মেঘলা, তাপমাত্রা ৩১.১ °C
 
২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৭, ৯ আশ্বিন ১৪২৪, রবিবার, ঢাকা, বাংলাদেশ
সর্বশেষ

৬০ লাখ ইহুদী নিধনের সাক্ষী এলি উইসেল

প্রকাশিত : ৫ জুলাই ২০১৬

কুখ্যাত অশউইৎজ বন্দীশিবির থেকে বেঁচে যাওয়া নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী এলি উইসেল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ৬০ লাখ ইহুদী নিধনের সরব সাক্ষী ছিলেন তিনি। শুধু সাক্ষী নয়, তার স্মৃতি দিয়ে গোটা বিশ্বের মননে তিনি গেঁথে দিয়েছিলেন নাৎসিদের হাতে ইহুদী নিধনের সেই পৈশাচিক অধ্যায়। যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে শনিবার নিজ বাড়িতে ৮৭ বছর বয়সে মারা যান তিনি।

উইসেলের জন্ম রোমানিয়ায় ১৯২৮ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর। হলোকস্ট চলাকালে তিনি ছিলেন কিশোর বয়সের। ১৯৪৪ সালে উইসেলের পরিবারকে পাঠানো হয় জার্মানির অধিকৃত পোল্যান্ডের অশউইৎজ বন্দী শিবিরে । তার সঙ্গে ছিলেন তার বাবা-মা এবং তিন বোন। উইসেলের মা ও ছোট বোনকে নাৎসি বাহিনী এ বন্দীশিবিরের গ্যাস চেম্বারে ঢুকিয়ে হত্যা করে। উইসেল আর তার বাবাকে অশউইৎজ থেকে জার্মানির বুখেনওয়াল্ডে পাঠানো হয়েছিল। পরে তার বাবার মৃত্যু হয় রোগে ও অনাহারে বুখেনওয়াল্ড বন্দীশিবিরে। সেখান থেকেই তিন মাস পরে উইসেলকে মার্কিন সেনারা মুক্ত করেছিল। ২০০৯ সালে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সঙ্গে উইসেল একবার ফিরে গিয়েছিলেন সেই ক্যাম্পে। অশউইৎজ ও বুখেনওয়াল্ড কনসেনট্রেশন ক্যাম্পে কিশোর বয়সে যে ভয়ঙ্কর দিনগুলো কাটিয়েছেন, তাই উঠে আসে তার ‘নাইট’ উপন্যাসে। ইহুদী নিধনকে বর্ণনা করতে হলোকস্ট শব্দটি যারা প্রথম ব্যবহার করতে শুরু করেন, উইসেল তাদের অন্যতম। ১৯৫৫ সালে এই বই লেখার পাঁচ বছরের মাথায় তার ইংরেজি অনুবাদ পড়ে উইসেলকে চিনেছিল সারা পৃথিবী। হিটলার জমানার বর্বরতার শিকার হওয়ার পরেও বেঁচে যাওয়ার যন্ত্রণা কুরে কুরে খেত তাকে। কোটি কোটি মানুষের বেঁচে থাকতে না পারার দায়ভার যেন চেপে বসেছিল তার উপরেই। ঈশ্বর কীভাবে এই গণহত্যা হতে দিলেন, বিদ্ধ হয়েছিলেন সে ভাবনাতেও। উইসেলের লেখায়, ‘সে রাতটা কোনদিন ভুলতে পারব না। ক্যাম্পের প্রথম রাত। আমার গোটা জীবনটাকেই যা একটা অভিশপ্ত দীর্ঘ রাতে পরিণত করেছিল। সেই ধোঁয়ার গন্ধ, সেই শিশুদের মুখ। একটা শান্ত নীল আকাশের নিচে ওদের শরীরগুলো থেকে পাকিয়ে উঠছে ঘন কালো ধোঁয়া। সেই আগুনের শিখা যা চিরকালের মতো আমার বিশ্বাসকে গ্রাস করেছিল। রাতের সেই নিস্তব্ধতা আমার বাঁচার ইচ্ছে কেড়ে নিয়েছিল। আমার ঈশ্বর, আমার আত্মাকে খুন করেছিল সেই মুহূর্তগুলো। আমার স্বপ্নগুলো মিশিয়ে দিয়েছিল ধুলোয়। যদি ঈশ্বরের মতো দীর্ঘ জীবন বেঁচে থাকার অভিশাপ নিয়ে চলতে হয়, তবুও কখনও ভুলব না সে সব।’ তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, এত কিছুর পরেও কেন উন্মাদ হয়ে যাননি? এলির জবাব ছিল, আজ পর্যন্ত আমার কাছেও সেটা একটা রহস্য। ১৯৮১ সালে নিউইয়র্ক টাইমসের সঙ্গে এক সাক্ষাতকারে তিনি বলেছিলেন, আমার বেঁচে যাওয়ার নিশ্চয়ই কোন কারণ আছে। উপন্যাস, প্রবন্ধ, প্রতিবেদন ও নাটক লিখেছেন অনেক। হলোকস্ট নিয়ে তার ৫০টিরও বেশি বই রয়েছে। ১৯৬৩ সালে তিনি মার্কিন নাগরিকত্ব পান। তার অনেক পরে ১৯৮৫ সালে হোয়াইট হাউসে গিয়েছিলেন কংগ্রেসশনাল গোল্ড মেডেল নিতে। তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রিগানের তখন পশ্চিম জার্মানির বিটবুর্গে একটি সেনা সৌধে সফরে যাওয়ার কথা ছিল। হিটলারের বাহিনী ‘ওয়াফেন এসএস’-এর সদস্যদের দেহ সমাহিত ছিল সেখানে। রিগনের তীব্র সমালোচনা করে উইসেল বলেছিলেন, ওই জায়গাটা আপনার নয় প্রেসিডেন্ট। এসএস যাদের হত্যা করেছিল, তাদের কাছে যাওয়া উচিত আপনার। এর পরের বছরই ১৯৮৬ সালে উইসেল নোবেল শান্তি পুরস্কার পান। Ñনিউইয়র্ক টাইমস

প্রকাশিত : ৫ জুলাই ২০১৬

০৫/০৭/২০১৬ তারিখের খবরের জন্য এখানে ক্লিক করুন


শীর্ষ সংবাদ: