১৯ অক্টোবর ২০১৭,   ঢাকা, বাংলাদেশ   শেষ আপডেট ৩ ঘন্টা পূর্বে  
Login   Register        
ADS

গরুর দুধে এ্যালার্জি নিরূপণ


জানা ছিল, গরুর দুধে এ্যালার্জি হয় অনেকের। বিশেষ করে শিশুরা যে এর জন্য কতটা কষ্ট পায়, তাও অজানা ছিল না। এ-ও জানা ছিল, কেন এমন হয়। কিন্তু রোগটা ধরার নিশ্চিত উপায়টাই এতদিন ছিল অধরা। তবে অচিরেই যে সেই উপায়টি ডায়গনস্টিক শিল্পে আত্মপ্রকাশ করতে পারে, তার আশা জাগিয়েছে একটি গবেষণা। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বেলগাছিয়ার রাজ্য প্রাণী ও মৎস্যবিজ্ঞান বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি গবেষণায় এই আপাত-অসম্ভব কাজটির আন্দাজ মিলেছে। এই প্রথম গরুর দুধের মধ্যে থাকা এ্যালার্জির উপাদানটি ধরে ফেলার রাস্তা বাতলেছে ওই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ সদস্যের এক গবেষক দল। গত সপ্তাহে ইন্ডিয়ান জার্নাল অব এ্যানিমেল সায়েন্সেস পত্রিকায় প্রকাশিত সেই গবেষণাপত্রে বিস্তারিত উল্লেখ করা হয়েছে, কীভাবে তারা তৈরি করেছেন একটি কিট যা বলে দেবে, গরুর দুধ থেকে কোন শিশুর এ্যালার্জি হচ্ছে কি না।

গবেষণাটি প্রকাশ্যে আসতেই এই কিটের উজ্জ্বল ভবিষ্যত দেখতে পাচ্ছেন চিকিৎসকরা। কেননা, এ যাবৎ এমন একটি উপায়ের অভাবেই অসহায় বোধ করতেন শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা। ভুল চিকিৎসাও হয়ে যায় কখনও-কখনও। যেমন আহেলি সরকার। বছর দুয়েক বয়সেই গায়ে র‌্যাশ বেরোতে শুরু করেছিল তার। এ্যান্টি-অ্যালার্জিক খেলে সারে, ফের হয়। কিছুতেই ধরা পড়েনি, কী থেকে এই ঝঞ্ঝাট। অনেক পরে ডাক্তার সন্দেহ করেছিলেন, গরুর দুধ থেকেই সম্ভবত হয়। কিন্তু তিনি নিশ্চিত ছিলেন না। সন্দেহের বশেই পরে অবশ্য আহেলিকে দুধ খাওয়ানো বন্ধ করতে সেরে গিয়েছিল র‌্যাশ বেরোনো। সায়নদীপ নস্করের আবার পেটের যন্ত্রণার আর মলে রক্ত বেরোনোর সমস্যা। বছর দেড়েক বয়সের পর থেকে অন্তত বার চারেক তাকে শুধু এ জন্যই হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। কড়া ডোজের এ্যান্টিবায়োটিক ড্রিপ চলার পর সুস্থ হয়ে সে বাড়ি ফেরে। কিন্তু ক’দিন পর আবার পুরনো সমস্যা। যতদিনে শেষ র্যন্ত বোঝা গেল, সমস্যাটা সংক্রমণের নয়, সম্ভবত দুধে এ্যালার্জির, ততদিনে ছোট্ট সায়নদীপ কাহিল।

শিশুরোগ বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এমন শিশুর সংখ্যা নেহাত কম নয়। মায়ের দুধ ছাড়ার পর ঘরোয়া আর পাঁচটা খাবারের সঙ্গে গরুর দুধ খেতে শুরু করার পর বহু শিশুরই এমন সমস্যা দেখা যায়। ভারতীয়দের মধ্যে অন্তত ২ দশমিত ৫ শতাংশ শিশুই এমন সমস্যার শিকার। গবেষক মধ্যপ্রদেশের মো কলেজ অব ভেটেরিনারি সায়েন্স এ্যান্ড এ্যানিমেল হাজবেন্ড্রির এ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর রঞ্জিত আইচ বলেন, বেলগাছিয়ায় পিএইচডি স্কলার হিসেবে থাকাকালীনই গবেষণাটায় হাত দিই। আসলে গরুর দুধের মধ্যে থাকা বিটা -ল্যাকটোগ্লোবিউলিন নামের একটি বিশেষ প্রোটিনই যে মূলত এই এ্যালার্জির জন্য দায়ী, তা অজানা ছিল না। কিন্তু কোন শিশুর এতে এ্যালার্জি রয়েছে কি না, সেটা জানার উপায় ছিল না। আমরা যে এলাইজা কিটটি তৈরি করেছি, তাতে রোগীর একফোঁটা রক্তেই জানা যাবে, রোগীর এতে এ্যালার্জি আছে কি না। গবেষকদলের আর এক সদস্য, বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি বিভাগের এ্যাসোসিয়েট প্রফেসর শুভাশিষ বটব্যাল জানান, দুধে থাকা অন্তত ২০ রকমের এ্যালার্জেনের মধ্যে এই বিটা -ল্যাকটোগ্লোবিউলিন প্রোটিনটিই যেহেতু ৮২% ক্ষেত্রে দুধে এ্যালার্জির জন্য দায়ী, তাই এই উপাদানটিকে পাখির চোখ করেই এগিয়েছিলেন তাঁরা। আগামী দিনে, খাদ্যগুণ বজায় রেখে দুধ থেকে এই বিটা-ল্যাকটোগ্লোবিউলিনকে কীভাবে সরিয়ে ফেলা যায়, সেই গবেষণায় মন দেবেন তারা।

-আমাদের এই সময়

সর্বাধিক পঠিত:
পাতা থেকে: