১২ ডিসেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এ্যান্ড টেকনোলজি সেমিস্টারের নাম স্বাধীনতা ও বিজয়


২০১৬ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দেশের বিশেষায়িত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যাত্রা শুরু করে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এ্যান্ড টেকনোলজি। বর্তমানে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠদানের অনুমতি প্রক্রিয়াধীন। ছাত্রছাত্রীদের আলোকিত মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে, তাদের মধ্যে দেশপ্রেম ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে এবং দেশের জাতীয় চেতনাকে জাগ্রত করতে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এ্যান্ড টেকনোলজি কর্তৃপক্ষ শিক্ষাবর্ষের দুটি সেমিস্টারের নামকরণ করেছে স্বাধীনতা ও বিজয় নামে, যা ইতোমধ্যে সুধিজনের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সক্ষম হয়েছে। বাংলাদেশের ইতিহাসে মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতা ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে আছে। স্বাধীনতা, জাতীয় চেতনা ও মূল্যবোধকে সামনে রেখে এবং লক্ষ প্রাণের বিনিময়ে কষ্টার্জিত এই স্বাধীনতা ও বিজয়ের ইতিহাসকে ছাত্রছাত্রীদের মাঝে ও পুরো বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে সিইউএসটি এরূপ নামকরণ করেছে। একটি দেশের দিবসকে নিয়ে কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিস্টারের নামকরণ বিশ্বে প্রথম। যা দেশপ্রেমের অপার নিদর্শন। সেমিস্টারের নামকরণ প্রসঙ্গে সিইউএসটির ভিসি অধ্যাপক ড. গাজী মাহবুবুল আলম বলেন, ‘সেমিস্টার হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীদের পড়ালেখার একটা টাইম ফ্রেমওয়ার্ক। বিশ্বের প্রায় সব বিশ্ববিদ্যালয় ও এমনকি এ দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও পশ্চিমা সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিয়ে সেমিস্টারের নামকরণ করে থাকে। কিন্তু আমরা এ ক্ষেত্রে দেশীয় সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যকে প্রাধান্য দিয়েছি। বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ঘটনা হচ্ছে স্বাধীনতা ও বিজয়। লক্ষ প্রাণের রক্ত দিয়ে আমরা স্বাধীনতা পেয়েছি এজন্য আমরা জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সেমিস্টারের নামকরণ করেছি স্বাধীনতা। আর জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সেমিস্টারের নামকরণ করেছি বিজয়। তিনি আরও বলেন, বিশ্বায়নের এ যুগে সিইউএসটির ছাত্রছাত্রীদের ট্রান্সক্রিপ্ট ও সার্টিফিকেট সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়বে। এর ফলে বিদেশী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও ছাত্রছাত্রীদের চাকরি ক্ষেত্রে বিদেশী প্রতিনিধিদের কাছে সিইউএসটির সেমিস্টারের এই নাম বাংলাদেশের সংস্কৃতি, মুক্তিযুদ্ধ, স্বাধীনতা ও ইতিহাস ও ঐতিহ্যকে প্রতিফলিত ও প্রতিনিধিত্ব করবে।’

স্বাধীনতা সেমিস্টার : লাখো শহীদের রক্তে রঞ্জিত বাংলাদেশের স্বাধীনতা। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ মধ্যরাতে পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী অপারেশন সার্চলাইট নামে ঘুমন্ত নিরস্ত্র বাঙালীর ওপর আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। ২৫ মার্চ রাতেই এ দেশের পুলিশ, ইপিআর ও সেনাবাহিনীর বাঙালী সদস্যরা শুরু করে প্রতিরোধ যুদ্ধ, সঙ্গে যোগ দেয় সাধারণ মানুষ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলার মানুষ দেশকে স্বাধীন করার আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে অকুতোভয়ে। তার ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল। স্বাধীনতার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের স্মরণে রাখতে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এ্যান্ড টেকনোলজি কর্তৃপক্ষ জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সেশনের নাম দিয়েছেন স্বাধীনতা।

বিজয় সেমিস্টার : ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালী জাতির শৌর্যবীর্য এবং বীরত্বের একদিন। বীরের জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার দিন। পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ নামে একটি স্বাধীন দেশের অভ্যুদয়ের দিন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে নয় মাস সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের এই দিনে রেসকোর্স ময়দানে যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে হানাদার পাকিস্তানী বাহিনী। বিশ্বের মানচিত্রে অভ্যুদয় ঘটে নতুন রাষ্ট্র বাংলাদেশের। সেই থেকে ১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস। স্বাধীনতার বীর মুক্তিযোদ্ধাদের ও বিজয় দিবসকে স্মরণীয় করে রাখতে সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি কর্তৃপক্ষ জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সেশনের নাম দিয়েছে বিজয়।

যোগাযোগ : www.cust.edu.bd,, ৯০২৩৮৩১।

নাঈম খান