২২ নভেম্বর ২০১৯, ৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, শুক্রবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
 
সর্বশেষ

ক্ষুদ্র ব্যবসা, চাষাবাদ-অন্ধকার চরে আলোকিত জীবন

প্রকাশিত : ১৪ মার্চ ২০১৭
ক্ষুদ্র ব্যবসা, চাষাবাদ-অন্ধকার চরে আলোকিত জীবন
  • তিস্তাপারের নারীরা এখন স্বাবলম্বী

তাহমিন হক ববী ॥ দিন বদলেছে। অভাব-অনটনে পরিবারে অশান্তি, স্বামীর নির্যাতনের দিন শেষ। এখন শত বাধার পাহাড় ডিঙ্গিয়ে সুখের ঠিকানা খুঁজে পেয়েছে নীলফামারীর তিস্তাপারের একঝাঁক নারী। তারা সকলে আজ নিজ নিজ কর্মে স্বাবলম্বী। ক্ষুদ্র ব্যবসা, চাষাবাদের সঙ্গে তারা গড়ে তুলেছে বিশাল সফলতার পরিধি। হাতে স্মার্ট মোবাইল ফোন, ব্যবসার জন্য ব্যবহার করছে অনলাইন বাজার। গত ৬ বছরে তিস্তাপারের নারীরা ভাগ্য পরিবর্তন ঘটিয়ে মহাসুখে ভাসছে আজ।

এ সুখের ঠিকানা পেতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সহায়তায় পল্লীশ্রী রিকল প্রকল্প সকল প্রকার সহযোগিতা করছে তাদের।

তিস্তাপারের মর্জিনা বেগম বললেন, এ দেশের নারীরা বিমান চালাচ্ছে, হিমালয়ের চূড়ায় উঠছে, বন্দুক কাঁধে যুদ্ধেও যাচ্ছে। শিক্ষায় বাড়ছে নারীর অংশগ্রহণ। সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে রফতানি আয়ের চাকা পর্যন্ত ঘোরাচ্ছে নারীরা।

মর্জিনা বলেন, তিস্তাপারের এ অগ্রযাত্রা এক সময় মসৃণ ছিল না। নদীভাঙ্গন, বন্যায় সকলেই নিঃস্ব ছিলাম। অভাব-অনটনে পড়ে সংসারে অশান্তি, স্বামীর নির্যাতন ছিল নিত্য ঘটনা। মেয়েদের বাল্যবিয়ের দিন শেষ। শেখ হাসিনা সরকার ক্ষমতায় এসে আমাদের ভয়কে জয় করে, বাধা ডিঙ্গিয়ে, সব প্রতিবন্ধকতাকে ‘না’ বলেই নারীদের পথ চলতে দেখিয়েছে। তিস্তাপারের নারী আমরা, বিমান চালাতে না পারলেও নৌকা চালাতে পারি। এ নৌকা আমাদের ভাগ্যের চাকা ঘুরিয়ে দিয়েছে। মর্জিনা বেগম আরও জানান, তিস্তাপারের সকল পরিবারের শিশুরা স্কুল যায়, তাদের মানুষের মতো মানুষ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা তিস্তাপারকে একটি মডেল হিসেবে দাঁড় করাতে চাই। আমরা ফিরিয়ে এনেছি হারিয়ে যাওয়া গোলাভরা ধান, পুকুরভরা মাছ। নেই এখন ভাঙ্গা ঘরবাড়ি। ঘরে ঘরে জ্বলছে সোলারের আলো, যার মাধ্যমে অন্ধকার তিস্তাপারে আলোকিত জীবন পেয়েছি আমরা। এখানে নেই কোন অভাব-অনটন। নেই দ্বন্দ্ব, নির্যাতন। বন্ধ হয়েছে বাল্যবিয়ে।

ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তিস্তাপারের অসহায় নারীদের ভাগ্য পরিবর্তনে সরকারের সহায়তায় ২০১০ সালে শুরু করা হয় পল্লীশ্রী রিকল ও এলএইচডিপি প্রকল্প। এ প্রকল্পে রয়েছে দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তন অভিযোজন, অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন অধিকার ও ন্যায্যতা নেতৃত্ব ও রূপান্তরিত নেতৃত্ব।

উদ্দেশ্য এসব সামনে রেখে তিস্তাপারের ডিমলা উপজেলার পূর্ব ছাতনাই, পশ্চিম ছাতনাই, টেপাখড়িবাড়ি, খগাখড়িবাড়ি ও খালিশা চাপানী এ পাঁচটি ইউনিয়নের ৩৪টি গ্রামে ৩৪টি সিবিও গঠন করে ৪ হাজার ৬৭৩টি পরিবারের মাধ্যমে এবং সিবিও বিভিন্ন উপদল ও ভলান্টিয়ারের মাধ্যমে কমিউনিটি পর্যায়ে কাজ বাস্তবায়ন করে। সিবিওর উপদল ও ভলান্টিয়ারগুলো হলোÑ

নারী ক্লাব, নারী ওয়াশ দল, দুধ উৎপাদক দল, ভুট্টা উৎপাদক দল, মরিচ উৎপাদক দল, নারী ব্যবসায়ী দল, কিশোর-কিশোরী দল, দুর্যোগ ভলান্টিয়ার, স্বাস্থ্য ভলান্টিয়ার, কৃষি ও প্রাণিসম্পদ এলএসপি, এনিমেটর, রেজিরিয়েন্ট এ্যাকশন গ্রুপ ইত্যাদি।

ডিমলার পল্লীশ্রী রিকল প্রকল্পের সমন্বয়কারী পুরান চন্দ্র বর্মণ বলেন, বর্তমান সরকারের সহযোগিতায় পল্লীশ্রী রিকল প্রকল্পে তিস্তাপারের হাজারো নারী আজ নিজেদের ভাগ্য পরিবর্তন ঘটিয়ে স্বাবলম্বী হয়ে উঠেছেন।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম বলেন, তিস্তাপারের নারীরা আজ যেন মডেল। তাদের কর্মসংস্থান এখানে মডেল তৈরি করেছে।

প্রকাশিত : ১৪ মার্চ ২০১৭

১৪/০৩/২০১৭ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: