২০ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৪ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

সীতাকুণ্ডের জঙ্গী, ছদ্মবেশী জঙ্গী ও সতর্কতা


প্রধানমন্ত্রীকে দেখি সবসময় জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার। তাঁকে যে যাই বলুক রক্ত ও আদর্শে বঙ্গবন্ধুকে ধারণ করেন বলেই তিনি এমন নির্মমভাবে সত্য বলতে পারেন। আওয়ামী লীগের নেতাদের মুখে জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে খৈ ফোটে না। তাদের অন্তরে হয়ত ভোটের রাজনীতি কাজ করে। কারও কারও মনে হয়ত আছে বদলে যাওয়ার হাওয়া। সমাজের আগাগোড়া যখন পচনাক্রান্ত তখন এরা তুলসীপাতা হবেন কি করে? কিন্তু প্রধানমন্ত্রী কি মিথ্যে বলেন? না তাঁর ধারণা অমূলক? এ লেখা যখন লিখছি চট্টগ্রামের অদূরে সীতাকু-ে জঙ্গীদের সঙ্গে লড়াই হয়েছে নিরাপত্তা বাহিনীর। কোন রেজিমেন্টেড ফোর্স বা নিয়মিত বাহিনীর সঙ্গে ভুঁইফোড় জঙ্গীরা টিকতে পারে না। পারবেও না। নিরাপত্তা বাহিনীর এই সাহসী ভূমিকা আমরা আগেও দেখেছি।

দেশটিকে তারা কি বানাতে চায় বা কেন এসব করে সে আমাদের অজানা নয়। তারা এই সমাজের প্রোডাক্ট। আজ যে সমাজ তার একদিকে ফ্যাশন খাবার আচরণে ভোগী, আরেকদিকে অন্তরে লালন করছে মৌলবাদের বিষ। এই বিষ তাদের কোমলমতি মন ও বিশ্বাসে ঢুকিয়ে দিচ্ছে নষ্ট রাজনীতি। যুগ যুগ ধরে বাংলাদেশে ইসলামের পবিত্রতা তার নিজস্ব মহিমায় ভাস্বর। মূলত সে কারণেই দলে দলে মানুষ ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেছিল। আজ সে জায়গাটা বিনষ্ট করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছে লেবাসধারী ধার্মিক নামের কিছু উগ্রবাদী। সীতাকু- অনেক টেস্ট কেসের একটি। কিছুদিন পরপর সুযোগ বুঝে তারা দেশের বিভিন্ন জায়গায় হামলা চালানোর জন্য সর্বশক্তি নিয়ে এক হয়। এদের খুব ভাল জানা আছে একটি দুটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা বা জঙ্গী হামলা দিয়ে সরকারের আসন টলানো যায় না। মানুষের মনে নিজেদের কোন স্বত্ব দেখা যায় না। বরং আজ তারা জনবিচ্ছিন্ন। মানুষ এদের ভয় পায়। শুধু ভয় নয়, তারা এখন আতঙ্কের নাম। এই আতঙ্ক সমাজ থেকে, দেশ থেকে নির্মূল করা সম্ভব না হলে বাংলাদেশের কোন উন্নয়ন কোন সময় টেকসই হতে পারবে না। দুনিয়ার দেশে দেশে জঙ্গীবাদের যে অশুভ প্রভাব, তার বিরুদ্ধে আধুনিক মানুষ এখন যূথবদ্ধ। একদিকে সভ্যতা, আরেকদিকে অন্ধ বিশ্বাসে পথহারা জঙ্গীরা। পৃথিবীর কোথাও কোন সভ্য মানুষের মনে এদের জন্য সহানুভূতি নেই। আছে বিদ্বেষ আর ঘৃণা। দেশে দেশে মানুষ এদের বিরুদ্ধে ঘরে ঘরে একত্রিত আর সংঘবদ্ধ।

যে কোন আধুনিক মিডিয়া, যে কোন সভ্য দেশের সামাজিক মাধ্যমে এদের উগ্র আচরণ এখন আইনগতভাবে নিষিদ্ধ। আমাদের সমাজে রসরাজের মতো নিরীহ মানুষকে ফাঁসিয়ে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা লাগানো যায়। তার বিরুদ্ধে আইন হয়ে ওঠে অকারণে কঠোর। অথচ জামায়াতের আইনজীবী, যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে আদালতে মিথ্যে বলার ওস্তাদ কথিত আইনজীবী এখন নেমেছে সামাজিক সংহতি নষ্ট করার কাজে। মাত্র ক’দিন আগে নির্বিঘেœ পালিত হওয়া দোল উৎসব তার দিলে চোট দিয়ে গেছে। ধর্ম যার যার উৎসব সবার এই সেøাগানকে সামনে রেখে বাংলাদেশের মানুষ যখন আনন্দের ভাগ নিয়েছেন, তখন তার মনে পড়েছে এটি একটি গুনাহর কাজ। সেটি তাঁর ব্যক্তিগত বিশ্বাস হলেও বলার কিছু ছিল না। তিনি দেশের প্রায় এক কোটি মানুষের ধর্মবিশ্বাসকে আঘাত করে তাদের ভগবান শ্রী কৃষ্ণ ও রাধার বিরুদ্ধে রীতিমতো আপত্তিকর বক্তব্য দিয়ে সামাজিক মাধ্যমে নোংরামির যে ঝড় তুলেছেন, সেটাও জঙ্গীবাদের উস্কানি। অথচ এখন অবধি তা নিয়ে কোন বক্তব্য বা বিবৃতি আসেনি। দেশের উপরিমহল নামে পরিচিত আইন বিচার বা শাসনের কোন জায়গা থেকে এ নিয়ে কোন উচ্চবাচ্য নেই। এই নীরবতা মূলত আত্মঘাতী।

আজকের সুশীলরা ছদ্মবেশী। এদের জীবনে হয়ত ধর্মের কোন জায়গাই নেই। এরা সবাই এক সুতোয় বাঁধা। এদের সঙ্গে আছে দেশের কিছু মিডিয়া। বদলে যাওয়া বদলে দেয়ার মিডিয়া চতুরতার সঙ্গে এদের প্রমোট করলেও তারা থাকে ধরাছোঁয়ার বাইরে। তারা আওয়ামী লীগ শাসনে আসলেই এমন ধরনের আচরণে দেশের জনগণকে রাগিয়ে তুলতে চায়। অপপ্রচারের অপস্রোতে ভাসা এদেশের জনগণ একসময় ভারত বিরোধিতায় অন্ধ থাকলেও, এখন আর তা চলে না। মানুষের চোখ কান খোলা। তাদের হাতে যে মোবাইল বা কম্পিউটার, সেটাই তাদের মিডিয়া। এসব কারণে এই চতুররা সুবিধা করতে পারে না। এখন তাদের হাতিয়ার সেই পুরনো সাম্প্রদায়িকতা। সেটার ধরনও বদলেছে। হিন্দু বা অন্য সম্প্রদায়ের মানুষদের বিরুদ্ধে বললেও এখন মানুষকে রাগানো যায় না। তাই তারা নতুন ছল ধরেছে। ছলে বলে কৌশলে যে কোন কিছুর সঙ্গে ইসলামের পবিত্রতার কথা তুলে ধরে বা সে রকম স্পর্শকাতর কিছু বিষয়ে মাঠ গরম করা। এদের বিরুদ্ধে কঠোর না হলে জঙ্গীবাদ দমন অসম্ভব।

যারা কথায় কথায় প্রধানমন্ত্রীর হাত শক্তিশালী করার কথা বলেন, তারা কি এসব বিষয়ে মাথা ঘামান আদৌ? জামায়াতী বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা এদেশে জঙ্গীবাদকে জিইয়ে রাখতে চাইছে অবিরত। সীতাকু-ের ঘটনার পোস্টমর্টেম করলেই তা বেরিয়ে আসবে। নামে বেনামে দেশের ভেতরে বাইরে বেড়ে ওঠা এসব আগাছা পরিষ্কার জরুরী। তবেই সরকারের আগামী দিনের পথচলা হবে নিরাপদ। মনে রাখা দরকার, শেখ হাসিনাই এখন অবধি আমাদের বাতিঘর। আমাদের ভরসা।