২২ নভেম্বর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট এই মাত্র  
Login   Register        
ADS

‘হাইভোল্টেজ’ সেমিতে ফ্রান্স-জার্মানি


স্পোর্টস রিপোর্টার ॥ ৩৪ বছর আগের সেই দুঃসহ স্মৃতি এখনও তাড়িয়ে বেড়ায় ফ্রান্সকে। ১৯৮২ সালে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে পেনাল্টি শুটআউটে তৎকালীন পশ্চিম জার্মানির কাছে ৫-৪ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছিল ফরাসীরা। নির্ধারিত ও অতিরিক্ত সময়ের খেলা অমীমাংসিত ছিল ৩-৩ গোলে।

ওই ম্যাচে ঘটেছিল অনাকাক্সিক্ষত এক ঘটনা। জার্মানির গোলরক্ষক শুমাখার ফ্রান্সের প্যাট্রিক বাটিস্টনকে ভয়ংকর এক লাথি মেরে তার কয়েকটি দাঁত ফেলে দিয়েছিলেন! মাঠে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়েন বাটিস্টন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে ওই ম্যাচের রেফারি শুমাখারকে লাল কার্ড দূরের কথা, হলুদ কার্ডও দেখাননি! প্রায় তিন যুগ আগের ওই ম্যাচে দুর্দান্ত খেলেও শেষ পর্যন্ত ফাইনালে উঠতে না পারায় শোকে কাতর হয়েছিল ফরাসীরা। জার্মান গোলরক্ষকের লাথি কা- ভুলতে পারেনি দেশটি আজও। চার বছর পর ১৯৮৬ বিশ্বকাপে প্রতিশোধের সুবর্ণ সুযোগ এসেছিল। কিন্তু মেক্সিকো বিশ্বকাপে আবারও শেষ চারে পশ্চিম জার্মানির কাছে ২-০ গোলে হেরে কান্নায় ভাসতে হয়েছিল ফ্রান্সকে। এরপর ২৮ বছর অতিক্রান্ত হয়, কিন্তু বিশ্বকাপে আর দেখা হয়নি ইউরোপের দুই পরাশক্তির। আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচ কিংবা অন্যান্য আসরে নিয়মিতই দেখা হয় দল দুটির। ২০১৩ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি প্রীতি ম্যাচেও জার্মানির জয় ২-১ গোলে। তিন দশকেরও বেশি সময় আগের দগদগে স্মৃতি ও বারবার হারের প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ ২০১৪ বিশ্বকাপে আসে ফ্রান্সের। কিন্তু সেবারও জার্মানির কাছে হারের বেদনায় পুড়তে হয় জিনেদিন জিদানের দেশকে।

দুই বছর বাদে আরও একবার সুবর্ণ সুযোগ এসেছে ফ্রান্সের সামনে প্রতিশোধ নেয়ার। ইউরো চ্যাম্পিয়শিপের সেমিফাইনালে পুরনো শত্রু জার্মানির বিরুদ্ধে খেলবে দিদিয়ের দেশমের দল। বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত ১টায় মার্শেইতে দ্বিতীয় সেমিতে লড়বে ইউরোপের দুই পরাশক্তি। আগের দিন অর্থাৎ বুধবার দিবাগত রাত ১টায় লিওতে আসরের প্রথম সেমিফাইনালে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে পর্তুগাল ও ওয়েলস। এই ম্যাচে ফুটবলবিশ্বের দৃষ্টি থাকবে দুই রিয়াল মাদ্রিদ সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনাল্ডো ও গ্যারেথ বেলের দিকে। দু’জন বিশ্বের সবচেয়ে সেরা ও দামী ক্লাবে সতীর্থ হিসেবে খেললেও এবার একে অপরের বিরুদ্ধে ময়দানী যুদ্ধে নামছেন শ্রেষ্ঠত্বের লড়াইয়ে।

জার্মানদের বিরুদ্ধে বড় বড় আসরে বারবার হারের বেদনায় জ্বললেও এখন পর্যন্ত মুখোমুখি লড়াইয়ে এগিয়ে ফরাসীরা। এ পর্যন্ত ২৭ মুখোমুখিতে ফ্রান্সের ১২ জয়ের বিপরীতে জার্মানির জয় ৯ ম্যাচে। বাকি ছয়টি ম্যাচ অমীমাংসিত থাকে। বিশ্বকাপ ফুটবলে এ পর্যন্ত চারবার করে লড়ছে দল দুটি। এতে জার্মানির জয় দুটিতে, একটিতে ফ্রান্সের। একটি ম্যাচ ড্র হয়। ১৯৯৮ সালে একমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের পর ২০০৬ সালে রানার্সআপ হয় ফ্রান্স। কিন্তু ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে নিদারুণ ব্যর্থতার স্বাক্ষর রাখে দলটি। বাদ পড়ে প্রথম পর্বেই। ২০১৪ বিশ্বকাপে মিশন শেষ হয় শেষ আটেই। এবার ঘরের মাঠে তাই ইউরো চ্যাম্পিয়শিপ জিততে মরিয়া ফরাসীরা।

বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে নিজেদের মাঠে হারিয়ে পুরনো হিসেব চুকাতে বদ্ধপরিকর ফ্রান্সের ফুটবলাররা। বিশেষ করে ব্রাজিল বিশ্বকাপের হারের ক্ষতটা এখনও দগদগে ফরাসীদের। সেবার কোয়ার্টার ফাইনালে জার্মানির কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নিয়েছিল ফ্রান্স। বিখ্যাত মারাকানায় ওই ম্যাচে খেলা দুই দলের বেশির ভাগ খেলোয়াড়ই আছেন এবারের ইউরোতেও। ওই ম্যাচে অলিভিয়ের জিরাউড খেলেছিলেন ম্যাথু ভালবুয়েনার বদলি হিসেবে। গতবারের যন্ত্রণা ভুলতে না পারা জিরাউড বলেন, আমি জানিনা বর্তমান সময়টা দেশের জার্সি গায়ে আমার সেরা পারফর্ম কি না। তবে খুব ভাল করেই অনুধাবন করি ব্রাজিল বিশ্বকাপটি আমার ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ একটি টুর্নামেন্ট ছিল। আমরা সেখানে জার্মানদের কাছে হেরে বিদায় নিয়েছিলাম। তবে গত নবেম্বরে আমাদের মাটিতেই জার্মানদের একটি প্রীতিম্যাচে ২-০ গোলে হারিয়েছি। এবার ভিন্ন একটি গল্প রচনা করতে চাই। আত্মবিশ্বাসী জিরাউড আরও বলেন, আমাদের প্রত্যেকের প্রবল আগ্রহ জার্মানির বিরুদ্ধে সেমিফাইনালের ম্যাচটি নিয়ে। সতীর্থরাও খুব করে চাইছে বিশ্বকাপে যা হয়েছিল সেটি এখানে বদলে দেয়ার। তবে খুব একটা সহজ কাজ হবে না। কারণ তারা বিশ্বসেরা দলগুলোর একটি। জার্মানি শুধু বিশ্বচ্যাম্পিয়নই নয়, বড় আসরে প্রায়ই শেষ চারে খেলে অভ্যস্ত তারা। অবশ্য বর্তমান ফর্ম ধরে রাখতে পারলে জয় ফ্রান্সেরই হবে বলে বিশ্বাস জিরাউডের। বলেন, দল যেভাবে খেলছে তাতে আমরা গর্বিত। আশা করছি আরও একবার সঠিক ফলটাই পাব।

ফ্রান্সের জন্য সুসংবাদ, ইনজুরি জর্জরিত হয়ে জার্মানির বেশ কয়েকজন তারকা ফুটবলার সেমির লড়াই থেকে ছিটকে পড়েছেন। অন্যদিকে স্বাগতিকদের তেমন সমস্যা নেই। জার্মান স্ট্রাইকার মারিও গোমেজ যে ইউরো কাপ থেকে ছিটকে গেছেন, তা নিশ্চিতই হয়ে গেছে। ইনজুরির কারণে শঙ্কায় আছেন দলের আরও দুই তারকা সামি খেদিরা ও অধিনায়ক বাস্টিয়েন শোয়েনস্টেইগার। টানা দুই ম্যাচে হলুদ কার্ড দেখায় এক ম্যাচের নিষেধাজ্ঞা পেয়েছেন ডিফেন্ডার ম্যাটস হ্যামেলসও। ফলে সেমিফাইনালে তাকেও মাঠে পাবে না ইউরোপের পাওয়ার হাউসরা।

রিয়াল মাদ্রিদের জার্সি গায়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়েই লড়াই করেন রোনাল্ডো ও বেল। ২০১৩-১৪ ও ২০১৫-১৬ মৌসুমে রিয়ালের চ্যাম্পিয়ন্স লীগ শিরোপা জয়ের পেছনে অন্যতম ভূমিকা এ দুই ফুটবলারের। তবে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তারা হাজির হচ্ছেন একে অপরের প্রতিপক্ষ হিসেবে। ইউরো কাপের সেমিফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে রোনাল্ডোর পর্তুগাল ও বেলের ওয়েলস। জাতীয় দলের জার্সি গায়ে এবারই প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হতে যাচ্ছেন এ সময়ের সবচেয়ে দামি দুই ফুটবলার। এই লড়াইয়ে সি আর সেভেনকে নিয়ে মোটেও দুশ্চিন্তা করছেন না বেল। ম্যাচটি প্রসঙ্গে ওয়েলস তারকা বলেন, এটা মূলত পর্তুগাল বনাম ওয়েলস ম্যাচ। এর বাইরে আর কিছুই নয়। তিনি আরও বলেন, আমরা যোগ্য দল হিসেবেই সেমিফাইনালে উঠে এসেছি। আসর যত এগোচ্ছে ততই শক্তিশালী হয়ে উঠছি। আমরা ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে পরের ম্যাচগুলোতে প্রয়োগ করচি। সেমিফাইনালে আমরা নিজেদের সবটুকু নিংড়ে দিব।