মূলত পরিষ্কার, তাপমাত্রা ২২.৮ °C
 
২৪ মে ২০১৭, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৪, বুধবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

দেশপ্রেম বনাম দেশ বিক্রি

প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০১৭
  • সালহ্উদ্দিন আহমদ চৌধুরী লিপু

১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে ৯ মাস সশস্ত্র যুদ্ধের মাধ্যমে ৩০ লাখ শহীদ ও ২ লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত হয়েছে স্বাধীনতা, বাংলাদেশ নামক ৫৬ হাজার বর্গমাইলের একটি স্বাধীন সার্বভৌম ভূখ-, একটি সংবিধান, এটি লাল সবুজের পতাকা। পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম করতে হয়েছে। স্বাধীন বাংলার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের নেতৃত্বে ১৯৫২ সালে মহান ভাষা আন্দোলন, ১৯৬২ সালে শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ সালে ৬ দফা আন্দোলন, ১৯৬৮ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন, ১৯৬৯ সালে গণঅভ্যুত্থান, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। ১৯৭১ সালে ৭ মার্চ রেসর্কোস ময়দানের অগ্নিঝরা ভাষণে উজ্জীবিত হয়ে বীর বাঙালী স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। মুক্তিযুদ্ধে ভ্রাতৃপ্রতিম দেশ ভারতের অবদান অবিস্মরণীয়। স্বাধীনতাত্তোর বঙ্গবন্ধু অতি দ্রুত সময়ে মিত্র বাহিনীকে ভারতে প্রেরণ করতে সক্ষম হয়েছিলেন। এখন বঙ্গবন্ধু তনয়া শেখ হাসিনার নেতৃত্বধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ক্ষমতাসীন। ভারত-বাংলাদেশ পারস্পরিক সুসম্পর্ক বজায় থাকার কারণে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত ০৮ এপ্রিল বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ২২টি চুক্তি ও ১৪টি সমঝোতা চুক্তি সম্পাদিত হয়। ২০১৮ সালের মধ্যে দু’সরকারের মধ্যে তিস্তা চুক্তি সম্পাদন হওয়ার কথা রয়েছে। ১৯৯৬-২০০১ মেয়াদে ভারতের সঙ্গে ৩০ বছর মেয়াদী গঙ্গার পানি চুক্তির মাধ্যমে শুষ্ক মৌসুমে ৬৪ হাজার কিউসেক পানি প্রাপ্তি সম্ভব হয়েছে, ১৯৭৪ সালের স্বাক্ষরিত মুজিব-ইন্দিরা সীমান্ত চুক্তিমতে ভারতের সঙ্গে ছিটমহল বিনিময় চুক্তি সফল বাস্তবায়ন, নেদারল্যান্ডসের হেগে আন্তর্জাতিক সালিশি আদালতে মামলায় জয়লাভ এবং বঙ্গোপসাগরে মায়ানমার হতে ২০০ নটিক্যাল মাইল ও ভারত হতে ৩৫৪ নটিক্যাল মাইলের সমুদ্রসীমা অর্জন করে। গত বছরের ১৪ অক্টোবর চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ২৭টি চুক্তি ও সমঝোতা চুক্তি সম্পাদন হয়েছে, তখন দেশ বিক্রি হয়নি, কিন্তু শেখ হাসিনা ভারতের সঙ্গে চুক্তি করলে দেশ বিক্রি ও দেশের সার্বভৌমত্ব নষ্ট হয়ে যায়। অথচ ২০০২ সালের ডিসেম্বরে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া চীনের সঙ্গে গোপনে প্রতিরক্ষা চুক্তি সম্পাদন করেন। এ চুক্তি এখনও বলবৎ আছে। বিএনপিওতো ভারতের সাথে অনেক চুক্তি সস্পাদন করেছে তখন কি দেশ বিক্রি হয়নি।

স্বাধীনতা অর্জনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ তথা বঙ্গবন্ধুর অবদান অনেক বেশি, তাই দলটির দেশপ্রেম প্রশ্নাতীত। তারা কি কখনও দেশ বিক্রি করতে পারে। এটিতো অবিশ্বাস্য ব্যাপার। দেখা যাচ্ছে মায়ের চেয়ে মাসির দরদ বেশি। বিএনপি-জামায়াত ও প্রতিক্রিয়াশীল দল সবসময় এদেশে ভারতবিরোধী জনমনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি এবং রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে আসছে। তারা অতীতেও ভারত জুজুকে ব্যবহার করে ফায়দা লুটেছে। এ মহল ক্ষমতায় থাকলে ভারত তাদের অকৃত্রিম বন্ধু, আর ক্ষমতাহীন হলে ভারত তাদের শত্রু। বিএনপি প্রতিদিন মিডিয়ায় বলে আসছে শেখ হাসিনা ভারতের কাছে দেশ বিক্রি করে ফেলছে, কিন্তু একটি দেশ কতবার বিক্রি করা যায়?

কোর্ট হিল, চট্টগ্রাম থেকে

প্রকাশিত : ২০ এপ্রিল ২০১৭

২০/০৪/২০১৭ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: