২৪ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৮ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

সততা, নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সঙ্গে স্ব স্ব দায়িত্ব পালন করুন


বিশেষ প্রতিনিধি ॥ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের উন্নয়ন কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষা করে সততা, নিষ্ঠা ও একাগ্রতার সঙ্গে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার জন্য নবনির্বাচিত জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, আমি চাই সততা, নিষ্ঠা, একাগ্রতার সঙ্গে আপনারা স্ব-স্ব দায়িত্ব পালন করবেন। যাতে সরকারের উন্নয়ন কাজের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে। আমি চাই আপনারা (জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান) অন্তত সেই দায়িত্বটা ভালভাবে পালন করবেন।

তিনি বলেন, আমাদের মূল লক্ষ্যটাই হবে জনগণের সেবা করা। তাই উন্নয়ন কাজের ধারাবাহিকতা রক্ষায় সচেষ্ট থাকতে হবে। আওয়ামী লীগ সরকার শুধু নিজেদের ক্ষমতা ভোগ করতে আসে না সেটা আমরা প্রমাণ করেছি। আমাদের লক্ষ্য বাংলাদেশকে ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত গড়ে তুলব। কিন্তু এদেশের মানুষ যদি ক্ষুধার্ত ও অশিক্ষিত থাকে, তারা যদি রোগে ধুঁকে ধুঁকে মারা যায়, তাহলে সোনার বাংলাদেশ গড়া কখনই সম্ভব না।

বুধবার সকালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। প্রথমবারের মতো নির্বাচিত ৫৯ জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেশবাসীর দায়িত্ব পালনের শপথ গ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাঁদের শপথ বাক্য পাঠ করান। অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের উপস্থিত ছিলেন। এলজিআরডি সচিব আবদুল মালেক অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন। মন্ত্রিপরিষদের সদসবৃন্দ, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টাবৃন্দ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকবৃন্দ এবং উচ্চপদস্থ সরকারী কর্মকর্তাগণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

প্রসঙ্গত, ২০০০ সালে সংশ্লিষ্ট জেলা পরিষদ আইনটি পাসের ১৬ বছর পর গত ২৮ ডিসেম্বর ৫৯টি জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। আইনী জটিলতার কারণে কুষ্টিয়া ও বগুড়া জেলা পরিষদের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। প্রতি জেলায় একজন করে চেয়ারম্যান, ১৫ জন সাধারণ সদস্য ও পাঁচজন সংরক্ষিত সদস্য নির্বাচিত হন এ নির্বাচনে। জেলা পরিষদের নির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান আগামী ১৮ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানদের শপথ বাক্য পাঠ করানোর পর প্রধানমন্ত্রী দেশে বিভিন্ন ক্ষেত্রে উন্নয়নের কথা তুলে ধরে আরও বলেন, প্রতিটি উন্নয়ন কাজ যাতে সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। পঁচাত্তর পরবর্তীতে এদেশের মানুষের বঞ্চনার ইতিহাস তুলে ধরে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যানদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনাদের মনে রাখতে হবে- এ দেশের মানুষ দীর্ঘদিন শোষিত-বঞ্চিত-নিপীড়িত ছিল। ১৯৭৫ সালে জাতির পিতাকে হত্যার পর থেকে এদেশের মানুষের ভাগ্য নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়েছিল। কেবলমাত্র আওয়ামী লীগ সরকারে আসার পরই বাংলাদেশের জনগণ প্রথম জানতে পারে যে, সরকার জনগণের সেবা করে এবং জনগণ তার সুফল পায়। কাজেই আপনাদের ওপর এটাই দায়িত্ব থাকবে যে, প্রতিটি উন্নয়নের কাজ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন এবং স্ব-স্ব জেলার সার্বিক উন্নয়ন এবং সমস্যাবলী খুঁজে বের করা। কি করলে জেলার আরও উন্নতি হতে পারে সেই দিকে দৃষ্টি দেয়া এবং দেশকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় নিয়েই আপনাদের কাজ করে যেতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ক্ষমতাকে বিকেন্দ্রিকরণ করে তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত নিয়ে যেতে চেয়েছিলেন। তাই মানুষের সেবা নিশ্চিত করার জন্য তাঁর সেই লক্ষ্য সামনে রেখে আমরা ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় এসে উদ্যোগ নেই এবং স্থানীয় সরকার আইন পাস করি। তিনি বলেন, জেলা পরিষদে নির্বাচন এবারই প্রথম হলো। আমরা ইলেকটোরাল কলেজের মাধ্যমে এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের আইন পাস করি এবং সেভাবেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তিনি বলেন, মুক্তিযুদ্ধের নেতৃত্বদানকারী সংগঠন বিধায় আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য জনসেবা করা। সে কারণেই আমরা সবসময় মনেকরি ক্ষমতাটাকে যতটা সম্ভব কিকেন্দ্রিকরণ করতে পারব জনসেবাও তত নিশ্চিত হবে। আর সেই লক্ষ্য নিয়েই স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করার পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, জাতির পিতা আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। এই স্বাধীনতাকে আমরা অর্থবহ করে তুলতে চাই। এই স্বাধীনতার সুফল প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে আমরা পৌঁছে দিতে চাই। রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেলেই জনগণের সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি উন্নয়নের পথে আওয়ামী লীগ দেশকে এগিয়ে নিয়ে গেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ এর নির্বাচনের পরে আমরা যখন সরকারে আসি তখন যে অবস্থায় বাংলাদেশকে পেয়েছিলাম- সে অবস্থা থেকে সর্বক্ষেত্রে একটা শৃঙ্খলা ফিরিয়ে এনে একটা উন্নয়নের অগ্রযাত্রা আমরা শুরু করেছি। কারণ সকলের উন্নয়ন নিশ্চিত করাটাই আমাদের লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ এর পর ২০১৪ সালে যখন নির্বাচন হলো সেই নির্বাচনেও জনগণ আমাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করল। যার ফলে আমাদের উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় থেকেছে। যে কারণে আজ বাংলাদেশ অনেকদূর এগিয়ে গেছে। তাঁর লক্ষ্য বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত করে গড়ে তোলা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ দেশের মানুষ যদি ক্ষুধার্ত থাকে, দরিদ্র থাকে, তারা যদি রোগে- শোকে ভুগে মারা যায় তাহলে সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্য অর্জন কখনও সম্ভব হবে না।

শেখ হাসিনা বলেন, আজকে আমরা জোর গলায় বলতে পারি-বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছে। চিকিৎসা সেবা জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে গেছে। শিক্ষার যেন অগ্রগতি হয় তাঁর জন্য বিশেষ পদক্ষেপ আমরা নিয়েছি। তারমধ্যে রয়েছে- আমরা বিনামূল্যে প্রি-প্রাইমারী থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিনামূল্যে পাঠ্যবই দিচ্ছি। বৃত্তি-উপবৃত্তি দিচ্ছি, স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয়সহ নানা অবকাঠামো গড়ে তুলছি। বিভিন্ন ট্রেনিং সেন্টার, ট্রেনিং ইনস্টিটিউট গড়ে তুলে বিভিন্নমুখী পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করে যাচ্ছি। যার সুফল দেশের মানুষ পাচ্ছে।

স্বাধীনতার পর দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছে এবং ‘যেতে হবে বহু দূর’ এমন অভিমত ব্যক্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ আজকে স্বাধীন দেশ। স্বাধীনতার কিন্তু ৪৫ বছর পার হয়ে গেছে। এখনও অনেক কাজ বাকি, দেশের দুঃখী মানুষের মুখে আমাদের হাসি ফোটাতে হবে। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, যদি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির জীবনে না আসত তাহলে বাংলাদেশ আরও ২৫-৩০ বছর আগেই উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে উঠত। বঙ্গবন্ধু তাঁর সেই কাজ সম্পন্ন করে যেতে পারেননি। কাজেই দায়িত্ব এখন আমাদের। আমরা তাঁর অসম্পূর্ণ কাজ সম্পূর্ণ করতে চাই। সে জন্যই আমরা দিনরাত অত্যন্ত পরিশ্রম করে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ নিয়ে, নীতিমালা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। যার সুফল দেশ পাচ্ছে, দেশের মানুষ ভোগ করছে।

শেখ হাসিনা বলেন, আমাদের লক্ষ্য মানুষের সেবা করা। যখন আমরা স্বাধীনতা অর্জন করি তখন দেশে সাড়ে সাত কোটি মানুষ ছিল। আজ ১৬ কোটি মানুষ। আমাদের ভূখ-ও সীমিত। তার মাঝে মানুষের কাছে সেবা পৌঁছানো অত্যন্ত কষ্টসাধ্য। তিনি বলেন, স্বাধীনতার সুফল প্রতিটি মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে দিতে চাই। আওয়ামী লীগ সরকার যখনই ক্ষমতায় এসেছে জনগণের সেবা নিশ্চিত করেছে। দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়েছে।

বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণ ॥ শপথ গ্রহণ শেষে নির্বাচিত ৫৯ জেলার জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানরা ধানম-ির ৩২ নম্বরে গিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বঙ্গবন্ধুর রুহের মাগফেরাত কামনা করে তাঁরা মোনাজাতেও অংশ নেন। এ সময় আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম এনামুল হক শামীম, দফতর সম্পাদক ড. আবদুস সোবহান গোলাপসহ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: