২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

পেনশনের অর্ধেক টাকা একসঙ্গে তোলা যাবে, বাকিটা মাসে মাসে


অর্থনৈতিক রিপোর্টার ॥ সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীরা চাকরির মেয়াদ শেষে একবারে পেনশনের অর্ধেক টাকা তুলতে পারবেন। বাকি অর্ধেক টাকা তাদের বাধ্যতামূলক মাসে মাসে নেয়ার বিধান করা হয়েছে। তবে পেনশনার বা পারিবারিক পেনশনাররা মাসিক পেনশনের ওপর ৫ শতাংশ হারে বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট পাবেন। এ বছরের ৩০ জুন বা তারপর যাদের অবসরোত্তর ছুটি শেষ হবে, তারাই নতুন নিয়মের আওতায় আসবেন। আগামী ১ জুলাই থেকে পেনশনের নতুন এই নিয়ম কার্যকর হবে। প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে-পেনশনধারীদের আর্থিক ও সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিতের স্বার্থে বিধানটি চালু করা হয়েছে।

এদিকে, বুধবার সচিবালয়ে সরকারী ক্রয় কমিটির বৈঠক শেষে বেরিয়ে যাবার সময় সাংবাদিকের পেনশন সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত বলেন, ভবিষ্যতে বেসরকারী খাতেও পেনশন সুবিধা নিশ্চিত করতে চায় সরকার। আগামী বাজেটের আগেই এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। একটু সময় লাগলেও বেসরকারী চাকরিজীবীরা ভবিষ্যতে পেনশন সুবিধার আওতায় আসবেন। তিনি বলেন, যারা পেনশন শতভাগ উঠিয়েছেন, তারা ডুবেছেন। অনেকে শতভাগ উঠিয়েছেন, এটা ভুল সিদ্ধান্ত। পেনশন অবসরকালীন সময়ের সিকিউরিটি। এখন প্রতিনিয়ত নতুন নতুন পরিবর্তন এনে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি করা হচ্ছে। কিন্তু যারা শতভাগ পেনশন উত্তোলন করে নিয়েছেন তারা কোন সুবিধা পাবেন না। তবে ভবিষ্যতে যাতে এটা না হয়, সেজন্য অর্ডার করেছি, কেউ ৫০ শতাংশের বেশি তুলতে পারবেন না।

প্রসঙ্গত, বর্তমানে কেউ চাইলে পুরো টাকা তুলে নিয়ে যেতে পারেন, আবার মাসে মাসেও নিতে পারেন। অর্থাৎ দুটি বিকল্পই খোলা আছে। নতুন বিধানের মাধ্যমে পেনশনের ৫০ শতাংশ মাসিক ভিত্তিতে নেয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গবর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের নেতৃত্বাধীন অষ্টম বেতন কমিশনের প্রতিবেদনে সরকারী কর্মচারীদের শতভাগ পেনশনের টাকা তুলে নেয়ার পরিবর্তে ৫০ শতাংশের সুপারিশ করা হয়েছিল। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব মাহবুব আহমেদ জনকণ্ঠকে বলেন, পেনশনধারীদের সামাজিক সুরক্ষা দিতেই নতুন বিধানটি চালু করা হয়েছে। এই বিধানের ফলে যারা পেনশনে যাবে তারা ভবিষ্যতে আর অর্থকষ্টের মধ্যে পড়বেন না। একবার টাকা তুলে নেয়ায় পেনশনভোগীদের দিন দিন আর্থিক ঝুঁকি বেড়ে যাচ্ছিল। ইতোমধ্যে পুরো টাকা একসঙ্গে তুলে নিয়ে অনেক পেনশনার বিপদে পড়েছেন। তাদের অনেকে এখন সাহায্যের জন্য আবেদন করছেন মন্ত্রণালয়ে। তিনি বলেন, পেনশনের পুরো টাকা একসঙ্গে তুলে নেয়ার রেওয়াজ বিশ্বের কোথাও নেই, এমনকি প্রতিবেশী ভারত-পাকিস্তানেও নেই। তিনি বলেন, সরকারী চাকুরেদের পাশাপাশি বেসরকারী খাতেও পেনশন পদ্ধতি চালু করার আইন করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে সকল চাকরিজীবীরা এ সুবিধার আওতায় আসবেন।

এদিকে, বেসামরিক কর্মচারীদের জন্য নতুন বিধান কার্যকরের তারিখ নির্দিষ্ট করে দেয়া হলেও সামরিক কর্মচারীদের ক্ষেত্রে তা নির্দিষ্ট করে দেয়া হয়নি নতুন প্রজ্ঞাপনে। বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ২০০৩ সালের ৪ ডিসেম্বর জারি করা সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের শতভাগ পেনশন কম্যুটেশন সুবিধা দেয়ার স্মারকটি এই প্রজ্ঞাপনের আলোকে সংশোধন করবে।

অর্থ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর ৫ শতাংশ সরকারী চাকরিতে নিয়োজিত রয়েছেন। পেনশনধারীদের নিয়ে সম্প্রতি তৈরি করা অর্থ বিভাগের তথ্যভা-ার অনুযায়ী, বর্তমানে অবসরে যাওয়া সরকারী কর্মচারী রয়েছেন সাড়ে ৫ লাখ। যদিও এখনও অনেকে তথ্যভা-ারের আওতায় আসেননি। চলতি অর্থবছরের বাজেটে পেনশন ও গ্র্যাচুইটি খাতে ১৬ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা আছে। আগের অর্থবছরে এ খাতে ব্যয় হয়েছে ১১ হাজার ১৪৫ কোটি টাকা, তার আগের অর্থবছরে ব্যয় হয় ৭ হাজার ২৩৭ কোটি টাকা।

জানা গেছে, তিনটি প্রধান কারণ বিবেচনা করে পেনশন সংক্রান্ত বর্তমান বিধান সংশোধন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এগুলো হচ্ছে-পেনশনভোগীর পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা নিশ্চিত করা, সরকারের ওপর আর্থিক চাপ হ্রাস ও পেনশনের অর্থ বিনিয়োগ করা। বর্তমানে সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত পেনশন বিক্রির বিধান রয়েছে। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা বা কর্মচারী সম্পূর্ণ পেনশন বিক্রি করে তার প্রাপ্ত সমুদয় অর্থ এককালীন উত্তোলন করতে পারেন। এছাড়া নতুন বিধান প্রণয়নের পেছনে আরও দুই কারণ রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, পেনশনের অর্থ সরকারের কাছে থাকলে এটি এক ধরনের বিনিয়োগ। সরকার ও পেনশনভোগী উভয় এই টাকা বিনিয়োগ করে লাভবান হবেন। পাশাপাশি পেনশনের টাকা একসঙ্গে প্রদান করার কারণে সরকারের আর্থিক ব্যয়ের ওপর এক ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়। নতুন বিধান চালু হলে সরকারের এই আর্থিক চাপ হ্রাস পাবে।

বিদ্যমান অষ্টম বেতন স্কেল অনুযায়ী পেনশনের হার ৮০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯০ শতাংশ এবং অবসরভোগীদের সর্বনিম্ন পেনশনের হার তিন হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া চাকরির বয়স পাঁচ বছর পূর্ণ হলেই একজন সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী অথবা তার পরিবার পেনশন পাওয়ার যোগ্যতা অর্জন করেন। একজন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর চাকরির প্রথম ৫ বছর পূর্ণ হলে পেনশন পাবেন ২১ শতাংশ হারে। ৬ বছর পূর্ণ হলে ২৪ শতাংশ, ৭ বছর হলে ২৭ শতাংশ, ৮ বছরে ৩০ শতাংশ, ৯ বছরে ৩৩ শতাংশ এবং ১০ বছরে ৩৬ শতাংশ হারে পেনশন পাবেন। এছাড়া চাকরির বয়স ১১ বছর পূর্ণ হলে ৩৯ শতাংশ, ১২ বছরে ৪৩ শতাংশ, ১৩ বছরে ৪৭ শতাংশ, ১৪ বছরে ৫১ শতাংশ, ১৫ বছরে ৫৪ শতাংশ, ১৬ বছরে ৫৭ শতাংশ, ১৭ বছরে ৬৩ শতাংশ, ১৮ বছরে ৬৫ শতাংশ, ১৯ বছরে ৬৯ শতাংশ এবং ২০ বছর পূর্ণ হলে ৭২ শতাংশ হারে পেনশন পাবেন সংশ্লিষ্ট চাকরিজীবী। আর একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর চাকরির বয়স ২১ বছর পূর্ণ হলে ৭৫ শতাংশ, ২২ বছরে ৭৯ শতাংশ, ২৩ বছরে ৮৩ শতাংশ, ২৪ বছরে ৮৭ শতাংশ এবং ২৫ বছর পূর্ণ হলে ৯০ শতাংশ হারে পেনশন পাবেন।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: