২৫ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

বাংলাদেশ-ভারত রেল যোগাযোগ


এপ্রিলের প্রথমার্ধে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর নিয়ে নয়াদিল্লীতে চলছে সাজ সাজ রব। ইতোমধ্যে ঢাকায় খবর পাওয়া গেছে, নয়াদিল্লী বিরল সম্মাননা জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর জন্য। এই সফরে ভারতের সঙ্গে প্রতিরক্ষা চুক্তি বা সমঝোতা স্মারক, তিস্তা চুক্তি ইত্যাদি নিয়ে নানা কথা শোনা গেলেও সবকিছু ছাপিয়ে গুরুত্ব পাচ্ছে দু’দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগের বিষয়টি। ইতোমধ্যেই খবর এসেছে, দু’দেশের মধ্যে রেল যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৮টি রুটে হচ্ছে রেল কানেকটিভিটি। উল্লেখ্য, ইতোমধ্যে তিনটি সীমান্তপথে রেল চলাচল করছে। দীর্ঘদিন পর দিনাজপুরের বিরল স্থলবন্দর দিয়ে পরীক্ষামূলকভাবে ভারতীয় ৪২টি ওয়াগন প্রবেশ করে বাংলাদেশে। বিরল-রাধিকাপুর সীমান্ত রেলপথের কাজও শেষ পর্যায়ে। ৮ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের সময় আনুষ্ঠানিকভাবে এই রুটের উদ্বোধন করবেন দু’দেশের প্রধানমন্ত্রী। এদিন খুলনা-বেনাপোল-কলকাতা রুটে দ্বিতীয় মৈত্রী এক্সপ্রেস চালুর ঘোষণাও আসার কথা রয়েছে। এর পাশাপাশি আরও কয়েকটি নতুন রুট চালুর সম্ভাবনা ও প্রস্তুতিপর্ব চলছে। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পণ্য পরিবহন এবং আমদানি-রফতানির সুবিধার্থে বাংলাদেশের আখাউড়া থেকে ভারতের ত্রিপুরার আগরতলা পর্যন্ত নির্মাণ করা হচ্ছে নতুন রেলপথ। এর ফলে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে রেল যোগাযোগ বৃদ্ধিসহ আন্তর্জাতিক ট্রান্স এশিয়ান রেলরুটে অন্তর্ভুক্ত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তাতে করে ভারত ছাড়াও নেপাল ও ভুটানের সঙ্গেও সরাসরি স্থাপিত হবে রেল যোগাযোগ। স্বভাবতই এতে সার্ক দেশগুলোর মধ্যে পণ্য আমদানি-রফতানির সুবিধাসহ যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বৃদ্ধি পাবে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ব্যাপক আর্থিক উন্নয়নসহ জনজীবনেও অভাবনীয় গতি সঞ্চার হবে এর মাধ্যমে।

এখানে উল্লেখ করা আবশ্যক, ভারতের সঙ্গে বাংলাদেশের রেল যোগাযোগ স্বাধীনতাপূর্ব সেই ব্রিটিশ আমল থেকেই ছিল। ১৯৬৫ সালে ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধে এই যোগাযোগ বাধাগ্রস্ত ও বিঘিœত হয় দীর্ঘদিনের জন্য। তবে ১৯৭১ সালের বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে ভারতের সহায়তা-সহযোগিতায় এই সম্পর্ক পুনর্প্রতিষ্ঠিত হয়। এতদিনে এটা সুস্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, ভারত-বাংলাদেশের পরীক্ষিত বন্ধু ও অকৃত্রিম সুহৃদ। দু’দেশের মধ্যে কিছু অমীমাংসিত বিষয় অদ্যাবধি থাকলেও, অধিকাংশ সমস্যাই পর্যায়ক্রমে সমাধান করা গেছে এবং বাকিগুলোরও যে সুষ্ঠু মীমাংসা হবে, সে বিষয়ে সন্দেহের অবকাশ নেই। এরই একটি হলো দু’দেশের মধ্যে সড়ক যোগাযোগের পাশাপাশি রেল সংযোগ পুনর্¯’াপন। তবে স্বভাবতই দীর্ঘদিনের অব্যবহারে পুরনো রেললাইনগুলো জরাজীর্ণ, পরিত্যক্ত এমনকি কোথাও বা বেদখল হয়ে গেছে। ফলে সেগুলো জরুরী ভিত্তিতে পুনরুদ্ধার ও সংস্কার করা অপরিহার্য হয়ে পড়েছে। রেল যোগাযোগের ক্ষেত্রে ভারতের রয়েছে ব্যাপক ও পরীক্ষিত অভিজ্ঞতা। সে দেশে রেল নেটওয়ার্ক খুবই শক্তিশালী এবং ব্যয় সাশ্রয়ীও বটে। সুতরাং এক্ষেত্রে ভারতের সহায়তা ও অনুদান পাওয়া যাবে বলে আশা করা যায়। মনে রাখা দরকার যে, রেল যোগাযোগ বরাবরই আরামপ্রদ, নিরাপদ সর্বোপরি ব্যয় সাশ্রয়ী। দু’দেশের মধ্যে মানুষজনসহ পণ্য চলাচল বৃদ্ধি পেলে মৈত্রী ও সৌহার্দ্যরে বন্ধন আরও সুদৃঢ় হবে, যা দীর্ঘমেয়াদী টেকসই উন্নয়নের জন্য অপরিহার্য।

বাস্তবতা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের নিরিখে পৃথিবী ছোট হয়ে আসছে অনেক আগে থেকেই। চীন তার অর্থনৈতিক উন্নয়নের স্বার্থে বেজিং থেকে লন্ডন পর্যন্ত রেল যোগাযোগ স্থাপন করেছে এবং পণ্য আমদানি-রফতানি করছে। বিশ্বায়নের যুগে এটাই বাস্তবতা। যার যার স্বার্থ অক্ষুণœ রেখে ‘দিবে আর নিবে’র ভিত্তিতে পারস্পরিক লেনদেন, ব্যবসা-বাণিজ্য সর্বোপরি লোকজনের প্রায় অবাধ চলাচল বাড়াতে হবে। তবে সব ক্ষেত্রে নিরাপত্তার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিতে হবে সর্বত্র। বাংলাদেশ-ভারতের ক্ষেত্রে সেটা নিশ্চিত করা হবে বলেই প্রত্যাশা।