১৭ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৬ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

গুলশানে হামলা ॥ মধ্যরাতে রক্তাক্ত অবস্থায় আটক শাওন রেস্তরাঁ কর্মী দাবি মায়ের


স্টাফ রিপোর্টার ॥ গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্তরাঁয় জঙ্গী হামলার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ঘটনাস্থল থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় যে যুবককে আটক করা হয়েছিল তিনি ক্যাফের কর্মী বলে দাবি পরিবারের। তার নাম জাকির হোসেন শাওন (২২)। তিনি ওই রেস্তরাঁর বাবুর্চির সহকারী। দু’দিন খোঁজাখুঁজির পর সোমবার দুপুরে ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাকে শনাক্ত করেন তার মা মাকসুদা বেগম।

মাকসুদা নারায়ণগঞ্জে থাকেন। ছেলের ছবি দেখিয়ে তিনি দাবি করছেন, তার নাম শাওন। তিনি জানান, রবিবার থেকেই ছেলে শাওনের খোঁজে গুলশানে অবস্থান করছেন তিনি। মাকসুদা বেগম জানান, এক বছর আগে শাওন এই রেস্তরাঁয় কাজ নিয়েছে। সেখানে বাবুর্চির সহকারী হিসেবে কাজ করত। তার ছোট ভাই রেস্তরাঁ মালিকের বাসায় কাজ করে। সে শাওনকে ওখানে কাজ পাইয়ে দেয়।

তিনি জানান, শুক্রবার সন্ধ্যায়ও ছেলে শাওন আমাকে ফোন দিয়েছিল। বলেছে, মা আমি বোনাস পেয়েছি। তবে সেলারিটা পাইনি। পেলে রবিবার নারায়ণগঞ্জ বাসায় যাব।

ঢামেক হাসপাতালের রেজিস্ট্রি খাতা অনুযায়ী শাওনকে রবিবার রাত দেড়টার দিকে ক্যাজুয়ালিটি বিভাগে ভর্তি করা হয়। তবে কে তাকে ভর্তি করিয়েছে, সে সংক্রান্ত কোন তথ্য সেখান থেকে জানা সম্ভব হয়নি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির এক পুলিশ জানান, শাওন নামে একজন হাতকড়া পরা অবস্থায় ক্যাজুয়ালটি ওয়ার্ডে ভর্তি আছেন।

সরজমিনে ওয়ার্ডের সামনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে সাদা পোশাকে পুলিশ পাহারা দিচ্ছে। তারা কাউকে শাওনের কাছে যেতে দিচ্ছে না। এমনকি শাওনের মাকেও যেতে দেয়া হয়নি। দূর থেকে সন্তানকে দেখে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন মা মাকসুদা বেগম। বিকেলে মাকসুদা সাংবাদিকদের জানান, অনেক খুঁজেও ছেলের খোঁজ পাচ্ছিলেন না। পুলিশের বিরুদ্ধে শাওনকে নির্যাতনের অভিযোগ করে তিনি জানান, তার ছেলেকে বেদম প্রহার করা হয়েছে। শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। বলেন, ছেলে বেঁচে আছে কি নাই, জানতাম না। সে বাঁচবে কি না সেটা এখনও জানি না। পুলিশ এমন পিটান পিটাইছে হ্যার চেহারা দ্যাহা যায় না। হাত-পা সব ফোলা। আমার নিরাপরাধ পোলার লগে এইডা কী করল? শরীরের কোন জায়গা মাইরের বাকি নাই। শাওনকে কখন হাসপাতালে আনা হয়েছে তা তাকে জানানো হচ্ছে না বলেও অভিযোগ মাকসুদার।

উল্লেখ্য, শুক্রবার রাত পৌনে নয়টার দিকে হলি আর্টিজান রেস্তরাঁয় ছয় বন্দুকধারী হামলা চালিয়ে ১৭ বিদেশীসহ ২০ জিম্মিকে হত্যা করে বলে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে। পর দিন শনিবার সকালে কমান্ডো অভিযান চালিয়ে জিম্মি সঙ্কটের অবসানের পর দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে আইএসপিআর। সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, উদ্ধার অভিযানে ছয় হামলাকারী নিহত হয়েছে। একজন ধরা পড়েছেন। সোমবার দুপুরে রাজারবাগে নিহত দুই পুলিশের স্মরণসভায় আইজি বলেন, এ ঘটনায় যে দুজন সন্দেহভাজন জঙ্গী আটক রয়েছে, তারা চিকিৎসাধীন আছে। সুস্থ হয়ে উঠলে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।

এ সময় তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।

সম্পর্কিত:
পাতা থেকে: