১৮ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

অস্বাভাবিক অগ্রহণযোগ্য


একটি দেশ অন্য দেশের সাথে বিদ্যুৎ, জ¦ালানি, খনিজ, বাণিজ্য, তথ্যপ্রযুক্তি, যোগাযোগ, শিক্ষা, সংস্কৃতি, পর্যটন, সামরিক, সীমান্ত, নিরাপত্তা প্রভৃতি বিষয়ে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই করতে পারে। কিন্তু দেশ বিক্রি হয় এটা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল, অবাস্তব, পাগলের প্রলাপ মাত্র। একজন সাধারণ মানুষ যখন অস্বাভাবিক বা অসৌজন্যমূলক আচরণ বক্তব্য দেন তা হয়তো মেনে নেয়া যায়। কিন্তু একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী যখন এমনটা করেন তখন তা সমাজের তথা দেশের মানুষের কাছে হয়ে ওঠে অগ্রহণযোগ্য। কথায় আছে- যে জাতি যত শিক্ষিত, সে দেশ তত উন্নত। ঠিক তেমনই, যে ব্যক্তি যত শিক্ষিত সে ব্যক্তির ভাষাও ঠিক তত উন্নত। যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ^াস করে না, যারা দেশদ্রোহী রাজাকারদের ফাঁসিতে উৎসাহিত হয় না ও বিভিন্ন জাতীয় দিবস আন্তরিকতার সাথে পালন করে না- তাদের মুখে দেশ বিক্রি করার কথা অত্যন্ত অস্বাভাবিক।

খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাবস্থায় ভারত সফরে গিয়েছিলেন, তখন ঐ সফরে গঙ্গার পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করার কথা ছিল। সফর শেষে খালেদা জিয়া দেশে ফিরলে সাংবাদিকরা তাকে জিজ্ঞেস করেছিল- গঙ্গা চুক্তির বিষয়ে ভারতে কী আলোচনা হয়েছে? তখন খালেদা জিয়া সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন- গঙ্গা চুক্তির কথা বলতে তিনি ভুলে গেছেন। বর্তমানে দেশের উন্নয়নে জননেত্রী শেখ হাসিনার যে অবদান তা দেশের জনগণ কিভাবে ভুলবে! জননেত্রী শেখ হাসিনাকে ২৪ বারের বেশি হত্যার চেষ্টা চালানো হয়েছে। অপরদিকে তিনি কখনো কারো বিরুদ্ধে হিংসাত্মক পাল্টা প্রতিশোধ নেননি। তাঁর নেতৃত্ব সম্পর্কে বিশে^র বড় বড় নেতারা প্রশংসা করেছেন। দীর্ঘ ৬৮ বছর ধরে চলা ছিটমহল সমস্যার সমাধান, বাংলাদেশ গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি, ১৯৯৭’র ঐতিহাসিক পার্বত্য শান্তি চুক্তি, ২০১৪ সালে ভারত-বাংলাদেশ সমুদ্র সীমার বিরোধ নিষ্পত্তিÑ এসবই আওয়ামী লীগের অবদান। যারা এখন দেশ বিক্রির নামে বড় বড় কথা বলে, তারা কেন ক্ষমতায় থাকতে এসব সমস্যার সমাধান করেননি? স্বাধীনতার পর ৪৬ বছরের প্রায় ৩০ বছর ক্ষমতায় ছিল স্বাধীনতা বিরোধী শক্তি। কিন্তু ৩০ বছরে তারা দেশকে কি দিয়েছে?

রামপুরা, ঢাকা থেকে