২০ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

হাওড়ে কৃষকের সর্বনাশ


জনকণ্ঠ রিপোর্ট ॥ ‘চলতি মৌসুমে ১০ একর জমিতে ব্রি-২৮ জাতের ধান রোপণ করি। এর মধ্যে ২ একর জমির ধান কেটে মাত্র ২৩ মণ ধান পেয়েছি! বাকি ৮ একর জমিই তলিয়ে গেছে। এই ক্ষতি কোনভাবেই পুষিয়ে ওঠা সম্ভব নয়।’Ñ কথাগুলো বলছিলেন নেত্রকোনা জেলার খালিয়াজুরি উপজেলার পুরানহাটি গ্রামের কৃষক শফিকুল ইসলাম। তিনি বলেন, একের পর এক বাঁধ ভেঙ্গে যাচ্ছে। নতুন করে খালিয়াজুরি-সোনাতলার বাঁধ ভেঙ্গে যাওয়ায় আরও কিছু জমির ধান ক্ষতিগ্রস্ত হবে। উপজেলার বাইরে সুনামগঞ্জ জেলার চিত্র আরও ভয়াবহ বলা চলে।

একই জেলার কৃষক মনির হোসেনের ৪০ একর জমির মধ্যে ৩৭ একর জমিই তলিয়ে গেছে। দিশেহারা এই কৃষক আক্ষেপের সুরে বলেন, কিছু জমিতে ধান বের হতে শুরু করেছিল মাত্র। তবে কোন ধানই পুষ্ট হয়নি। ফলে পানি চলে গেলেও কোন ধান পাওয়া যাবে না। কারণ সব ধানগাছই পচে যাবে। কিভাবে এই ক্ষতি পুষিয়ে ওঠব? এদিকে সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার নলুয়ার হাওড়ের কৃষক মাহমদ আলী বলেন, গতবছর একমুঠো ধান পাইনি! ফসল ঘরে তুলে মেয়ের বিয়ে দেব ভাবছিলাম এবারও তা আর হলো না। এখন নিজে খাব কি? গরু-বাছুরকে খাওয়াব কি? ধারদেনার-ইবা কি হবে? হাওড়ের আকাশে বাতাসে ধ্বনিত হচ্ছে এমন দীর্ঘশ্বাস। স্বপ্নভঙ্গ ভাটি অঞ্চলের ছয় জেলার দিশেহারা কৃষকরা কোন কোন স্থানে বাঁধ রক্ষায় শেষ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন এখনও। রাত জেগে পাহারা দিচ্ছেন বাঁধ। আকস্মিক নেমে আসা প্রাকৃতিক দুর্যোগে বেশিরভাগ কৃষকই এখন বাকরুদ্ধ। তাদের চোখে মুখে স্পষ্ট হয়ে ওঠেছে বুকফাটা আর্তনাদ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের তথ্য মতে, হাওড় অঞ্চলে প্রায় ১ লাখ হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে। কোন কোন স্থানে পানি নামতে শুরু করলেও ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব পেতে আরও কয়েকদিন সময় লাগবে। পাহাড়ী ঢল ও বর্ষণে দেশের হাওড় অঞ্চলগুলোতে ক্ষতির পরিমাণ ৫ হাজার কোটি টাকা অতিক্রম করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। কৃষকের এই ক্ষয়ক্ষতিতে বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেছে পুরো দেশ। শনিবার দিনভর বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন করেছে সুনামগঞ্জবাসী। নেত্রকোনার কৃষকরাও ফুঁসে ওঠেছেন। তারা বলছেন, পূর্বে থাকা সকল প্রকার কৃষিঋণ মওকুফ করতে হবে। একই সঙ্গে কৃষকের পাশে দাঁড়িয়ে সরকারকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এদিকে কয়েকটি সংগঠনের পক্ষ থেকে ৯ দফা দাবি জানানো হয়েছে। এসব দাবির মধ্যে স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে সেনাবাহিনীকে সম্পৃক্তকরণ ছাড়াওÑ হাওড়ের ৬ জেলাকে দুর্গত এলাকা হিসেবে ঘোষণা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়ী কর্মকর্তাদের বরখাস্ত বা বদলির দাবি অন্যতম।

নেত্রকোনার খালিয়াজুরি উপজেলার বুড়িহাটি গ্রামের কৃষক মনির হোসেন বলেন, বাঁধ রক্ষায় নামমাত্র কাজ দেখিয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা টাকা ওঠিয়ে নেয়। তারা দুর্বলভাবে বাঁধ তৈরি করে। পরবর্তীতে আমাদেরকেই ওই বাঁধ রক্ষা করতে হয়। টাকা উঠিয়ে ঠিকাদার পালিয়ে যায় কিন্তু কোন কাজ হয় না। এর সঙ্গে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উর্ধতন কর্মকর্তারা জড়িত। কয়েকটি দাবির কথা জানিয়ে কৃষক শফিকুল ইসলাম বলেন, পূর্বে থাকা সকল প্রকার কৃষিঋণ মওকুফ করতে হবে। একই সঙ্গে ফসলের যে ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে সরকারকে তার ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এছাড়াও অনেক কৃষকের নামে সার্টিফিকেট মামলা হয়েছে। কারণ যথাসময়ে তারা টাকা পরিশোধ করতে পারেনি। সেই মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।

হাওড়বাসীর পক্ষে বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে ৯টি দাবি জানানো হচ্ছে। এসব দাবিগুলো হলো- সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জসহ ৬ জেলাকে দুর্গত অঞ্চল ঘোষণা, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জনপ্রতি এক লাখ টাকা করে ক্ষতিপূরণ প্রদান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের দায়ী কর্মকর্তাদের বরখাস্ত বা বদলি, ফসল রক্ষায় স্থায়ী বাঁধ নির্মাণে সেনাবাহিনীকে দায়িত্ব প্রদান, জরুরী ভিত্তিতে হাওড় রক্ষা প্রকল্প গ্রহণ ও বাস্তবায়ন, হাওড় অঞ্চলে সিন্ডিকেট করে চাল ও নিত্যপণ্যের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে যুক্ত ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, আগামী বোরো মৌসুমে কৃষকদের বিনা সুদে ঋণের ব্যবস্থা, গবাদি পশু রক্ষায় স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ পদক্ষেপ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের মহাপরিচালক মোঃ মনজুরুল হান্নান জনকণ্ঠকে বলেন, বছরটিতে ১ লাখ হেক্টরের বেশি বোরো ধানের ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা নয়। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এখন প্রণোদনা দিয়ে কোন লাভ হবে না। আগামী বোরো মৌসুমের জন্য প্রণোদনা দেয়া হবে। বর্তমানে পানি কমতে শুরু করেছে। পানি কমে গেলে ধান জাগতে শুরু করবে। তলিয়ে যাওয়া সব জমির বোরো ক্ষেত একেবারে নষ্ট হয়ে যাবে না। এতে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা কমবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সরেজমিন উইং এর উপ-পরিচালক ড. মোহাম্মদ আবদুহু জনকণ্ঠকে বলেন, হাওড় অঞ্চলগুলোতে ১ লাখ ৪০ হাজার হেক্টর জমির বোরো ধানের ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে। তবে এটি চূড়ান্ত হিসাব নয়। তিনি বলেন, হাওড় অঞ্চলে সরকার প্রতিবছরই প্রণোদনা দেয়। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে প্রায় ৭৫ লাখ টাকার প্রণোদনা দেয়া হয়েছে। বছরটিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আগামী অর্থবছরে প্রণোদনা দেয়া হবে।

নেত্রকোনার হাওড়াঞ্চলে ৫শ’ কোটি টাকার ফসলহানি, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের পুনর্বাসন দাবি ॥ নেত্রকোনা থেকে আমাদের নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢল ও টানা অতিবৃষ্টির পানিতে হাওড়াঞ্চল খ্যাত নেত্রকোনার ৯ উপজেলার প্রায় ৩৫ হাজার হেক্টর জমির বোরো ফসল তলিয়ে গেছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলাগুলো হচ্ছে- খালিয়াজুরি, মোহনগঞ্জ, মদন ও কলমাকান্দা উপজেলার হাওড়াঞ্চল। খালিয়াজুরি উপজেলার প্রায় ৯০ ভাগ এবং মোহনগঞ্জ, মদন ও কলমাকান্দা উপজেলার সিংহভাগ জমির ধান পাকার আগেই তলিয়ে যায়। এছাড়া আটপাড়া, বারহাট্টা, কেন্দুয়া, দুর্গাপুর, পূর্বধলা এবং সদর উপজেলায়ও আংশিক ক্ষতি হয়। সারাবছরের অবলম্বন একমাত্র ফসল হারানোর কারণে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার কৃষক পরিবারগুলোতে এখন বুক ফাটা আর্তনাদ-আহাজারি চলছে।

কৃষি বিভাগ সূত্র জানায়, অকাল বন্যায় জেলার ৯ উপজেলার অন্তত লক্ষাধিক কৃষক পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে বেশির ভাগই ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক। উৎপাদনের দিক দিয়ে ক্ষতি হয়েছে অন্তত ২ লাখ টন ধান। যার বাজার মূল্যÑ আনুমানিক ৫শ কোটি টাকা।

খালিয়াজুরি উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম জনকণ্ঠকে জানান, অন্যান্য বার হাওড়গুলোতে পাহাড়ী ঢল আসলে কৃষকদের মাঝে কাঁচা বা আধা পাকা ধান কাটার হিড়িক দেখা যেত। কিন্তু এবার কৃষকরা ধান কাটার সুযোগই পায়নি। কারণ ধানের ক্ষেতগুলোতে সবেমাত্র ফ্লাওয়ারিং বা মিল্কিং স্টেজ চলছিল। অর্থাৎ ধান পাকতে আরও ২০-৩০ দিন সময় বাকি ছিল।

কিশোরগঞ্জের কৃষকরা স্বপ্নভঙ্গে দিশেহারা, তলিয়ে গেছে ২০ হাজার হেক্টর ধানি জমি ॥ কিশোরগঞ্জ থেকে আমাদের নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, জেলার হাওড়াঞ্চলের বিস্তীর্ণ মাঠের পর মাঠ বোরো ফসল অকাল বন্যায় পানির তোড়ে তলিয়ে গেছে। টানা সপ্তাহ ধরে বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে ইটনা-মিঠামইন-অষ্টগ্রাম ও নিকলী উপজেলার হাওড়ের পর হাওড় ধানি জমির ফসল পানিতে নষ্ট হয়ে গেছে। এতে করে ওইসব এলাকার কয়েক সহস্রাধিক কৃষক পরিবারে নেমে এসেছে চরম বিষাদ। ধান পাকার আগেই এমন ভয়াবহ বিপর্যয়ে হাওড়পাড়ের মানুষের এখন দুর্দিন চলছে। অসহায় কৃষকদের বুকফাটা আর্তনাদ আর আহাজারিতে ভারি হয়ে উঠেছে হাওড়পাড়ের পরিবেশ। ব্যাপক ফসলহানিতে স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তাগণ ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন। সংশ্লিষ্টদের দাবি, গত কয়েকদিনে অকাল বন্যায় অন্তত ৩২টি হাওড়ের প্রায় ২০ হাজার হেক্টর ধানি জমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এসব জমি থেকে প্রায় ৮০ হাজার টন চাল উৎপাদিত হত। ফলে এলাকার শত শত স্বপ্নভঙ্গের কৃষক তাদের জীবন ধারণের একমাত্র অবলম্বন হারিয়ে আজ দিশেহারা। এলাকাবাসীর অভিযোগ, সময়মতো ও যথাযথ বাঁধ নির্মাণ না করার কারণেই এ ক্ষতির অন্যতম কারণ। তাছাড়া দুর্বল বাঁধ নির্মাণ কাজে অবহেলার জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ক্ষতিগ্রস্তরা দাবি জানিয়েছেন।

বাঁধ রক্ষায় স্বেচ্ছাশ্রমে কৃষক, প্রতিবাদে উত্তাল সুনামগঞ্জবাসী ॥ সুনামগঞ্জ থেকে আমাদের নিজস্ব সংবাদদাতা জানান, কয়েক দিনের ভারী বর্ষণে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে সুনামগঞ্জের ১১ উপজেলারই প্রায় সবকয়টি বড় হাওড়ের ফসল পানিতে ডুবে গেলেও তাহিরপুর উপজেলার মঠিয়ান শাল্লা উপজেলার ছায়ার হাওড়ের কৃষক বাঘরাধরা বাঁধ ভেঙ্গে পানি ঢোকা শুরু হয়েছে। টলটলায়মান অবস্থায় বাঁধ রক্ষার লড়াইয়ে হাজার হাজার কৃষককে পরাজিত হয়ে এখন শুধু দীর্ঘশ্বাস ছাড়ছেন। কৃষকরা স্বেচ্ছাশ্রমে কাজ করে চলেছেন শনির হাওড়সহ অডুবন্ত বাঁধগুলোতে এখনও। তবে সেইসব বাঁধে পাউবো’র কোন কর্মচারী, ঠিকাদার, পিআইসি সদস্যরা জনরোষে যেতে পারছেন না।

এদিকে কৃষক ও হাওড় বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, বোরো ফসল ডুবে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। ডুবে যাওয়া ফসলের পরিমাণ প্রায় ২লাখ হেক্টরের কম না বলে মত কৃষকদের। কৃষি বিভাগ ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে লুকোচুরি করছে বলেও অভিযোগ রয়েছে তাদের।

জেলার বিভিন্ন স্থানে সুনামগঞ্জকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবিতে প্রতিটি উপজেলায় চলছে বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ, ঘেরাও কর্মসূচী, মানববন্ধন, সড়ক অবরোধ, সংবাদ সম্মেলনসহ নানা কর্মসূচী। জেলার প্রায় সব কয়টি হাওড় ডুবে যাওয়ায় উৎকণ্ঠিত সুনামগঞ্জের ২৫ লাখ মানুষ।

জেলার বিভিন্ন স্থানে সুনামগঞ্জকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবিতে প্রতিটি উপজেলায় চলছে বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ, ঘেরাও কর্মসূচী, মানববন্ধন, সংবাদ সম্মেলনসহ নানা কর্মসূচী। জেলার প্রায় সব কয়টি হাওড় ডুবে যাওয়ায় উৎকণ্ঠিত সুনামগঞ্জের ২৫ লাখ মানুষ। গত ৫ মার্চ স্থানীয় সাংসদ জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র সুনামগঞ্জকে দুর্গত এলাকা ঘোষণার দাবিতে সমাবেশ ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন।

হাওড়ে ফসলডুবির ঘটনায় বিক্ষুব্ধ কৃষকরা পথে নেমেছেন। নানা সংগঠনের ব্যানারে হাজার হাজার কৃষক দাবি আদায়ের আন্দোলনে নেমেছেন। শনিবারও জেলাজুড়ে বিক্ষোভ মিছিল ও সভা করেছেন কৃষকরা। এসব সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, পাউবো’র দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার ও পিআইসি’র সংশ্লিষ্টদের গ্রেফতার, বিচার বিভাগীয় তদন্ত, যেহেতু বাঁধের কাজ হয়নি ঠিকাদারদের বিল না দেয়া, জরুরী ভিত্তিতে খোলা বাজারে ১০ টাকা কেজির চাল বিতরণ শুরু করা, ইজারাকৃত হাটবাজারের ইজারা বাতিল, ইজারাকৃত জলমহালের ইজারা বাতিল, সহজ শর্তে কৃষি ঋণ প্রদান, গ্রামে গ্রামে রেশনিং প্রথা চালু, সকল এনজিওদের একবছর কিস্তি আদায় বন্ধ রাখা আশু প্রয়োজন। পৃথক পৃথক সমাবেশ থেকে এসব দাবি জানানো হয়। জেলাজুড়ে গত এক সপ্তাহ ধরে প্রতিদিনই অন্তত ২০টি হাটবাজারে চলছে এসব প্রতিবাদ কর্মসূচী।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আফসার উদ্দিন বলেন, জেলায় প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ী ঢলে ভয়াবহ আকার ধারণ করলেও ঠিকাদারদের গাফিলতির কথা স্বীকার করেন তিনি এবং পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়হীনতার কথা উল্লেখ করে বললেন এতে ফসল আরও বেশি হুমকিতে আছে হাওড়ের ফসল। আর দোষারোপ করা হয় শুধু পাউবোকে।

জেলা প্রশাসক শেখ রফিকুল ইসলাম বলেন, টানা বৃষ্টিপাতে সকল নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় বাঁধ ভেঙ্গে হাওড়ে পানি ঢুকছে। সময়মতো বাঁধ নির্মাণ না করা ও বাঁধ নির্মাণে চাহিদামতো বরাদ্দ না দেবার অভিযোগ রয়েছে। জেলার যেসকল হাওড়ের বোরো ফসল এখনও তলিয়ে যায়নি সেগুলো রক্ষায় দিনরাত চেষ্টা করছি আমরাও। সকল ইউএনওকে কঠোর নজরদারি করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: