়সে। আয়ারল্যান্ডের দলীয় রান তখন ৬ উইকেটে ১২৬ রান।

কিছুক্ষণ পর দলীয় ১৩৪ রানের মাথায় মোস্তাফিজের বলে কেভিন ও'ব্রায়েন মোসাদ্দেকের দুর্দান্ত ক্যাচের শিকার হয়ে সাজঘরে ফিরলে উল্লাসে মেতে ওঠে বাংলাদেশ। এক ওভার পর আক্রমণে এসে গ্যারি উইলসনকে উইকেটের পেছনে মুশফিককে ক্যাচ দিতে বাধ্য করেন দুর্দান্ত বোলিং করা মোস্তাফিজ।

১৩৬ রানে ৭ উইকেট পড়ার পরই ব্যারি ম্যাকার্থি ও ডকরিল দারুণ প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এই দুজন অষ্টম উইকেটে ৩৫ রান তোলেন। দলীয় ১৭১ রানের মাথায় ম্যাকার্থিকে লেগ বিফোরের ফাঁদে ফেলে পথের কাঁটা দূর করেন সানজামুল।

বাকি গল্পটুকু মাশরাফির। দারুণ বোলিং করলেও উইকেটের দেখা পাচ্ছিলেন না টাইগার দলনায়ক। এ নিয়ে সমর্থকদেরও একটা আক্ষেপ ছিল। একই ওভারে জোড়া আঘাত হেনে সেই আক্ষেপ দূর করার পাশাপাশি আয়ারল্যান্ডের ইনিংসের যবনিকা টানেন মাশরাফি। ম্যাশের করা ৪৭তম ওভারের দ্বিতীয় বলে মুশফিকের হাতে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন ডকরিল। পরের বলে বাম দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে পিটার চেজের ক্যাচ নিয়ে বাংলাদেশকে উল্লাসে মাতান মুশফিক।

আগামী রবিবার ত্রিদেশীয় সিরিজে নিজেদের শেষ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে আয়ারল্যান্ড। বুধবার নিজেদের শেষ ম্যাচে বাংলাদেশ খেলবে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।

প্রসঙ্গত, ত্রিদেশীয় সিরিজ শেষ করে ২৫ মে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে অংশ নিতে ইংল্যান্ডের বিমান ধরবে বাংলাদেশ। ১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে স্বাগতিক ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। ইংলিশরা ছাড়া গ্রুপে বাংলাদেশের অপর দুই প্রতিপক্ষ হলো অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ড।

বাংলাদেশ একাদশ: মাশরাফি বিন মুর্তজা (অধিনায়ক), সাকিব আল হাসান (সহ-অধিনায়ক), মুশফিকুর রহীম, তামিম ইকবাল, মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ, রুবেল হোসেন, সৌম্য সরকার, সাব্বির রহমান, মোস্তাফিজুর রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন ও সানজামুল ইসলাম।

আয়ারল্যান্ড একাদশ: উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড (অধিনায়ক), এন্ড্রু ব্যালব্রিন, পিটার চেজ, জর্জ ডকরিল, এড জয়েস, টিম মুরতাগ, ব্যারি ম্যাকার্থি, কেভিন ও'ব্রায়েন, নেইল ও'ব্রায়েন, পল স্টারলিং, ও গ্যারি উইলসন

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: